সর্বশেষ সংবাদ :

বাংলাদেশে নাশকতার ছক হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে বসেই!

Share Button
93615_1
রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ০৮ অক্টোবর ২০১৪।
বর্তমান সরকার এবং বাংলাদেশে প্রগতিশীল শক্তিকে ধংস করতে নাশকতার ছক হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। এমন কি অতিতেও বিভিন্ন নাশকতা ঘটিয়ে আনায়াসে ভারতের এই বাংলা ভাষাবাসী রাজ্যে আততায়ীরা ভিড়ে মিশে যাচ্ছে সহজে। কাউকে বাবা বলে কিংবা বিয়ে করে ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে খুব সহজেই এমন কর্মকাণ্ড চলছে দীর্ঘ দিন ধরে। ২ অক্টোবর রাজ্যটির রাজধানী কলকাতা থেকে আনুমানিক ২০০ কিলোমিটার দূরে খনি অঞ্চল বলে পরিচিত বধর্মানের প্রত্যন্ত গ্রাম খাগড়াগড়ে এই ধরণের একটি নাশকতার জন্য বিস্ফোরক তৈরির সময় দুজন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিকও ছিলেন।
ভারতীয় পুলিশ দাবি করছে, বিস্ফোরণে নিহত এক ব্যাক্তি বাংলাদেশি নাগরিক এবং সে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাত উল মুজাহিদিন বা জেএমবির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। নিহত ওই ব্যক্তির নাম শাকিল আহমেদ ওরফে শাকি গাজি। তার সঙ্গে নিহত আরেক ব্যক্তি ভারতীয় তার নাম সুবাহান মণ্ডল। শুধু তাই নয়, বর্ধমানে এই ঘটনার পরই গ্রেপ্তার আরো দুজন নারীও বাংলাদেশে বিভিন্ন নাশকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণের বোমা সরবরাহ এবং তৈরি সবটাই করেছে ধৃত দুই নারী জেএমবি সদস্য। আর ভারতীয় অংশে ইন্ডিয়ান মোজাহিদিন এবং সিমি সদস্য হয়েও এই ধৃতরা কাজ করতো।
ঘটনার পরই বিস্ফোরেণর তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। তদন্তে নেমেই গ্রেপ্তার করেছে নিহত দুজনের স্ত্রী রাজিয়া বিবি ওরফে রুমি এবং আলিয়া বিবিকে। তাদের জেরা করে গ্রেপ্তার করা হয় হাশেম মোল্লা নামের আরো এক যুবককে। এই তিনজনকেই সিআইডি জেরা করছে। প্রাথমিক জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন ২০১২ সালে চাপাইনবাবগঞ্জের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার নিয়েছিল তারাই। ২ অক্টোবরর একটি হাতে তৈরি করা গ্রেনেডের পিন ভুল করে খুলতে গিয়েই বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘটনাস্থলে দুজনের মৃত্যু হয়। সেদিন বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হন বাড়িটির বাড়িওয়ালা আব্দুল হাকিম। পুলিশি পাহাড়ায় তার চিকিৎসা চলছে বর্ধমানে।
বর্ধমানে বসেই বাংলাদেশে নাশকতার ছক বেশ কিছু দিন ধরে চলছিল বলে মনে করছেন গোয়েন্দাদের একটি অংশ। তাদের অনুমান, বর্ধমান এমন একটি জেলা যেখানে সাধারণ ডিনামাইট প্রায়ই বিস্ফোরণ ঘটে। কয়লার খাদান ভাঙতে এই ডিনামাইটের শব্দ শোনা স্বভাবিক বিষয়। ফলে এখানে বসে এই ধরনের বিস্ফোরক তৈরি করলে কখনো তা বিস্ফোরিত হলেও মানুষের মধ্যে কোনও সন্দেহ তৈরি হবে না।
কিন্তু মৃত শাকিল আহমেদ বা শাকিল গাজির ভারতীয় হয়ে উঠার পেছনে নানা  তথ্য উঠে আসছে। কলকাতার পত্রপত্রিকা গুলো গোয়েন্দা সূত্রের বরাদ দিয়ে জানাচ্ছে, বাংলাদেশে নানা নাশকতা ঘটিয়ে বেশ কয়েক বছর আগে নদীয়ার সীমান্ত পেরিয়ে শাকিল ভারতে প্রবেশ করে। রিজিয়ার বা রুমির সঙ্গে জঙ্গি কার্যকলাপে পরিচয় ছিল আগেই। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে তার বাবা আজিজুল গাজির সঙ্গে ঘনিষ্টতা তৈরি করে। মাদুর বিক্রেতা হিসাবে নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে আজিজুরের মেয়েকে বিয়ে করে স্থানীয় ভাবে সে সেখানকার জামাই হয়ে উঠেন। মানুষের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করেন। আস্তে আস্তে রেশন কার্ড, ভোটারকার্ড করে কাগজেপত্রে ভারতীয় হয়ে যান। নদীয়া সীমান্ত এলাকা শশুরবাড়িতে থাকলেও বর্ধমানে ভাড়া বাড়ি নিয়ে থাকতে শুরু করে তিন বছর ধরে।
বর্ধমানের বিস্ফোরণে জঙ্গি কার্যকপাপের তদন্ত করতে মঙ্গলবার মহাকরণে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাদ্যায়সহ স্বরাষ্ট্র দফতরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। সেখানে গঠিত হয় বিশেষ টাস্কফোর্স। রাজ্য পুলিশের ডিজি জে এম পি রেড্ডি সাংবাদিকদের বলেছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে পুর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে। সমস্ত বিষয় গুলো খতিয়ে দেখা হচেছ। বর্ধমানের বিস্ফোরণের সঙ্গে জঙ্গিযোগ কতা রয়েছে সে বিষয়েও টাক্সফোর্স খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেবে।
এদিকে কলকাতার সিআইডি ভবন সূত্রের খবর, ধৃত রুমি বিবি এবং আমিনা বিবি সম্পর্কে বাংলাদেশের সিআইডি এবং র‌্যাবের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন কলকাতার গোয়েন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাদ দিয়ে কলকাতার একটি প্রভাবশালী দৈনিক জানিয়েছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা বহু আগেই এই ধরণের তথ্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়েছিল। কিন্তু তাতে রাজ্য সরকার কিংবা রাজ্য সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা গুলো এই ’ইনপুট’ গুরুত্ব দেয়নি।
এদিকে বর্ধমান কান্ডের তদন্ত নিয়ে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যেও ঠান্ডা লড়াই বেধেছে। কেন্দ্রীয় সরকারে গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ বা ন্যাশনাল ইন্টিলিজেন্স এজেন্সি এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু এই তদন্তে রাজ্য সরকারের সিআইডি এককভাবে করতে পারবে বলে এনআইএকে না আসার অনুরোধ জানিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত এনআইএ গোয়েন্দারা বর্ধমানের ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে তদন্ত শুরু করে দিয়েছেন।
কেন্দ্রোর শাসক বিজেপি রাজ্যসভাপতি রাহুল সিনহা সরাসরি এই ঘটনাকে রাজ্য প্রশাসনের চরমব্যর্থতা বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, তৃণমূল নেতারা শুধুমাত্র নিজেদের ব্যাঙ্ক ভরতে ব্যস্ত রাজ্যে এই ধরণের একটি জঙ্গি নেটওয়ার্ক তৈরি রয়েছে সেটি তারা জানতে ব্যর্থ। তাই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা দিয়েই এর তদন্ত করার প্রয়োজন বলে দাবি তোলেন রাহুল সিনহা।
তবে তৃণমূলের মুখপাত্র রাজ্যসভার সাংসদ কুইজ মাস্টার ডেরেক ও ব্রায়ান বলছেন,  রাজ্যের গোয়েন্দাদের প্রতি আস্থা হারানো মানেই যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে অবজ্ঞা করা। যা সংবিধান বহির্ভূত। কোনওভাবেই এনাআইএ এর তদন্ত করতে পারে না।
বর্ধমানের পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু জেহাদি বই এবং মোবাইল সিমকার্ড পাওয়া গিয়েছে।
বর্ধমান পুলিশ সূত্রে আরো জানা গিয়েছে, সিমকার্ড গুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট এলাকার বহু ফোন নম্বর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ হতো শাকিলের সঙ্গে। এমন কি বেশ কিছু জেহাদি পত্রিকা গুলো ঢাকার কোন প্রেস থেকে ছাপা হতো নিয়মিত। মোবাইল থেকে পাওয়া যাওয়া বিভিন্ন জেহাদি স্লোগান এবং টুইনটাওয়ারের বিস্ফোরণের ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs