সর্বশেষ সংবাদ :

জনগণের নয়, এ সরকার অবৈধ—সুলতান মনসুর

Share Button

11_34783

রিপোর্টারঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম,ঢাকা
০৪ অক্টোবর ২০১৪

আর নীরবতা নয়। এবার রাজনীতির মাঠে সরব হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। মুজিবকোট গায়ে জড়িয়ে, মুখে জয় বাংলা স্লোগান নিয়েই দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠায় চষে বেড়াবেন রাজনীতির মাঠ। মুজিব আদর্শকে লালন করেই ‘আওয়ামী লীগার সুলতান মনসুর’ হিসেবেই তিনি থাকতে চান রাজনীতিতে। রাজনীতিতে যারা তাকে নিষ্ক্রিয় রেখে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন রাজনীতির মাধ্যমেই তাদের জবাব দিতে চান তিনি। গতকাল বিকালে সিলেটের একটি হোটেলের হলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সুলতান মনসুর বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছিলেন। এরপর ১৯৬৮ সাল থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অবিচল থেকে রাজনীতি করে যাচ্ছেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর অনেকেই মনে করেছিলেন আওয়ামী লীগের রাজনীতি শেষ। অনেক নেতাই ভিন্ন পথ ধরেছিলেন। কিন্তু তিনি আশাবাদী ছিলেন বলেই কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে ডাকসুর ভিপি পদে তার বিজয় ছিল ’৭৫-পরবর্তী আওয়ামী লীগের প্রথম বিজয়। আর দ্বিতীয় বিজয় ছিল ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মো. হানিফের বিজয়।সরকার ও আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ দল ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দাবি করলেও তারা কখনো মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানী বা প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের জন্মবার্ষিকী পালন করেনি। বর্তমান সরকারকে অবৈধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যে নির্বাচন হয়েছে তা মানুষ আশা করেনি। মানুষের ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আইনগত বৈধতা থাকলেও এটি একটি সার্কাস মার্কা নির্বাচন ছিল। দেশের বেশির ভাগ মানুষ ভোট দেওয়ারই সুযোগ পাননি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বসে নেতারাই ঠিক করেছেন কোন আসনে কে কত ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার নয়, এটা অনৈতিক ও অবৈধ সরকার। সুলতান মনসুর বলেন, তার সামনে দুটি পথ, একটি রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া, অন্যটি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা। তিনি দ্বিতীয়টিই বেছে নিয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে সিলেট বিভাগে মৌলভীবাজার-২ আসনের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা একক প্রার্থী হিসেবে তার নাম প্রস্তাব করেছিল। বাকি প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থী ছিলেন। রহস্যজনক কারণে তাকে মনোনয়নবঞ্চিত করা হয়। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সব পদ থেকে তাকে বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কারাগারে বন্দী রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাকে শামিল হয়েছেন। ৩ সেপ্টেম্বর গণফোরাম, জাসদ (রব), কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদ (খালেকুজ্জামান) ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে ঢাকায় যে কনভেনশন হয়েছে সেখানে আওয়ামী লীগের সুলতান মনসুর হিসেবেই অংশ নিয়েছিলেন। আপাতত তিনি ওই ঐক্যের সঙ্গেই রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs