সর্বশেষ সংবাদ :

সৌদি আরবে আজ হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

Share Button
image_136097.hazz
রিপোর্টারঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম,ঢাকা
০২ অক্টোবর ২০১৪
সৌদি আরবে আজ বৃহস্পতিবার ৮ জিলহজ হাজীদের মিনায় অবস্থানের দিন। এরই মধ্যদিয়ে হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গতরাত থেকেই হাজীদের মিনায় নিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে। সারাবিশ্ব থেকে সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীরা ইহরাম বাঁধা অবস্থায় ৪/৫ দিনের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে উচ্চস্বরে তালবিয়া পড়তে পড়তে আজ পবিত্র মিনা’য় গিয়ে জড়ো হতে শুরু করেছে। মূলত ৮ জিলহজ ফজরের নামাজের পর থেকেই ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পাঠ করতে করতে হাজীদের মিনার তাঁবুতে গিয়ে অবস্থান করতে হয়।
মিনায় অবস্থান করেই হাজীরা হজের সব আনুষ্ঠানিক কার্য সম্পন্ন করবেন। সেখান থেকেই ৯ জিলহজ সকালে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন। দিন শেষে আরাফাতের ময়দান থেকে ফেরার পথে মুজদালিফায় রাতযাপন করে ১০ জিলহজ সকালে সবাই আবার মিনার তাঁবুতে ফিরে যাবেন। সেখান থেকে গিয়েই জামারাহ তথা শয়তানকে লক্ষ্য করে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করবেন। কোরবানি করবেন ও তাওয়াফে জিয়ারাহ করে আবার মিনার তাঁবুতে ফিরে আসবেন। পরের দুই দিনও একইভাবে মিনার তাঁবু থেকে গিয়েই জামারাহতে পাথর নিক্ষেপ করবেন। ১২ কিংবা ১৩ জিলহজ পাথর নিক্ষেপ সমাপ্ত করে হাজীরা মিনার তাঁবু ত্যাগ করে হজের আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘটাবেন। এরপর মক্কা ত্যাগ করার আগে বিদায়ী তওয়াফ করে যে যার দেশে বা অবস্থানে ফিরে যাবেন।
শুক্রবার ৯ জিলহজ মিনা থেকেই হাজীরা আরাফাতের ময়দানে গিয়ে অবস্থান নেবেন। আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের অন্যতম ফরজ। আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিনকেই হজের দিন বলা হয়। শুক্রবার হজের দিন পড়লে তাকে ‘আকবরি হজ’ বা ‘বড় হজ’ বলা হয়।
৯ জিলহজ ফজরের নামাজ পড়ে হাজীদের আরাফাতের উদ্দেশে রওনা দেয়ার নিয়ম। মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানের দূরত্ব ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার। অনেকে হেঁটে আরাফাতের দিকে রওনা হন। দুপুরের আগেই হাজীরা আরাফাতের ময়দানে গিয়ে অবস্থান নেবেন। অত্যধিক ভিড় এড়াতে আজ বৃহস্পতিবার রাত থেকে হাজীদের আরাফাত ময়দানে নেয়া শুরু হবে। আরাফাতের ময়দানে মসজিদে নামিরাহ থেকে গ্র্যান্ড মুফতি জোহরের ওয়াক্ত শুরু হলেই খুতবা দেবেন। সেখানে জোহর ও আসরের নামাজের পর পর জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত ওই ময়দানে অবস্থান করে হাজীরা আল¬াহর দরবারে মুনাজাত করে কান্নাকাটি করে কাটাবেন। সূর্যাস্তের সাথে সাথেই ময়দান ত্যাগ শুরু করবেন। মিনায় ফেরার পথে মাঝে মুজদালিফা নামক স্থানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়ে রাত যাপন করবেন। ১০ জিলহজ সকালে ওই ময়দান ত্যাগ করে তারা মিনায় ফিরে যাবেন।
হজের নিয়মানুযায়ী হাজীরা বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিবেন এবং মাথার চুল ছেঁটে বা ন্যাড়া করে গোসল করবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরো কাপড় বদল করবেন। পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে তাঁরা কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন এবং কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়া সাই করবেন। সেখান থেকে তাঁরা আবার মিনায় এসে আরও দুই দিন অবস্থান করে হজের বাকি কাজ শেষ করবেন।
এদিকে, হজযাত্রীদের যাতে কোন কষ্ট না হয় সে জন্য সৌদি আরব সরকার নিয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। অত্যধিক গরম সহনীয় করতে বাষ্পাকারে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা থাকছে। মক্কা নগরীতে নিয়োজিত করা হয়েছে নারীসহ ১৫ হাজার কর্মী। তারা হজের আগে ও পরে পবিত্র মসজিদে হজযাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবেন।
বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে এ বছর নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে মিনা, আরাফাত ও মুজদালেফাসহ মক্কা এবং তার আশপাশের এলাকা। আকাশে সার্বক্ষণিকভাবে টহল দিচ্ছে নিরাপত্তা হেলিকপ্টার। বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিরাপত্তা সেনা সদস্যসহ হাজীদের নিরাপত্তা বিধানে নিয়োজিত রয়েছেন ১ লাখ নিরাপত্তা কর্মী। ৬ হাজার গাড়িতে টহল ডিউটি করছে নিরাপত্তা বাহিনীর ২২ হাজার সদস্য।
এছাড়াও ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়াসহ যে কোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিয়োজিত রাখা হয়েছে হাজার হাজার কর্মী। কোনো ধরনের দাঙা ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হাজিদের পথ দেখানোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে ১২ হাজার নারী-পুরুষ কর্মী। দায়িত্ব পালন করছেন চিকিৎসকসহ ২০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী।

– See more at: http://www.kalerkantho.com/online/world/2014/10/02/136097#sthash.wPgfaU5D.dpuf

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs