সর্বশেষ সংবাদ :

শিক্ষক/ শিক্ষিকা নিয়োগে আলাদা কমিশন হবে

Share Button
image_137101.hasina pm
রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০১৪।
শিক্ষক নিয়োগে আলাদা কমিশন গঠন করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ তাগিদ দেন। নতুন পে-কমিশন হলে শিক্ষকদের বেতন বৈষম্যের সমাধান হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গতকাল রবিবার সকাল ১১টার দিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে আসেন প্রধানমন্ত্রী। আনুষ্ঠানিক বৈঠকের শুরুতেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৈষম্যের কথা তুলে ধরেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের বিপুলসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) হয়ে আসতে আসতে অনেক সময় লাগে। এ জন্য আমার একটা প্রস্তাব আছে। এ বিষয়ে কাজও হচ্ছে। আমি মনে করি, শিক্ষক নিয়োগে একটা আলাদা কমিশন হওয়া উচিত।’ তিনি বলেন, ‘পিএসসিতে আলাদা একটা উইং থাকতে পারে। সেখানে বিশাল ভবন নির্মাণ করে দিয়েছি। জায়গারও অভাব নেই। সেখানে আলাদা একটা ব্যবস্থা থাকবে, যাদের কাজই হবে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি দেখা। এ ছাড়া এ সমস্যা নিরসন সম্ভব নয়।’ বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এটা অত্যন্ত প্রয়োজন। এখন প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্ব অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাটাই শিক্ষার মূল ভিত্তি। আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। আপনাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা সব কিছুর মূল ভিত্তি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। শিক্ষাই হচ্ছে মূল চাবি, যেটা দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করবে।’
স্কুলগুলোতে মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী স্কুলে যায়। অন্য কর্মসূচির পাশাপাশি মিড-ডে মিল চালু করায় আমরা সফলতা পেয়েছি। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে সবারই একটা দায়দায়িত্ব থাকবে। এখানে যাঁরা অনুদান দেবেন, তাঁদের কর দেওয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।’
খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার ওপর গুরুত্ব দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু লেখাপড়া করলে হবে না, খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এর মধ্য দিয়ে ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে হবে।
ছাত্রলীগ কর্মীদের নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ায় কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে ছাত্রলীগের কর্মীদের একটা নির্দেশ ছিল, তারা যখন পরীক্ষা দেয়, ফাইনাল পরীক্ষার পর তাদের হাতে যে সময় থাকে, ওই সময়টাতে তারা যেন মানুষকে সাক্ষর জ্ঞান দেয়। যে বেশি করতে পারবে, সে কমিটিতে ভালো পজিশন পাবে। এটা আবার আমাদের ছেলেদের নির্দেশনা দিলে তারা ভালোভাবে করতে পারবে। আমাদের ছেলেরা উদ্যোগী আছে।’
মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, সচিব কাজী আখতার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs