সর্বশেষ সংবাদ :

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য বাড়ানোর দাবি

Share Button
60_years__banglanews24_220169169
রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ২০১৪।
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এবং সকল কার্যক্রম ডিজিটাল উপায়ে সম্পন্ন করতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এ দাবি জানান।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের হীরক জয়ন্তী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও জাতীয় প্রেস ক্লাব’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
বক্তারা বলেন, অনেকদিন যাবত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ দেওয়া হয় না। এখন অনেক তরুণ ছেলেমেয়েরা এ পেশায় আসছে। এমনকি এ বিষয়ের উপর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ চালু হয়েছে।
আগে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিষয়ে না পড়ে এ পেশায় এসেছেন। কিন্তু এখন অনেকে এ বিষয়ে ডিগ্রি নিয়ে এ পেশায় আসছেন। তাই বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এসব তরুণ সাংবাদিকদেরও প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ দিতে হবে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র একাংশের মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া বলেন, আজকের এ সেমিনারে যারা উপস্থিত আছেন তাদের অধিকাংশই ক্লাবের সদস্য নয়। ফলে আমরা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল হতে পারছি না।  আমরা আধুনিকতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আর এনালগ থেকে যাচ্ছি। সুতরাং প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা আগে যখন প্রেস ক্লাবে আসতাম তখন সিনিয়র সাংবাদিক ও সাব এডিটররা আমাদের কাজ নিয়ে সমালোচনা ও প্রশংসা করতেন। ফলে আমরা নিজেদের তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন করে নিতাম। কিন্তু এখন সদস্যপদ না দেওয়ায় কেউ আসে না। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তরুণরা প্রেস ক্লাবে এসে সিনিয়রদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে পারে না।
আব্দুল জলিল বলেন, এখন সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে, সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে না। তারা শুধু বিজ্ঞাপণ ও নিজেদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করে। ফলে সাংবাদিকরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আর সরকারও তাদের সুবিধামতো সাংবাদিকদের ব্যবহার করছে।
সিনিয়র সাংবাদিক এ এস এম হাবিবুল্লাহ বলেন, সাংবাদিক বা সম্পাদক হলেই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বড় বিষয়টি হলো আমরা রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত। আগেও রাজনীতি ছিল তবে বিভেদ ছিল না। আর রাজনীতির কারণ যদি প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ আটকে রাখা হয়, তবে তা কারও জন্য সুখকর নয়। দিল্লি ও পাকিস্তানের প্রেস ক্লাবের চেয়ে আমাদের প্রেস ক্লাব অনেক উন্নত। তাদের চেয়ে আমাদের কার্যক্রম অনেক বেশি।
তিনি আরও বলেন, আগে সাংবাদিকদের মাছির সঙ্গে তুলনা করা হত। মাছি যেমন মিষ্টিতে বসে, আবার নোংরা জায়গায়ও বসে। সাংবাদিকরা সকল পরিস্থিতিতে সকল জায়গায় কাজ করতে অভ্যস্ত। তাদের যাতায়াত সর্বত্র।
প্রেস ক্লাবের সদস্য আব্দুস শহীদ বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে আমরা একেক জন একেক সুবিধা নিয়ে থাকি। বিভিন্ন আন্দোলন, সাংবাদিকদের সম্মান রক্ষায় আমরা আগে কথা বলি। সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভূমিকা অনন্য।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতার প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হচ্ছে। ভবিষ্যতকে বিবেচনায় নিয়ে সাংবাদিকতা বিকাশে আমাদের এখন থেকেই বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ভাল সাংবাদিকতায় আমাদের সবসময় উৎসাহিত করতে হবে। প্রেস ক্লাব এ ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখতে পারে।

প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসানুজ্জামান খান বলেন, স্বৈরাচারী সমুদ্রে প্রেস ক্লাব একটি গণতান্ত্রিক এলাকা। কারণ দেশে যখন অরাজকতা চলে তখন মানুষ শুধু প্রেস ক্লাবে এসে দাঁড়াতে পারে। এখানে তাদের মনের স্বাধীনতা প্রকাশ করতে পারে। ৯০ দশকে যতগুলো আন্দোলন হয়েছিল তার অধিকাংশই এখান থেকে শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এখন সাংবাদিক না হয়ে রাজনৈতিককর্মীতে পরিণত হয়েছি। সরকারের কাছ থেকে কিছু পাওয়া বা কিছু নেওয়ার জন্য আমরা রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি করি। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে সাংবাদিকরা এক হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক বিষবাষ্পে পরে তা টিকতে পারেনি।
সাংবাদিক ইউনিয়নকে ভেঙে সাংবাদিকরা অনেক দুর্বল হয়ে গেছে। তবে জাতীয় প্রেস ক্লাব থাকায় আমরা এখনও অনেক ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ হতে পারি। তবে জাতীয় প্রেস ক্লাব ভাঙলে আমাদের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। তাই ক্লাবকে কোনো দলীয় মঞ্চ না বানানোর আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে রিয়াজ রহমানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ প্রমুখ।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs