সর্বশেষ সংবাদ :

হজ্জের গুরুত্ব ও হজ্জ আদায় না করার ভয়ঙ্কর পরিণাম

Share Button

আব্দুল্লাহ-আল-মাসুদ

আলহামদুল্লিল্লাহ।
আল্লাহ দান করুন আপনার
জানা সংখ্যা পরিমান দরুদ ও সালাম প্রিয়
নবী হযরত মোহাম্মদ (সাল্লাহু
আলাইহে ওয়া সাল্লাম) ও উনার পরিবার এবং সকল সহাবা এর
উপর। আমীন

পবিত্র ক্বোরআনে কারীম
এবং হাদীস শরীফে বায়তুল্লাহর
গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফযীলত-বরকত, মরতবা-
মহিমা অপরিসীম। নিম্নে তার কিছুটা বিবৃত
হলো-
ক্বোরআন কারীমে আল্লাহ পাক
এরশাদ করেছেন- ﻭَﺍَﺗِﻤُّﻮْﺍ ﺍﻟْﺤَﺞَّ ﻭَﺍﻟْﻌُﻤْﺮَﺓَ ﻟِﻠﻪِ
অর্থাৎ (হে মুমিনগণ!) আর
তোমরা একমাত্র আল্লাহর জন্য হজ্জ
ও ওমরাহ পরিপূর্ণ করো।
অন্য আয়াতে এরশাদ হয়েছে- ﻭَﻟِﻠﻪِ ﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺣِﺞُّ ﺍﻟْﺒَﻴْﺖِ ﻣَﻦِ ﺍﺳْﺘَﻄَﺎﻉَ ﺍِﻟَﻴْﻪِ ﺳَﺒِﻴْﻠًﺎً অর্থাৎ
মানুষের জন্য একমাত্র আল্লাহর
উদ্দেশ্যে ওই ঘরের হজ্জ করা তার
জন্য ফরয যার সেখানে পৌঁছার সামর্থ
আছে।
উপরোক্ত আয়াতাংশের
আলোকে প্রতীয়মান হয়
ঈমানদারের জন্য আল্লাহর
সন্তুষ্টি অর্জনের নিশ্চিত মাধ্যম
হলো আল্লাহর ঘরের হজ্জ ।

হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে-
(সার্বাধিক হাদীস
বর্ণনাকারী সাহাবী) সাইয়্যেদুনা হযরত
আবূ হুরায়রাহ রাদ্বিয়াল্লাহ তা’আলা আনহু
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলে কারীম রঊফুর রহীম
সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এরশাদ করেছেন,
যে ব্যক্তি কোনরূপ অশ্লীল
কর্মকান্ড কিংবা পাপাচারে লিপ্ত
হওয়া ব্যতিরেকে একমাত্র আল্লাহর
সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে হজ্জ
পালন
করবে সে মাতৃগর্ভে হতে ভূমিষ্ঠ
হওয়ার দিনের ন্যায় নিষ্পাপ
হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে ।

(নবী প্রেমে নিবেদিত প্রাণ
সাহাবী) সাইয়েদুনা হযরতে আবূ
হুরায়রাহ রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
রাসূলে পাক সাহেবে লাওলাক সাল্লাল্লাহু
তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ
করেছেন- একটি ওমরাহ
কাফফারা হয়ে যায় (অর্থাৎ
আমলনামা থেকে গুনাহসমূহ মোচন
করে দেয়) আরেকটি ওমরাহ পালন
করা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে সংঘটিত
গুনাহসমূহের। আর হজ্জে মাবরূরের
প্রতিদান জান্নাতই।
উল্লেখ্য যে হজ্জে মাবরূর বলা হয়
ওই হজ্জকে যার সাথে কোন রুপ
পাপাচার
লৌকিকতা লোকদেখানো ইত্যাদি যুক্ত
হয় নি।

(প্রসিদ্ধ হাদীস
বর্ণনাকারী সাহাবী সাইয়েদুনা) হযরত
আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
রাসূলে আকরাম নূরে মুজাসসাম
সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম
এরশাদ করেছেন- আল্লাহর ঘরের
হজ্জ এবং ওমরা পালনকারীরা আল্লাহর
প্রতিনিধি স্বরূপ। তারা যদি আল্লাহর নিকট
দোয়া-ফরিয়াদ করে আল্লাহ পাক
তা কবূল করেন এবং তারা আল্লাহর নিকট
মাগফিরাত চাইলে আল্লাহ পাক তাদের
(গুনাহসমূহ) মার্জনা করেন।
[ইবনে মাজাহ শরীফ]

অর্থাৎ সাইয়্যেদুনা হযরত আবূ হুরায়রাহ
রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
আমি রাসূলে খোদা হাবীবে কিবরিয়া
সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে
এরশাদ করতে শুনেছি- আল্লাহর
প্রতিনিধি তিনজন যথা-
১। আল্লাহর পথে জিহাদকারী
২। আল্লাহর ঘরের হজ্জ
আদায়কারী এবং
৩। ওমরাহ পালনকারী।
[নাসাঈ শরীফ ও বায়হাক্বী শুআবুল
ঈমান]

অর্থাৎ প্রখ্যাত সাহাবী-ই রাসূল
সাইয়্যেদুনা হযরত আবদুল্লাহ
ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু
তা’আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, রাসূলে আকরাম
হাবীবে রহমান সাল্লাল্লাহু
তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ
করেছেন- যখন তুমি কোন হাজীর
সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, তখন
তাকে সালাম করবে, তার
সঙ্গে করমর্দন
করবে এবং তাকে বলবে যেন তার
ঘরে প্রবেশ করার পূর্বেই তোমার
জন্য মাগফিরাত কামনা করে। কেননা,
হাজীর মাগফিরাত হয়ে গেছে।
[মুসনাদে আহমদ]

অর্থাৎ সাইয়্যেদুনা হযরত আবূ হুরায়রাহ
রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলে খোদা হাবীবে কিবরিয়া সাল্লাল্লাহু
তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ
করেছন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ঘরের
হজ্জ কিংবা ওমরাহ পালন করার
উদ্দেশ্যে অথবা আল্লাহর
পথে জেহাদ করার সংকল্পে ঘর
হতে বের
হয়ে পথিমধ্যে ইন্তেকাল করলো,
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার
আমলনামায় আল্লাহর ঘরের হজ্জ
কিংবা ওমরাহ আদায়কারীর
অথবা জেহাদকারীর সাওয়াব লিপিবদ্ধ
করে দেবেন। [বায়হাক্বী শুআবুল
ঈমান]

মুফাসসিরকুল সরদার সাহাবী-ই
রাসূল সাইয়্যেদুনা আবদুল্লাহ
ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলে আকরাম রহমতে আলম
সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হজ্জ
করার ইচ্ছে করে সে যেন
তাড়াতাড়ি আদায় করে নেয়। [আবূ দাউদ
শরীফ ও দারেমী শরীফ।]

রাসূলে খোদা আশরাফে আম্বিয়া সাল্লাল্লাহু
তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ
করেছেন, তোমরা হজ্জ পালন
করো। কেননা হজ্জ
গুনাহসমূহকে এমনভাবে ধৌত
করে ফেলে যেভাবে পানি ময়লা ধৌত
করে (পরিচ্ছন্ন করে)।
উপরোক্ত রেওয়ায়কতসমূহের
আলোকে প্রমাণিত হয় যে হজ্জ ও
ওমরাহ এমন তাৎপর্যবহ ও মহিমান্বিত
ইবাদত, যার বদৌলতে বান্দা আল্লাহর
প্রতিনিধি হওয়ার মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়,
হজ্জ ও ওমরাহ আদায়কারীর সমুদয় গুনাহ
মাফ হয়ে যায়, ইহকালীন জীবন পূত-
পবিত্র ও পরিশুদ্ধি হয়ে যায়
এবং পরকালীন
জীবনে বেহেশতী ও
দীদারে ইলাহীর উপযোগী হয়

আমীরুল মুমিনীন
সাইয়্যেদুনা মাওলা আলী শেরে খোদা রাদ্বিয়াল্লাহু
তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, রাসূলে পাক
সাহেবে লাওলাক সাল্লাল্লাহু
তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ
করেছেন, যে ব্যক্তি ( হজ্জ আদায়
করার) সম্বল এবং এমন আরোহীর
মালিক হবে, যা বায়তুল্লাহ শরীফ
পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম অথচ হজ্জ
আদায়
করলো না সে ইহুদী হয়ে মৃত্যুবরণ
করল অথবা নাসারা হয়ে মৃত্যুবরণ করল
তাতে কোন তারহতম্য নেই।
কেননা আল্লাহ পাক বলেন সামর্থ্যবান
মানুষের উপর আল্লাহর ঘরের হজ্জ
আদায় করা অপরিহার্য।
[তিরমিযী শরীফ]

(প্রখ্যাত সাহাবী-ই রাসূল
সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম
সাইয়্যেদুনা) হযরত আবূ
উমামা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলে করীম রঊফুর রহীম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ
করেছেন, প্রকাশ্য অভাব-অনটন
কিংবা যালিম বাদশাহ অথবা দুরারোগ্য
ব্যাধি যাকে হজ্জ পালনের বাধা প্রদান
করলো না আর সে হজ্জ আদায়
না করে মৃত্যু বরণ করলো-চাই
সে ইহুদী হয়ে মৃত্যুবরণ করুক
অথবা নাসারা হয়ে মৃত্যুবরণ করুক
তাতে কোন ব্যবধান নেই।
(দারেমী শরীফ)

রাসূলে খোদা আশরাফে আম্বিয়া
সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এরশাদ করেছেন, সামর্থবান
হওয়া সত্ত্বেও যে ব্যক্তি হজ্জ আদায়
না করে মৃত্যুবরন করলো সে যেন
ভয়ানক অন্ধকারাচ্ছন্ন জাহান্নামের
আগুনে নিক্ষিপ্ত হলো। উপরোক্ত
বর্ণনাসমূহের
আলোকে প্রতীয়মান হয়
যে সামর্থবান হওয়া সত্ত্বেও হজ্জ
আদায় না করেন মৃত্যুবরণকারীর মৃত্যু
ঈমানের
সাথে হলো কিনা তাতে সমূহ
সন্দেহ রয়েছে। (নাঊযুবিল্লাহ)
কেননা হজ্জ আদায় না করার
মধ্যে দিয়ে যেন হজ্জ ফরয
হওয়াকে অস্বীকার করা হলো।
এজন্য মৃত্যুর পর সে জাহান্নামের
আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে।

(প্রখ্যাত সাহাবী সাইয়্যেদুনা)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ
রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলে পাক সাহেবে লাওলাক সাল্লাল্লাহু
তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ
করেছেন, তোমরা হজ্জ্ ও
ওমরা একসঙ্গে আদায় করো।
কেননা এ দুটি অভাব-অনটন
এবং পাপসমূহকে তেমনভাবে দূরীভূত
করে যেভাবে ভাট্টি স্বর্ণে-রৌপ্য ও
লোহার মরিচাকে দূরীভূত
করে দেয়। আর হজ্জে মাবরূরের
প্রতিদান একমাত্র জান্নাতই । [তিরমিযী ও
নাসায়ী শরীফ]

প্রখ্যাত সাহাবী-ই রাসূল
সাইয়্যেদুনা হযরত আবূ মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু
তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু
তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ
করেছেন, আল্লাহর ঘরের হজ্ব
আদায়কারী হাজী স্বীয় পরিবারের
চারশত ব্যক্তির (নাজাতের) জন্য
(আল্লাহর নিকট) শাফাআত করবেন
এবং তারা গুনাহসমূহ
থেকে মাতৃগর্ভে হতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার
দিনের ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে যাবে।
[মুসনাদে বাযযার]

প্রসিদ্ধ সাহাবী-ই রাসূল
সাইয়্যেদুনা হযরত জাবের রাদ্বিয়াল্লাহু
তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, রাসূলে পাক
সাহেবে লাওলাক সাল্লাল্লাহু
তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ
করেছেন, এ ঘর (অর্থাৎ বায়তুল্লাহ
শরীফ) ইসলামের স্তম্ভসমূহের
অন্যতম একটি স্তম্ভ। অতঃপর যারা এ
ঘরের হজ্জ কিংবা ওমরাহ
করবে সে আল্লাহ পাকের যিম্মায়
আশ্রয়পাপ্ত হবে। যদি মৃত্যুবরণ করে
আল্লাহ পাক
তাকে বেহেশতে প্রবেশ
করাবেন। আর যদি ঘরে ফিরে যায়
তবে সাওয়াব এবং গণীমত সহকারে
আল্লাহ পাক তাকে ঘরে পৌঁছাবেন।
এছাড়াও অসংখ্য রেওয়ায়ত রয়েছে,
যেগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় ও
হজ্জের ফযীলত, বরকত, মরতবা-
মহিমা অপরিসীম, হজ্জের
বরকতে মুমিনের দৈহিক ও আত্মিক
পরিশুদ্ধি অর্জিত হয় যা ইহকালীন ও
পরকালীন চুড়ান্ত সাফল্যের নিশ্চিত
সাহায়ক হয়।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs