সর্বশেষ সংবাদ :

ঢাকা শহরে ৫০ লাখ মানুষের বাস বস্তিতে

Share Button
1413219830.
রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর ২০১৪।
এক সপ্তাহ পর গতকাল সোমবার সারাদেশে পালিত হয়েছে বিশ্ব বসতি দিবস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪০তম অধিবেশনে প্রতি বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবারকে বিশ্ব বসতি দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো ১৯৮৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর। এবার প্রথম সোমবার ছিলো পবিত্র ঈদুল আজহা। সে কারণে দ্বিতীয় সোমবারকে বাংলাদেশে বিশ্ব বসতি দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
প্রতিটি দেশে মানুষের বসতির ব্যাপারে বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য বিস্তর আলোচনা হলেও সমাধান তেমন একটা হয়নি। বেসরকারি হিসেবে রাজধানী ঢাকায় ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ আশ্রয়ের খোঁজে ঘুরছেন। তবে সরকারি হিসেবে এ সংখ্যা ৪০ লাখের বেশি। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গত ৫ মার্চ জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে রাজধানীর বস্তি সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, বর্তমানে ঢাকা শহরে বস্তির সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৭২০টি। আর বস্তিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ।
দেশের বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙনসহ নানা কারণে সর্বস্ব হারিয়ে লোকজন রাজধানীমুখী হয়। তাদের বসবাস খোলা আকাশ আর রাস্তার ফুটপাত কিংবা রেলপথের দুই পাশে ঝুপড়ি বস্তি। বিশ্বব্যাংক ২০১২ সালে তাদের চালানো এক জরিপের ফলাফলে বলেছিলো ঢাকায় বছরের চাকা ঘুরলেই সর্বস্ব হারানো ৩ থেকে ৪ লাখ নতুন মানুষ যোগ হচ্ছে। এসব মানুষ রিকশা ও ভ্যান চালিয়ে বা দিন মজুরি করে উপার্জনের আশায় ঢাকায় আসে। বিভিন্ন বস্তিতে বসবাস শুরু করলেও পরবর্তীতে বস্তি থেকে উচ্ছেদ করা হলে থাকার জায়গা হয় ফুটপাত।
পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়াই ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল মহাখালীর কড়াইল বস্তি উচ্ছেদ করা হয়। একই বছরের ৭ অক্টোবর আগুন লেগে মহাখালীর সাততলা বস্তির সহস্রাধিক ঘর পুড়ে ছাই হয়। একই ধরণের অগ্নিকা-ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বেগুনবাড়ী বস্তির কমপক্ষে ৫ শতাধিক ঘর পড়ে যায়। এসব ঘটনায় দিন দিন বাড়ছে বাস্তুহারা ও আশ্রয়হীন মানুষের সংখ্যা।
গত মাসে কাওরানবাজারে রেলপথে ট্রেন কাটা পড়ে হতাহতের ঘটনায় বস্তি ছাড়া রেলপথের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত রাজধানী ছাড়া চট্টগ্রাম ও দিনাজপুরে প্রায় ৩ লাখ বস্তিবাসীকে উচ্ছেদ করা হয়। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন এ ব্যাপারে বলছে, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এমনটা ঘটছে। দিন দিন বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা বাড়লেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs