সর্বশেষ সংবাদ :

মহিলা চেয়ারম্যান এর অনৈতিক কার্যকলাপ নিয়ে তোলপাড়

Share Button

Sabira-Munni

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১১ অক্টোবর ২০১৪।

ইয়ানুর রহমান : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার চেয়ারম্যান সাবিরা ইসলাম মুন্নির বিরুদ্ধে তার প্রেমিকের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে কীর্তিপুর গ্রামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় গণপিটুনির শিকার হন প্রেমিক ফয়সাল ওরফে মুকুট (৩০) নামের এক যুবক। প্রেমিককে রক্ষা করতে গিয়ে সাবিরা ইসলাম মুন্নি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন।

পুলিশ মুকুটকে আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি উপজেলার পারবাজার এলাকার মেহের আীর ছেলে। পরকীয়ার এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন জন প্রতিনিধির এ ধরণের কুকর্মে ও বেহায়াপনায় এলাকার অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন সাবিরা ইসলাম মুন্নি জনপ্রতিনিধিত্ব করার যোগ্য নই।

ঝিকরগাছার উপজেলা বিএনপির প্রয়াত অর্থ সম্পাদক নাজমুল ইসলামের পিতা নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে শুনতে পাই তার প্রয়াত ছেলের স্ত্রী উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা ইসলাম মুন্নি প্রেমিক ফয়সাল ওরফে মুকুট আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েছেন। পরে সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এর আগেও লোক মুখে শোনা যেতো স্বামী নাজমুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর স্ত্রী সাবিরা ইসলাম মুিন্নর মুকুটের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের কথা।
তিনি আরো জানান, মুন্নিকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যানের চাচা শ্বশুর সাবেক মেম্বর আবুল হোচেন ও ভাসুর নজরুল ইসলাম বলেছেন, স্থানীয় লোকজন ঘটনার রাতে তাদেরকে খবর দেয় সাবিরা ইসলাম মুন্নি ও তার প্রেমিক ফয়সাল ওরফে মুকুট শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে। এ সময় তারাসহ বিক্ষুব্ধ লোকজন বাড়ির ভিতর গিয়ে ঘরের দরজা ঠেলাঠেলি করেন। চিৎকার চেচামেচির এক পর্যায়ে সাবিরা ইসলাম মুন্নি দরজা খুলে দিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে যান ও ফয়সাল ওরফে মুকুটকে কিছু না বলতেও বলেন তিনি। এ সময় বিক্ষুব্ধ লেকাজন প্রেমিক ফয়সাল ওরফে মুকুটকে গণপিটুনি দেয়। এতে তিনি জখম হন। মারপিট থেকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রেমিককে জাপটে ধরেন সাবিরা ইসলাম মুন্নি। সে কারণে তিনিও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। কীর্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা রওশন আলী, আজু মিয়া, রাশেদ আলী জানান, প্রেমিক ফয়সাল ওরফে মুকুট প্রায় গভীর রাতে ওই বাড়িতে আসতো এবং কয়েক ঘণ্টা পর চলে যায়। মঙ্গলবার রাতে তারা বাড়ির পাশে ওৎ পেতে ছিলেন সাবিরা ইসলাম মুন্নি ও মুকুটের অপকর্ম হাতে নাতে ধরতে।

হারেজ আলী ও আরিফুল ইসলাম ওরফে সন্টু জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার পর থেকেই সাবিরা ইসলাম মুন্নির বাড়ির ছাদের উপর উৎসব চলছিলো। গভীর রাতে ফয়সাল ওরফে মুকুট বাড়িতে ঢোকার পর অতিথি রুমে বসতে দেন। সেখানে দু’জন মদ পান করে নাচানাচির পর বেড রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেন। এলাকার অনেকেই তা গোপনে প্রত্যক্ষ করেন। সেখানে সাবিরা ইসলাম মুন্নির শ্বশুর পক্ষীয় লোকজনও ছিল।

শ্বাশুড়ি ছামসুন্নাহার ইসলাম জানান, লোক মুখে শোনা যেতো তার বৌমা সাবিরা ইসলাম মুন্নির বেহায়া পনার কথা। এলাকার অনেকেই বলাবলি করতেন তিনি নাকি ঘরের ছাদে প্রায় রাত আসরের আয়োজন করে থাকেন। সেখানে ফয়সাল ওরফে মুকুটকে নিয়ে রোামঞ্চ করা হয়। বিগত দিনে এ ব্যাপারে তাকে সতর্ক করলে মুন্নি কর্ণপাত করেননি। অবশেষে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়লো। বৌমার নোংরামীর ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে বলেও জানিয়েছেন ছামসুন্নাহার ইসলাম।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই গ্রামের কয়েকজন জানিয়েছেন, সাবিরা ইসলাম মুন্নির জনপ্রতিনিধিত্ব করার মতো কনো যোগ্যতা নেই। অনৈতিক সম্পর্ক করে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ায় তার প্রমাণ। সুনামধন্য রাজনীতিবিদ ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী প্রয়াত নাজমুল ইসলামের পরিবারকে সামনে নিয়ে টানাহেচড়ায় মেতেছেন সাবিরা ইসলাম মুন্নি। তার অপকর্মের প্রতি অনেকেই তিরস্কার করেছেন।

ভাসুর নজরুল ইসলাম আরো জানিয়েছেন, প্রেমিকের সাথে মুন্নির অপকর্ম ফাঁস হওয়ায় তিনি বেসামাল হয়ে পড়েছেন। এখন উল্টো আমাদের পরিবারের সদস্যদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন মুন্নি। আহত প্রেমিককে হাসপাতালে দেখতে গিয়েও তিনি ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন।

ঘটনার দিন রাতে সেখানে উপস্থিত থাকা কয়েকজন বলেছেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল আসেন ঝিকরগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ। পরে এ পুলিশ কর্মকর্তা অভিযুক্ত উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে গোপন আলোচনা শেশে ফয়সাল ওরফে মুকুটকে নিয়ে চলে আসেন। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময় ওসি অভিযুক্তদের পক্ষে রয়েছেন।
এদিকে, উল্লিখিত বিষয়ে কথা বলার জন্য সাবিরা ইসলাম মুন্নির বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির কেয়ারটেকার ইমদাদুল হোসেন বলেন, আপা বাইরে গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে আপার শ্বশুর বাড়ির লোকজন গেট খুলতে বললে আমি খুলে দেই। কিছুক্ষণ পর চেচামেছি শুরু হয়।

এ ব্যাপারে সাবিরা ইসলাম মুন্নি মোবাইলফোনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ রটানো হচ্ছে।

কথা হয় ঝিকরগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদের সাথে। তিনি জানান, আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ার খবর শুনে তিনি সাবিরা ইসলাম মুন্নির বাড়িতে যান। এ সময় ফয়সাল ওরফে মুকুটকে আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন। তবে অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নুরুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ দেয়ার জন্য থানায় অবস্থান করছিলো। ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান মুন্নির অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ে তোলপাড় চলছে।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs