সর্বশেষ সংবাদ :

মালালার পরিচয় তো জানা, কিন্তু কে এই কৈলাস সত্যার্থী?

Share Button

image_138080.kailash-satyarthi

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১০ অক্টোবর ২০১৪।

পাকিস্তানের স্কুল ছাত্রী মালালা ইউসুফজাইকে অনেকেই চেনেন। নোবেল শান্তি পুরস্কারের তালিকায় তার নাম আগে থেকেই আলোচিত হচ্ছিল। যদিও পুরস্কার ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো তোলপাড় হচ্ছে মালালাকে নিয়ে। তর্ক-বিতর্কে কৈলাস সত্যার্থীর নামটা অনেকটাই পিছিয়ে আছে। প্রশ্ন উঠছে কে এই কৈলাস সত্যার্থী। অনেকেই প্রথমবার শুনলেন নামটা। সত্য হলো, নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই ভারতীয় সম্পর্কে ধারণা নেই অনেকেরই।
তার বয়স ৬০ ,  জন্ম – ১১ জানুয়ারি ১৯৫৪। তিনি কাজ করেছেন অনেকটা নিভৃতে।
মধ্যপ্রদেশের বিদিশায় থাকেন। ১৯৮৩ সালে তিনি সংগঠিত করেন “বচপন বাঁচাও’ আন্দোলন।  শিশুদের অধিকারের জন্য লড়াই। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শিশু অধিকার আইনের জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ‘বচপন বাঁচাও আন্দোলন’ দেশ ছাড়িয়ে পৌঁছেছে আন্তর্জাতিক স্তরে। শিশু নিগ্রহের বিরুদ্ধে এদেশে প্রথম আন্দোলনের উদ্যোগ সত্যার্থীর। আর আন্দোলন প্রায় ৮০ হাজার শিশুকে খোলা আকাশের সাধ দিয়েছে। কলকারাখার কালো ধোঁয়া আর মেশিন ঘরের অন্ধকারের নাগপাশ থেকে মুক্তি দিয়েছে শৈশবকে। শিশুপাচার চক্রের কাছে ত্রাস হয়ে উঠেছিল কৈলাস। শিশু শ্রমিকদের নির্যাতনের বিরুদ্ধেও আওয়াজ ওঠান তিনি।
যে সমস্ত কারখানায় শিশুদের কাজ করানো হয় সেই সমস্ত কারখানায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্য নিয়ে গিয়েছেন নিজেই। তাঁর আন্দোলনের বড় সফলতা “রাগমার্ক’। সাধারণত কার্পেট নির্মাণ শিল্পের মূল কারিগর শিশুরাই। রাগমার্ক চালু হওয়ার পর বাজারজাত কার্পেটগুলো শিশুশ্রম বর্জিত কী না, তা বোঝা যেত। এই আন্দোলন আন্তর্জাতিক স্তরেও শিশুদের অধিকার বোঝাতে সাহায্য করেছে।
দক্ষিণ এশিয়াতে প্রায় এক চতুর্থাংশ শ্রমিক শিশু। ভারতে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১৪ কোটি। এই বৃহত্তর সমস্যা নিয়েই লড়াই সত্যার্থীর। শিশুদের নরক থেকে মুক্তি দিয়ে শিক্ষার আলো দেখাতে চেয়েছেন তিনি। তাদের নিজস্ব পরিচয় তৈরি করার সুযোগ করে দিয়েছেন।
নোবেল পুরস্কার পেয়ে সত্যার্থীর মন্তব্য, ‘শিশু অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এটা একটা সাফল্য’।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs