সর্বশেষ সংবাদ :

সাভারে ১২ বছর ধরে প্রায়ই গাছে রাত কাটান এক নারী!

Share Button
image_138033.tree_man_492032347
রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১০ অক্টোবর ২০১৪।
সাভারে ১২ বছর ধরে গাছে রাত কাটানো এক নারীর সন্ধান মিলেছে।  বৃহস্পতিবার রাতে পৌরসভার রেডিও কলনি এলাকার অদূরে মিলিটারী ফার্মের বনে ওই নারী বাধিয়েছিলেন হুলুস্তুল কান্ড। স্থানীয়দের পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনা সদস্যরাও ছুটে যান ঘটনাস্থলে। অক্ষত অবস্থায় ওই নারীকে বড় একটি গাছের মগডাল থেকে উদ্ধারে তৎপরতা চালাতে থাকেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। কিন্তু ওই নারী নিজেই বিপত্তি ঘটান এ তৎপরতায়। নিজেকে জ্বিন দাবি করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ঘাড় মটকিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে উল্টো হুমকি ধমকি দিতে থাকেন তিনি। অবশ্য ১২ ঘন্টা পর শুক্রবার স্বেচ্ছায় নেমে আসেন তিনি।

৩৫ বছর বয়সের এ নারী সাভার পৌরসভার রেডিও কলোনি এলাকার বাসিন্দা। তার নাম আমেনা বেগম। বেশ কয়েক বছর যাবৎ প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন গাছের মগ ডালে কাটে তার রাত। কিন্তু  পরিবারের সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি গোপন রেখে চলছিল পরিবারের সদস্যরা। সঙ্গীয় জ্বিনের প্রভাবে সে গাছে রাত কাটায় বলে ধারনা তাদের।

আমেনার ছেলে মঞ্জিল হোসেন জানান, প্রায় এক যুগ ধরে গাছে রাত কাটিয়ে আসছেন তার মা। দিনের যে সময় গাছে উঠেন ঠিক সেই সময় গাছ থেকে স্বেচ্ছায় নেমে আসেন তিনি। যদি বিকেল ৪টায় উঠেন তাহলে ভোর ৪টায় নেমে আসেন। গাছ থেকে নামার পরেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে বাড়িতে নিয়ে বিশ্রামে রাখলেই আবার সুস্থ হয়ে উঠে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে থাকেন।

মঞ্জিলের বোন রুবিনা বেগম বলেন, সঙ্গীয় জ্বিনের কারনেই গাছে রাত কাটানোর অভ্যাস তার মায়ের। মাঝে মাঝে তার গলার স্বর (কন্ঠ) পরিবর্তন হয়ে যায়। তখন পরিবারের কাউকেই তিনি চিনতে পারেন না।এ অবস্থা থেকে উত্তররে জন্য অনেক কবিরাজের স্মরণাপন্ন হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু লাভ হয়নি। জ্বিনের প্রভাবে তিনি বরাবরই গাছে রাত কাটিয়ে আসছেন-বলেন রুবিনা।

রুবিনা আরো বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে কণ্ঠের স্বর পরিবর্তন হয়ে যায় তার মায়ের। তখুনি তিনি বুঝতে পারেন তার মায়ের উপর জ্বিন ভর করেছে। বিকেল ৩টা নাগাদ ঘর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ব্যকুল হয়ে পড়েন তিনি। এক সময় সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে পড়েন।  রাতে সংবাদ পান, মিলিটারি ফার্মের বনে একটি উঁচু আম গাছে উঠেছেন তার মা।

রাত ৮টার দিকে মিলিটারী ফার্মের বনে আম গাছে ওই নারীর অদ্ভুদ কথোপকথোন শুনতে পান এক পথচারী। এসময় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে টহলরত পুলিশকে বিষয়টি জানান তিনি। পুলিশ ওই গাছের নিচে গিয়ে বারবার তাকে (আমেনা বেগম) নেমে আসার আহবান জানালেও তাতে সাড়া দেননি তিনি।  রাত ৯টায় ঘটনাস্থলে যান সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দিপকচন্দ্র সাহা। অবস্থা বেগতিক দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন তিনি। খবর পেয়ে মিলিটারি ফার্মের সেনা কর্মকর্তারাও ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে।

রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে দেয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী গাছে উঠে ওই নারীকে নামিয়ে আনার প্রস্তুতি নেন তারা।  কিন্তু তারা গাছে উঠা শুরু করলেই প্রচন্ড শক্তি দিয়ে গাছটি ঝাকুনি দিতে থাকেন ওই নারী। এসময় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ঘাড় মটকিয়ে খেয়ে ফেলারও হুমকি দেয় সে। তার এমন অদ্ভূদ আচরণে শেষ পর্যন্ত নিচে নেমে আসতে বাধ্য হন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

সাভার ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার শাহাদাৎ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ওই নারীর আচরণ দেখে তাকে জোর করে নামানোর চেষ্টা করা হয়নি। কারণ গাছে উঠে তাকে ধরার আগেই সে লাফিয়ে পড়তে পারে এ ভেবে। পরে ১২ ঘন্টা পর শেষ রাতে ওই নারী স্বেচ্ছায় গাছ থেকে নেমে আসে বলে জানিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা।

এ ব্যাপারে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাইকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আব্দুর রহিম জানান, এটা একধরনের অসুখ, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ওই নারী সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। গ্রামে অশিক্ষা আর কুসংস্কারের প্রভাবে এসব রোগীদের অনেকেই জিনে ধরেছে বলে মনে করেন রোগী। সিজোফ্রেনিক রোগী যথাযথ চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠেন বলেও জানান তিনি।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs