কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে বিভ্রান্তি, শোডাউনে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা

Share Button

রিপোর্টার:-দৈনিক মুক্তকন্ঠ,
০১ অক্টোবর. ২০২২। সময : ১০ ,০০.PM.

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় শুক্রবার রাত ১১টা ৪৯ মিনিটে তাঁর ফেসবুকে নিজের ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত চিঠিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা কমিটিকে মেয়াদোত্তীর্ণ দেখিয়ে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে লেখক ও ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজ থেকে কুবি কমিটি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে জয়ের ফেসবুক ওয়ালে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বিজ্ঞপ্তিটি ছিল।

এ ঘটনার পর কুবি ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। দুই ধরনের তথ্য দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক কমিটি বিলুপ্ত হয়নি জানালেও আরেকটি অংশ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটিকে সঠিক জানিয়েছে। বিষয়টি ঘিরে কুবি ছাত্রলীগের দ্বন্দ্বও সামনে চলে এসেছে। শনিবার ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একটি অংশ শোডাউন করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীরা জানান, কুবি ছাত্রলীগ মূলত দু’ভাগে বিভক্ত। একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ২০১৫ সালের কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই-এলাহী। বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বজন বরন বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল হাসান সাদীসহ তাঁর একাধিক অনুসারী রয়েছেন। তবে তাঁদের অধিকাংশই নানা কারণে সংগঠন থেকে বহিস্কৃত হয়ে এখন ক্যাম্পাসের বাইরে থাকেন।

আরেক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে অবস্থান করা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাঁর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

কমিটি বিলুপ্তি নিয়ে শাখা সভাপতি ইলিয়াস হোসেন জানান, প্রথমে তিনিও বিষয়টি সত্য ভেবেছিলেন। তবে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখকের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছেন, কমিটি বিলুপ্তি হয়নি। কেন্দ্রীয় সভাপতি কল না ধরলেও সাধারণ সম্পাদক বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।

তবে প্রতিপক্ষ রেজা-ই-এলাহীর দাবি, কুবি শাখার কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। তাঁরা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েছেন।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদও দুই ধরনের তথ্য দিয়েছে। ছাত্রলীগের কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হয়েছে কমিটি বিলুপ্তির। এখন পর্যন্ত আমরা এটাই জানি। পরে কোনো আপডেট পাইনি। সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়েছে কিনা জানি না। তবে উপসংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ফাহিম হাসান লিমন জানান, সম্মেলনের তারিখসহ আরেকটি বিজ্ঞপ্তি আসবে। এ জন্য আগেরটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সভাপতি জয় কল না ধরলেও সাধারণ সম্পাদক লেখক বলেন, কমিটি বিলুপ্ত করা হয়নি। সম্মেলন আয়োজন করা হবে। তারিখ নির্ধারণ হলে জানানো হবে।

এদিকে, কমিটি নিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ ৪০ থেকে ৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে শোডাউন করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রেজার অনুসারীরা এ শোডাউন করেন। তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে গিয়ে ককটেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে হল থেকে ইলিয়াসের অনুসারীদের বের হতে বলেন। এ সময় ইলিয়াসবিরোধী ও রেজা-ই-এলাহীর পক্ষে স্লোগানও দেন তাঁরা। প্রায় ২০ মিনিট ক্যাম্পাসে থাকার পর ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী ও অন্য শিক্ষকরা অনুরোধ করলে তাঁরা বেরিয়ে যান।

পরে ইলিয়াসের অনুসারীরা রামদা, হকিস্টিক, লাঠিসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে আসেন। এ সময় তাঁরা ক্যাম্পাস ও প্রধান ফটক বন্ধ থাকার পরও কীভাবে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে শোডাউন করে জানিয়ে প্রক্টরের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

কুবি ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস দাবি করেন, ওই দলে তিন-চারজন সাবেক এবং একজন বর্তমান ছাত্র ছিলেন। বাকিরা বহিরাগত।