কুমিল্লার তিতাসের ভিটিকান্দি দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা নিহত

Share Button

রিপোর্টার:-দৈনিক মুক্তকন্ঠ,
০৬ ডিসেম্বর. ২০২২। সময :১০.০০.PM.

কুমিল্লার তিতাসের মৎস্য প্রকল্পের মাছের মালিকানা নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় যুবলীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশসহ আরও সাতজন আহত হন।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা এবং বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মো. বাবুল আহমেদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থক সাইফুল আলমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর মধ্যে সাইফুলের ছেলে সুমন বাড়ির পাশের একাধিক পুকুরে মাছ চাষ করে। পুকুরের মাছ ধরতে গিয়ে মৎস্য চাষীরা দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে আবুল হোসেনের লোকজন থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে যায়।

এসময় আবুল হোসেনের ছেলে জহিরুল ইসলামকে পুলিশ ডেকে আনে। এক পর্যায়ে পুলিশের সামনে সাইফুলের লোকজন জহিরুলের ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে আহত করে। এসময় পুলিশ বাঁধা দিলে লোকজন পুলিশের ওপরও হামলা চালায়। এতে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত সাতজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে তিতাস ও দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা সাইফুল মেম্বারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ায় সার্ভিয়ের টিম এক ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পর থেকে তিতাস থানা পুলিশ ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামে অবস্থান নিয়েছে।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস জানান, ভিটিকান্দিতে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে এক পক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় অপর পক্ষের লোকজন হামলা চালায়। আহতদের মধ্যে একজন মারা গেছে বলে শুনেছি।