সর্বশেষ সংবাদ :

ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন আর নেই

Share Button

93644_1

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ০৮ অক্টোবর ২০১৪।

এর আগে গত শুক্রবার থেকে তিনি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে না পারায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় বলে জানান বিএসএমএমইউ এর নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন। গত ২৫ আগস্ট মোহাম্মদপুরে নিজ বাসায় স্ট্রোক করেন আবদুল মতিন। পরে তাকে প্রথমে মোহাম্মদপুর সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর পর ২৬ আগস্ট তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন আর নেই। আজ বুধবার সকালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে… রাজেউন)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তাঁর লাইফ সাপোর্ট খুলে নিয়ে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আব্দুল মজিদ ভুঁইয়া (অব.) কালের কণ্ঠ অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মস্তিষ্কে সফল অস্ত্রোপচারের পর কিছুটা উন্নতি হলেও গত তিন দিন ধরে তাঁর অবস্থা অবনতির দিকে যায়। গত শুক্রবার সকাল থেকে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট রাখা হয়। তাঁর অবস্থা অবনতি হওয়ার কারণে আজ সকালে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ভাষা মতিনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে নেওয়া হয়। ২০ আগস্ট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর মস্তিষ্কের জমাটবাঁধা রক্ত অপসারণ করা হয়। তখন থেকে তাঁর অবস্থা অপরিবর্তিত ছিল। ৮৮ বছরের এ ভাষা সংগ্রামী ডায়াবেটিস, রিকারেন্স হার্নিয়া এবং প্রস্টেট গ্ল্যান্ডসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। ভাষা সংগ্রামী আবদুল মতিনের চিকিৎসার সব ব্যয় সরকার বহন করেছে।

দুই মেয়ের বাবা আবদুল মতিন মোহাম্মদপুরে তাঁর পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর জন্ম ১৯২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর  সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার ধুবলিয়া গ্রামে। ১৯৫২ সালে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে নেতৃত্বের ভূমিকার জন্য ভাষা মতিন নামেই তিনি পরিচিতি পান সারা বাংলাদেশ। বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ভাষা মতিন ১৯৫৪ সালে পাবনা জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক হন। মওলানা ভাসানী ন্যাপ গঠন করলে তিনি ১৯৫৭ সালে তাতে যোগ দেন। ১৯৫৮ সালে মতিন পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল) গঠন করেন।

চীনকে অনুসরণকারী বামপন্থি দলগুলোর নানা বিভাজনের মধ্যেও আবদুল মতিন সক্রিয় ছিলেন রাজনীতিতে। ১৯৯২ সালে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ২০০৬ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে তিনি পদত্যাগ করেন। পরে ২০০৯ সালে হায়দার আকবর খান রনোর নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পার্টি (পুনর্গঠন) গঠিত হলে আবদুল মতিন তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। হায়দার আকবর খান রনো বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিলেও আবদুল মতিন পুনর্গঠিত ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গেই থাকেন।

ভাষা আন্দোলন বিষয়ে তাঁর রচিত বিভিন্ন বইয়ের মধ্যে রয়েছে বাঙালি জাতির উৎস সন্ধান ও ভাষা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন কী এবং কেন এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস। এ ছাড়া প্রকাশিত হয়েছে তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘জীবন পথের বাঁকে বাঁকে’।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs