সর্বশেষ সংবাদ :

অপসারন হয়নি কোরবানীর বর্জ্য, বেড়েছে দূর্গন্ধ

Share Button

kurbanir-borjo-oposaron

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ০৭ অক্টোবর ২০১৪।

মুসলমানদের ত্যাগের মধ্যদিয়ে গতকাল সোমবার পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী পশু কোরবানির মাধ্যমে এই ঈদ পালন করেন মুসলমানরা।

কোরবানির পর অনেকেই যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলে রাখেন। আর তা থেকে ছড়ায় মারাত্মক দুর্গন্ধ। প্রধান সড়কগুলোতেও বর্জ্য পড়ে থাকার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা। এসবের ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যারা কোরবানি দিয়েছেন তারা নিজেরাও।

মঙ্গলবার রাজধানীর হাজারীবাগ,মোহাম্মাদপুর, ধানমণ্ডি, নীলক্ষেত, আজিমপুর, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, গুলশান, বনানীসহ বেশ কিছু আবাসিক এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

এসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কিছু সড়ক থেকে বর্জ্য অপসারণ করা হলেও আবাসিক এলাকাগুলোর অধিকাংশ বর্জ্য অপসারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। তার উপর মঙ্গলবারও অনেকে পশু কোরবানি দিচ্ছেন। এতে আগের দিনের বর্জ্যের সঙ্গে নতুন বর্জ্য যোগ হচ্ছে। কিন্তু পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ওই সব এলাকায় পুনরায় বর্জ্য পরিষ্কার করতে যাচ্ছেন না। পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর এবং বনানীসহ প্রায় সব এলাকায় মঙ্গলবার অনেককেই কোরবানি দিতে দেখা গেছে ।

সোমবার বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কিছু সময় শহরজুড়ে তৎপর থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা মাংস সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ব্যহত হয়। কোনো কোনো এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পৌঁছাননি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কল্যাণপুর, পাইকপাড়া, ঝিলপাড়, আদাবর, আজিমপুরের কিছু এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা না যাওয়ায় এসব এলাকার মানুষ নিকটস্থ খাল ও ড্রেনে ময়লা ফেলেছেন। ফলে সেসব এলাকায় দুর্গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর পুরান ঢাকা, বনানী, মহাখালী, খিলক্ষেত, টিকাটুলি, সায়েদাবাদ এলাকায় ম্যানহোলের মধ্যে বর্জ্য ফেলায় ড্রেনের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে এসব এলাকায় দ্রুত দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
কোরবানির পর ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রায় ১৩ হাজার কর্মীর পাশাপাশি বর্জ্যের দুর্গন্ধ দূর করতে এ বছর বিশেষ ধরনের পলিব্যাগ বিতরণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

ডিসিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন থেকে পরের ৪৮ ঘণ্টা জুড়ে এই পরিচ্ছন্নতার কাজ চলার কথা। আর এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ব্যবহার হওয়ার কথা রয়েছে ডিসিসির নিজস্ব ১৭০টি যান, ডাম্প ট্রাক, প্রাইম মুভার, পে লোডার এবং লং ট্রেইলার। এছাড়াও বরাবরের মতো রাস্তাঘাট ও নর্দমা জীবাণুমুক্ত রাখতে ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক তরল ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আভা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটিকে ব্যাকটেরিয়া দিয়ে তৈরি বিশেষ এক ধরনের স্প্রে সরবরাহ ও ব্যবহারের জন্য নিয়োগ দিয়েছে উত্তর সিটি করপোরেশন।

আভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গোলাম আলী সুমন জানান, ‘চারটি ব্যাকটেরিয়া দিয়ে তৈরি বিশেষ এই স্প্রে ময়লা রাখার স্থানে দেয়ার পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে এর অনুজীবগুলো দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী অনুজীবকে মেরে ফেলে তা দুর্গন্ধ দূর করে। বিশেষ এই স্প্রেটি তৈরি হয়েছে থাইল্যান্ডে। একটি মালয়েশিয় কোম্পানির সহায়তায় বাংলাদেশে এর ব্যবহার হচ্ছে।’

ঢাকা সিটি করপোরেশনের বর্জ্য অপসারনের বিষয়ে জানতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ কাজ আমরা শেষ করে ফেলেছি। আর বাকি বর্জ্য বুধবার দুপুর ২টার মধ্যে অপসারণ করে ফেলা হবে।’

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs