সর্বশেষ সংবাদ :

পবিত্র ঈদুল আজহা স্থাপন করতে হবে সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত

Share Button

45734_480876018639497_1811827755_n

সম্পাদক-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম,ঢাকা

০৫ অক্টোবর ২০১৪

মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর সেই উৎসব বছর ঘুরে আবার এসেছে আমাদের মধ্যে। সব ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে সবার পাশে দাঁড়ানোর দিন ঈদুল আজহা। পবিত্র এই দিনটিতে আল্লাহর রাহে প্রিয় জিনিস হিসেবে পশু উৎসর্গ করা হয়। কোরবানির ভেতর দিয়ে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের দিকে অগ্রসর হয় মুসলিম সম্প্রদায়। কোরবানির অর্থ হচ্ছে উৎসর্গ করা। পশু কোরবানি হচ্ছে তার মাধ্যম। যে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণ মূর্ত হয় মানুষের জীবনে, তার জন্য চরম ত্যাগ স্বীকারের এক প্রতীকী আচার এই কোরবানি। ঈদুল আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিজের অহমিকা ও উচ্চাভিলাষ উৎসর্গ করা। পশু কোরবানির ভেতর দিয়ে মানুষের ভেতরের পশুশক্তি, কাম-ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি রিপুকেই কোরবানি দিতে হয়। কোরবানির আনন্দ, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের মনোভাব নিয়ে এবারও পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা।

কোরবানির ফজিলত অর্জন করতে হলে প্রয়োজন ওই আবেগ, অনুভূতি, প্রেম, ভালোবাসা ও ঐকান্তিকতার, যে আবেগ-অনুভূতি, প্রেম-ভালোবাসা ও ঐকান্তিকতা নিয়ে কোরবানি করেছিলেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)। পশু কোরবানির মাধ্যমে কোরবানিদাতা কেবল পশুর গলায় ছুরি চালায় না, বরং সে যেন ছুরি চালায় সব কুপ্রবৃত্তির গলায়। কবির ভাষায়, ‘…হত্যা নয় আজ সত্যাগ্রহ…’। এটাই হলো কোরবানির মূল শিক্ষা। ঈদুল আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য তাই স্রষ্টার উদ্দেশে নিজেকে উৎসর্গ করা।

মহান আল্লাহর প্রেমে সর্বোচ্চ ত্যাগের শিক্ষাই হচ্ছে ঈদুল আজহার শিক্ষা। কিন্তু দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই ত্যাগের চেয়ে ভোগ-বিলাসের দিকটিই প্রধান হয়ে ওঠে। আমাদের দেশে অসংখ্য মানুষ আছে, যাদের অবস্থান দারিদ্র্যসীমার নিচে। অনেকেরই দুবেলা ঠিকমতো খাবার জোটে না। সমাজের সেসব ম্লান মুখ, হতদরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর ভেতর দিয়ে আমরা আমাদের এবারের ঈদুল আজহাকে নতুন তাৎপর্য দিতে পারি। সার্থক করে তুলতে পারি ঈদের আনন্দ। বঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার ভেতর দিয়ে আমরা যেন স্থাপন করতে পারি সহমর্মিতার নতুন দৃষ্টান্ত। আজ এমন এক সময়ে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হতে যাচ্ছে, যখন মুসলিম বিশ্বে ক্রমেই অশান্তি ছড়িয়ে পড়ছে। পারস্পরিক সহমর্মিতার পথ থেকে আমরা বিচ্যুত হচ্ছি। দেশের ভেতরেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। এই হানাহানি ও সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। দেশের মানুষের জন্য তৈরি করতে হবে এক সুন্দর পরিবেশ। দেশের স্বার্থে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। দাঁড়াতে হবে মানুষের পাশে। নিশ্চিত করতে হবে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি।

মুক্তকণ্ঠের পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট, বিপণনকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs