বিশ্ব ফোরামে বাংলাদেশ প্রশংসিত/সম্পাদকীয়

Share Button

45734_480876018639497_1811827755_n

সম্পাদক-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম,ঢাকা
০৫ অক্টোবর ২০১৪

মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে লতিফ সিদ্দিকীর দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সারা দেশে রীতিমতো তোলপাড় চলছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান ও জাতিসংঘসহ কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের ব্যাপারে জাতিকে অবহিত করতে প্রধানমন্ত্রী গত শুক্রবার গণভবনে যে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন, সেখানেও বিষয়টি ঘুরেফিরেই উত্থাপিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবেই বলেছেন, ‘আমার সিদ্ধান্ত আমি জানিয়ে দিয়েছি। নিয়ম মেনেই তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হবে।’ তিনি বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্রমশ উজ্জ্বল হওয়া, বিশ্ব ফোরামে নানা খাতে বাংলাদেশের অর্জনের প্রশংসা ও বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বনেতাদের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ অন্যান্য বিষয়েও কিছু খোলামেলা আলোচনা করেন।

কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নাগরিকজীবনের সুখ ও সমৃদ্ধি সে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্রের বিকাশ, সুশাসন ও আরো অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। এ দেশের মানুষ হিসেবে এটি আমাদের জন্য অনেক বড় আনন্দের ব্যাপার যে অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে এগিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলার এ গতি আরো সাবলীল হোক, আরো সুসমন্বিত ও জনপ্রত্যাশার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হোক, সেটাই দেশবাসী কামনা করে। আর এ জন্য আমাদের রাজনীতির মেরুধর্মী বিভেদ কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। প্রধান দুটি দলের নেতারা কেউ কারো ছায়া পর্যন্ত সহ্য করবেন না, এটা গণতান্ত্রিক রীতি তো নয়ই, সুস্থ রাজনীতিও নয়। নিকট অতীতে ধ্বংসাত্মক রাজনীতির যে চিত্র বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে, রাজনীতির কারণে যে দুর্বিষহ জীবন তাদের যাপন করতে হয়েছে এবং দেশের অর্থনীতিতে মুখ থুবড়ে পড়ার মতো যে অবস্থা তৈরি হয়েছিল- আমরা চাই না তেমন পরিস্থিতি ফিরে আসুক। গণতান্ত্রিক রাজনীতির যে ন্যূনতম রীতি পারস্পরিক সহনশীলতা ও আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে বিভেদ মেটানোর প্রচেষ্টা- তাকে বরাবরই এ দেশের মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। এখনো তারা চায়, প্রধান দুটি দল আলোচনায় বসুক এবং আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতেই সমস্যার সমাধান করুক।

বর্তমান সরকারের বেশ কিছু কাজ, শুধু বিদেশে নয়, দেশেও প্রশংসিত হয়েছে। মা ও শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, বিদ্যুৎ, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এ অগ্রগতি ধরে রাখার পাশাপাশি সরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে- এমনটাই প্রত্যাশিত।