সর্বশেষ সংবাদ :

কুমিল্লায় হরতালে দফায় দফায় সংঘর্ষ

Share Button

11c5nSAM_4473

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১৮ জানুয়ারী, ২০১৫।

কুমিল্লায় ২০ দলের ডাকা হরতাল চলাকালে আওয়ামীলীগ-বিএনপি-পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল, ককটেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার বেলা ১২টার দিকে নগরীর কান্দিরপাড়ে ভিক্টোরিয়া কলেজ রোডে এ সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৪৫ রাউন্ড রাবার বুলেট, ৫০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি এবং ২০ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে ৪ পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ৩ জন ও আওয়ামীলীগের ২ জন গুলিবিদ্ধ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ও পুলিশ সূত্র জানায়, রোববার হরতাল চলাকালে আওয়ামীলীগের হরতাল বিরোধী একটি মিছিল নগরীর কান্দিরপাড় লিবার্টি চত্বর দিয়ে যাওয়ার সময় ভিক্টোরিয়া কলেজ রোডে অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থানরত বিএনপির কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় মুহুর্মুহু গুলি ছোঁড়ে উভয় দলের কর্মীরা। বিষ্ফোরণ ঘটানো হয় বিপুল সংখ্যক ককটেল।
আধা ঘন্টাব্যাপী এ সংঘর্ষের সময় ভিক্টোরিয়া কলেজ রোডে চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। আওয়ামীলীগ কর্মীরা এ সময় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে ভাংচুর চালায়। অগ্নিসংযোগ করা হয় একটি মোটর সাইকেলে। পরে পুলিশ এসে বিএনপি কর্মীদের লক্ষ্য করে শর্টগানের গুলি ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এসময় ২০ দলের কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ২৫-৩০টি ককটেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পাল্টা প্রায় অর্ধশতাধিক রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের সঙ্গে হরতালকারীদের কয়েক দফায় ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ৪ পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়। আহতরা হলেন- কোতয়ালী থানার সেকেন্ড অফিসার সালাউদ্দিন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাসির, কনস্টেবল হাসান ও হাবিলদার রুবেল।  এছাড়াও বিএনপির সাইফুল, রুবেল ও জামায়াতের মোশাররফসহ ৩ জন গুলিবিদ্ধ ও ইটপাটকেলের আঘাতে নাসির, সুমন, দিলীপসহ ৬ জন আহত হয়েছে। মুমুর্ষ অবস্থায় সাইফুল ও রুবেলকে ঢাকা প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আওয়ামীলীগের যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমের হাতে ও পায়ে ও নাসির পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়াও ছাত্রলীগের ফারুকসহ ৩ জন আহত হয়েছে।
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর ছাতিপট্টি এলাকায় একটি মিছিল বের করে ২০ দলের নেতাকর্মীরা। এতে পুলিশ বাধা দিলে বিএনপি জাময়াতের নেতাকর্মীরদের সাথে পুলিশের ব্যাপক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ সময় সাতটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির এক পুলিশসহ ৩ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদক আনিসুর রহমান মিঠু দৈনিক মুক্তকন্ঠকে বলেন, বিএনপির কর্মীরা আমাদের হরতাল বিরোধী মিছিলে ককটেল ছোড়ে। এনিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া দৈনিক মুক্তকন্ঠকে জানান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা অবস্থান করে। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ২০ দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তারা বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর করে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন। এ ঘটনায় গোটা কান্দিরপাড় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া নগরী জুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, নগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় পুলিশের এক এসআই, এক কনস্টেবল ও হাবিলদারসহ ৩ জন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ৪৫ রাউন্ড রাবার বুলেট, ৫০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি এবং ২০ রাউন্ড টিয়ার সেল ছুড়ে। চকবাজারেও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs