সর্বশেষ সংবাদ :

মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা কিন্তু সিদ্ধান্ত পরিবর্তন

Share Button

image_153388.pm (6)

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১৫ জানুয়ারী, ২০১৫।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের মতো একটি আগাম নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেটা করতে চেয়েছিলেন এই বছরের মার্চেই। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারণে ও বিএনপির প্রতি জনসমর্থন ও নির্বাচন দিলেও বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে নিদর্লীয় সরকারের অধীনে ছাড়া অংশ নিবে না, আগের এই অবস্থানে থাকার কারণেই তিনি আর নির্বাচন করতে চাইছেন না। সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। এই বছরে নির্বাচন করার সকল পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। মনে করছেন এখন যতদিন পারেন ক্ষমতায় থাকবেন। এরপর নিয়ম মতে সংবিধানের বর্তমান বিধান বহাল রেখেই নির্বাচন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী চেয়েছিলেন জাপান প্রধানমন্ত্রীর মতো এই বছরে একটি নির্বাচন করবেন। সেখানে বিএনপিকেও অংশ নেওয়ার সুযোগ দিবেন। সেই হিসাবে প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। তবে এর বিরোধী ছিলেন সরকারের নীতিনির্ধারক সিনিয়র মন্ত্রীরা। সরকারের তরুণ মন্ত্রীরা এক পক্ষে ছিলেন। সিনিয়র মন্ত্রীদের যুুক্তি ছিল বিএনপির সঙ্গে কোন সমঝোতা হবে না। তারা সমঝোতার দল নয়। আর নির্বাচন দিলে জনগন অতীতে যে রকম ভোট দিয়েছে একদলকে বাদ দিয়ে অন্য দলকে ভোট দিবে। সেটা ঠিক হবে না। তরুণ মন্ত্রীরা বলছিলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে যে সমালোচনা রয়েছে তা দূর করার জন্য নির্বাচন দরকার। সব দিক বিবেচনা করেই শেখ হাসিনা একটি নির্বাচন তার অধীনেই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন আর সেটা করবেন না।

সূত্র জানায়, সরকারের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতার কোন ইচ্ছে নেই। তারা সংলাপ করার কথা মুখে বললেও তা করতে চায় না। তারা মনে করে সব তাদের মতো হতে হবে। সরকার এটা জানার কারণে আবারও ব্যর্থ আলোচনার কোন অবতারণা করে সময় নষ্ট করতে চাইছেন না।

সূত্র জানায়, সরকার বিএনপিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে যে কোন ধরনের ব্যবস্থা নিবে। এখনও যে কোন মূল্যে সব ধরনের আন্দোলন দমন করার কৌশল নিয়েছে। সরকার নিশ্চিত সেটা পারবে তবে আসলেই পারবেন কিনা সেটা নিয়ে নানা জনের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিএনপি মনে করছে এটা করে সরকার বিএনপিকে দমন করতে পারবে না। বদলে যাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। শেখ হাসিনা সংলাপ করতে ও সমঝোতা করবেন। নির্বাচন দিতে বাধ্য হবেন। আর না হলে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হবেন। কিন্তু ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। আর সরকার মনে করছে, বিএনপির চেয়ারপারসনকে আটক করা হলে আন্দোলন কয়েকমাস ধীর গতিতে চললেও তা এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে যাবে। নেতা কর্মীরাও খুব বেশি কিছু করতে পারবে না। তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারবেন না। এই কারণে তার কোন রাজনৈতিক সম্ভাবনাকেই কাজে লাগাতে দিবেন না। এই জন্য যত রকম ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেটা নিবেন।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামা এমাসেই ভারত সফর করার কথা রয়েছে। সেটা করার পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাপারে তারা আগাম নির্বাচন নিয়ে কি চায় সেই বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে। বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগাম নির্বাচন চায়। সেটা করাতে সব ধরনের চাপ দিবে। এই জন্য ভারতের সহায়তা চাইতে পারে। ভারত নির্বাচনের ব্যাপারে সরকারের উপর চাপ তৈরি করলে প্রেক্ষাপট হঠাৎ করেই বদলে যেতে পারে। খালেদার সঙ্গে অমিত সাহার কথা হওয়ার বিষয়টি হয়নি বলে নানা বিতর্ক থাকলেও বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। ভারত বিএনপির পক্ষ নিলে সেই নির্বাচন করা আতœঘাতি হবে।

এদিকে সরকারের নীতি নির্ধারকদের একজন আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক বলেন, বিএনপি ন্যায়সঙ্গ যুক্তিসঙ্গত দাবি নিয়ে আসলে এবং জনগণ এই সরকারকে না চাইলে , জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামলে সরকারের পতন চাইলে সরকার নির্বাচন করার কথা ভাবতো। কিন্তু জনগণ সেটা চাইছে না। এই কারণে ২০১৫-২০১৮ এরমধ্যে কোন আগাম নির্বাচন হবে না। জনগণ সরকারকে পাঁচ বছর থাকার ম্যান্ডেড দিয়েছে বলে এখন তারা বিএনপির পক্ষে যাচ্ছে না। তিনি বলেন, জনগণ সরকারের পাশে রয়েছে বলেই বিএনপির ভুলের মাশুল দিতে রাজি নয়। এই জন্য ২০১৯ সালের আগে কোন নির্বাচন করতে রাজি নয় সরকার। ২০১৯ সালে নির্বাচন করেও জনগণের রায় নিয়ে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতাসীন হওয়ার চেষ্টা করবে। বিএনপি যা বলছে তা অসাংবিধানিক। এই কারণে সরকার কোন আলোচনাও করবে না বিএনপির সঙ্গে। বিএনপি সংলাপের কথা বললে তা গুরুত্বই দিবে না। কারণ সেটা করে কোন লাভ হবে না। বরং দিনের পর দিন কিভাবে বিএনপিকে আরো দুর্বল করা যায়, তাদের আন্দোলন ব্যর্থ করে দেওয়া যায় সেই জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিবে। এখন যতটা কঠোর আছে তার চেয়ে আরো বেশি কঠিন হবে। তারা আন্দোলন করছে কিন্তু জনগণ তাদেরকে সমর্থন দিচ্ছে না।

সূত্র জানায়, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রধান বাধা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তাকে আন্দোলন থেকে সরিয়ে নিতে পারলেই সমস্যা হবে না। এই মুহুর্তে তাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে তাকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তিনি ও তার ছেলে তারেক রহমান দুই জন মিলে বৈধ সরকারকে অবৈধ বলছেন। আর সারা দেশে বিএনপির-জামায়াতসহ তাদের জোটের নেতা কর্মীদেরকে উস্কে দিচ্ছেন সরকারের পতন ঘটানোর জন্য। বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিচার করছে। একদিকে তারা সংলাপ চায়, অন্যদিকে তারা আন্দোলন করে। সরকারের পতন চায়। শেখ হাসিনা মনে করছেন বিএনপি কোন সমঝোতা চায় না। তারা ক্ষমতায় যেতে চায়। এখন তাদের সঙ্গে সংলাপে বসার মানেই হচ্ছে সরকারের নমনীয় ভাব প্রকাশ পাওয়া। সেটা সরকার করতে চাইছে না। সরকার প্রধান তারেক জিয়ার উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ। তিনি লন্ডনে বসে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে সব কথা বলেছেন সেটাকে তিনি তারেক রহমানের ঔদ্বত্য আচরণ ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ বলে মনে করছেন। তাকে তিনি কোনভাবেই ক্ষমা করবেন না। কেবল তার কারণে এই সরকার বিএনপির প্রতি নমনীয় হবে না।

সূত্র জানায়, খালেদা, তারেক সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করছেন। সরকারের পতন ঘটানোর জন্য শৃঙ্খলাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করতে পারেন এমন খবর জানার পর হাসিনা এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আরো কঠোর হওয়ার কথা বলেছেন।

আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন সরকার পতনের আন্দোলন করছেন। ষড়যন্ত্র করছেন। তার কাজই হচ্ছে ষড়যন্ত্র করা। তার আরো একটি কাজ হচ্ছে শৃঙ্খলাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা। তিনি নির্বাচন না করে এখন দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছেন। এখন নির্বাচন করানোর জন্য দেশের পরিস্থিতি খারাপ করার চেষ্টা করছেন। আমরা তার এই ধরনের ষড়যন্ত্র মেনে নেব না। তার সঙ্গে কোন সংলাপ হবে না। বরং সরকার পতনের ষড়যন্ত্র সফল করার জন্য জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে দেশ ও জানমালের যে ক্ষতি করছেন তা ঠেকানোর জন্য আমরা কঠোর হবে।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী আহমেদ আজম খান বলেন, সরকার বিএনপির আন্দোলন ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। আন্দোলন ঠেকাতে না পারলে ও সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী মনে করে সরকার তাকে গ্রেফতার করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেটা করলে সরকার ভুল করবে। দেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে উঠবে। এখন আলোচনার কথা বলা হচ্ছে তখন আর সেটারও সুযোগ থাকবে না। একটাই লক্ষ্য হবে সরকারের পতন। সরকারের পতন হলে অন্য যারা দায়িত্ব নিবে তাদের সঙ্গে তখন আলোচনা হবে। সংলাপ না করলে এমন পরিস্থিতি করা হবে সরকার আর সংলাপ করারও সুযোগ পাবে না।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs