সর্বশেষ সংবাদ :

খোন্দকার মোশতাক আহমদ

Share Button

mostaq

রিপোর্টারঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম,ঢাকা
০৪ অক্টোবর ২০১৪

খোন্দকার মোশতাক আহমদ (১৯১৯-১৯৯৬) মুক্তিযোদ্ধা, মন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি। কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার দশপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি লাভের পর ১৯৪২ সালে খোন্দকার মোশতাক আহমদ রাজনীতিতে যোগদান করেন। পাকিস্তান আন্দোলনে তিনি ছিলেন একজন একনিষ্ঠ কর্মী।

তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে যুল্ফদ্ধফত্থ¥Ÿ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মোশতাক আহমদ দাউদকান্দি-হোমনা নির্বাচনী এলাকা থেকে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ৯২-ক ধারা জারী করে যুক্তফ্রণ্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার পর (১৯৫৪) তিনি গ্রেফতার হন এবং জেল থেকে মুক্তিলাভের পর ১৯৫৫ সালে যুক্তফ্রণ্ট সংসদীয় দলের চীফ হুইপ নিযুক্ত হন। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হলে তিনি গ্রেফতার হন। ১৯৬৬ সালে ছয়দফা ঘোষণার পর পুনরায় তিনি গ্রেফতার হন। ১৯৬৯ সালের প্রথম দিকে ৮টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে আইয়ুব বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হলে তিনি এর পূর্ব পাকিস্তান কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তিনি রাওয়ালপিণ্ডিতে আইয়ুব খান আহূত গোলটেবিল বৈঠকে যোগদান করেন (১৯৬৯)।

খোন্দকার মোশতাক আহমদ ১৯৭০ সালে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদীয় মন্ত্রী। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় তিনি বিদ্যুৎ, সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরে বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন (১৯৭২-১৯৭৫)। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একজন সদস্য হিসেবে তিনি সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠিত হলে তিনি এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মনোনীত হন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সামরিক বাহিনীর কিছুসংখ্যক সদস্যের হাতে রাষ্ট্রপতি শৈখ মুজিবুর রহমান নিহত হলে মোশতাক আহমদ নিজেকে দেশের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। তিনি মোট ৮৩ দিন এ বিতর্কিত পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি ইনএডমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান ‘জয়বাংলা’র পরিবর্তে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান চালু করেন, এবং ‘বাংলাদেশ বেতারে’র নামকরণ করেন ‘রেডিও বাংলাদেশ’। তাঁর সময়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতা ৗসয়দ নজরূল ইসলাম , তাজউষ্টিন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও .ৈইৈচ.মৈ কামারূব্ধামান নির্মমভাবে নিহত হন। ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন।
মোশতাক আহমদ ১৯৭৬ সালে ডেমোক্রেটিক লীগ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। একই বছর তৎকালীন সামরিক সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিনি গ্রেফতার হন। সামরিক সরকারের দায়ের করা দুটি দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তিনি পাঁচ বছর কারাদণ্ড ভোগ করেন। জেল থেকে মুক্তিলাভের পর তিনি পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯৬ সালের ৫ মার্চ তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs