সর্বশেষ সংবাদ :

খালেদা জিয়া অফিসে বিব্রত সরকার

Share Button

15516_1542632516022977_3506726587038799769_n

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১২ জানুয়ারী, ২০১৫।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করা নিয়ে কিছুটা বিব্রত সরকার। তবে তাকে অবস্থান পরিবর্তনের জন্য চাপ দেয়া হবে না। এমনকি খালেদা জিয়াকে তার বাসা ছাড়া অন্য কোথাও যেতে দেবে না সরকার। সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের ধারণা, আর কয়েক দিন অতিবাহিত হলেই খালেদা জিয়া স্বেচ্ছায় বাসায় ফিরে যাবেন। বাসায় না গেলে তিনি গুলশান কার্যালয়ে কি কি জিনিসপত্র নিয়ে অবস্থান করছেন, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করবে সরকার। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী, অচিরেই খালেদা জিয়া ধৈর্য ও মনোবল হারাবেন এবং কার্যালয় ত্যাগ করে বাসায় ফিরে যাবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার রাতে গণভবনে কয়েকজন দলীয় নেতার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচির বিষয়ে কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেন। বৃহস্পতিবার গণভবনে আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের অনির্ধারিত বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, অবরোধের নামে জঙ্গিবাদী তৎপরতা অব্যাহত রাখলে প্রয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রী শনিবার দৈনিক মুক্তকন্ঠকে বলেন, খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ওই মন্ত্রীর বক্তব্য, তার (গ্রেফতারের) হয়তো প্রয়োজন হবে না। তিনি মনোবল হারিয়ে বাসায় ফিরে যাবেন।

একই বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শনিবার দৈনিক মুক্তকন্ঠকে বলেন, অবরোধ ব্যর্থ হওয়ায় অচিরেই ধৈর্যচ্যুত হবেন বিএনপি নেত্রী। এ নেতা জানান, খালেদা জিয়াকে বাসা ছাড়া গুলশান কার্যালয়ের বাইরে অন্য কোথাও যেতে দেয়া হবে না। বাসায় ফিরতে না চাইলে তিনি কার্যালয়ে কি কি জিনিস নিয়ে আরাম-আয়েশের জীবন কাটাচ্ছেন তা সবিস্তারে প্রকাশ করবে সরকার।

সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের এ অবরোধ কর্মসূচি ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন সরকারের দায়িত্বশীল মহল। তবে তাদের কিছুটা টেনশন রয়েছে চোরাগোপ্তা হামলা ও খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে টানা অবস্থানের বিষয়ে। বিএনপি নেত্রীর কর্মকাণ্ড দেশ ও দেশের বাইরের গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা সরকারের টেনশনের কারণ। এ ছাড়াও বিএনপির গুলশান কার্যালয়টির অবস্থান যেহেতু কূটনীতিকপাড়ায়, সে কারণে খালেদা জিয়ার অবস্থানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে বিদেশী কূটনীতিকরা অনেক বেশি সজাগ থাকছেন এবং সহজেই অবহিত হচ্ছেন। এ অবস্থা নিয়েও বিব্রত সরকার।

এদিকে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে, খালেদা জিয়া নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে যেতে না পারলে গুলশান কার্যালয়ের সামনেই নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান নিতে পারেন। রোববার এমন তথ্যের পরই সেখানে আবার বালুভর্তি ট্রাক পাঠানো হয়। এমনকি এ এলাকায় সাধারণের চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বিব্রত হওয়ার এটাও অন্যতম কারণ।সার্বিক পরিস্থিতিতে তাই সরকার চাইছে, খালেদা জিয়া ধৈর্য হারিয়ে বাসায় ফিরে যান। সে লক্ষ্যে তারা কৌশল প্রণয়ন করছেন। চোরাগোপ্তা হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে নাশকতাকারীদের দেখামাত্র যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। চলমান সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ দৈনিক মুক্তকন্ঠকে বলেন, খালেদা জিয়া যখন ইচ্ছা বাসায় যেতে পারেন। তিনি নিজের ইচ্ছায় গুলশান কার্যালয়ে গেছেন, আবার নিজের ইচ্ছায় বাসায় ফিরতে পারেন। যদিও তার নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে কিছু ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অবরোধের নামে অরাজকতা ও নাশকতা চালানো হলে সরকার অন্য ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। তবে আমরা সেসব পদক্ষেপ নিতে চাই না। নিশ্চয় তিনিও (খালেদা জিয়া) ক্ষতিকর কিছু করে দেশের জনগণকে হতাশ করবেন না।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs