সর্বশেষ সংবাদ :

জামায়াতের কাজ বিএনপি করে দিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

Share Button

তিনি বলেছেন, ‘খুন’ ও জানমালের ক্ষতি করে বিএনপি নেত্রী ‘জামায়াতের কাজগুলি করে দিচ্ছেন’।

বৃহস্পতিবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে বাংলাদেশে অর্থনীতি সমিতির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের যে লক্ষ্য তাতে আমরা পৌঁছাতে পারব। প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পারব। তবে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন কিছু কিছু ঝামেলা তো আছেই। জ্বালাও-পোড়াও…জনগণের সম্পৃক্ততা না পেলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা জঙ্গিবাদি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় অনেকে। সেই কাজগুলিই এখন চলছে। এটা হচ্ছে দুর্ভাগ্য।”

তিনি বলেন, মানুষকে পুড়িয়ে মারা, বাসের ঘুমন্ত ড্রাইভারকে পোড়ানো, যাত্রীদের গায়ে আগুন দেওয়া, মানুষ খুন করা- এগুলো কোনোভাবেই গণআন্দোলন হতে পারে না।

“এটাতো আন্দোলন না, এটা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। এটা গণআন্দোলন না, এটা জঙ্গিবাদি কর্মকাণ্ড।”

বিগত বিএনপি সরকারের সময়ে ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশেও জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “তখন একেবারে জঙ্গিদের যেন পুরো তাণ্ডব ছিল। বাংলা ভাই টাই কতকিছু সৃষ্টি হয়েছিল। আমরা সরকারে আসার পরে সেগুলি কঠোর হস্তে দমন করি।”

নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় ‘ব্যথিত হয়ে’ বিএনপি গত নির্বাচনে অংশ নেয়নি মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তবে তারা নির্বাচন বানচাল করার নামে মানুষ হত্যা, গাড়ি পোড়ানোসহ ‘তাণ্ডব’ চালিয়েছিল।”

গত সংসদ নির্বাচন ঘিরে ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে গত বছরের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে মোট ৩১দিন হরতাল-অবরোধ করে বিএনপি ও তাদের শরিকরা, যাদের দাবি ছিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন।

নির্বাচনের পর গত বছর পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত থাকলেও নতুন বছরে আবারও বিএনপি জোটের অবরোধ শুরু হয়। নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিনে সমাবেশ করতে না পেরে নিজের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত সোমবার লাগাতার এই অবরোধের ডাক দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “উনি একেবারে অবরোধের ডাক দিয়েছেন। উনার অবরোধ কী? মানুষ খুন করা, বাস পোড়ানো, মানুষের ক্ষতি করা। অর্থাৎ, জামায়াতের যে কাজগুলি সেগুলি করে দিচ্ছে তারা।

“আপনারা চিন্তা করে দেখেন, যদি নির্বাচন বানচাল হত, তাহলে কে আসত? সেই ২০০৭ সালের মত আবার ইমার্জেন্সি। আবার অগণতান্ত্রিক কোনো শাসন ব্যবস্থা। সেখানে দেশের মানুষ কী পেত?”

৫ জানুয়ারি নির্বাচন হওয়ায় গণতন্ত্র ‘সুসংগঠিত’ হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক বছরে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে ‘মর্যাদার আসনে’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বিদ্যুৎ, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও তার সাফল্যের বিবরণ তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আবুল বারকাতের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে সমিতির ‘আজীবন সন্মানীয় সদস্য’ ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া অর্থনীতিতে অবদানের জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক অর্থমন্ত্রী অশোক মিত্র, বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সহ-সভাপতি এবং বর্তমানে ওয়াশিংটনে ফুড পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের গবেষণা ফেলো অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মুশাররফ হোসেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর লুৎফর রহমান সরকারকে সমিতির পক্ষ থেকে সন্মাননা দেওয়া হয়।

বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ক্ষমতায় আসার জন্য বিএনপি ‘বিদেশিদের’ গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়েছিল।

“এক সময় শোনা গেল গ্যাসের ওপর বাংলাদেশ নাকি ভাসছে। আপনারা জানেন আমার ওপর প্রচণ্ড প্রেসার ছিল যে, বাংলাদেশে এত গ্যাস, গ্যাস বিক্রি করতে হবে। গ্যাসের মালিক বাংলাদেশ। গ্যাস উত্তোলন করবে এক দেশের কোম্পানি, কিনবে আরেক দেশ।

“প্রচণ্ড প্রেসার। আমি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না, জনস্বার্থে রাজনীতি করি। রক্ত দিয়ে এদেশের স্বাধীনতা এনেছি। আর এদেশের সম্পদ ক্ষমতার জন্য কারো হাতে তুলে দেওয়া এটা কখনোই আমরা করি না।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “আমার এখনো মনে আছে-তত্বাবধায়ক সরকার প্রধান লতিফুর রহমানের বাসায় আমেরিকা থেকে তাদের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এসেছিলেন। সেখানে আমি আর জিল্লুর রহমান সাহেব এবং বিএনপির চেয়ারম্যান আর মান্নান ভুঁইয়া। ওই বাসায় আমাদের লাঞ্চের দাওয়াত দেয়া হয়েছিল। সেখানেই এই বিষয়টার একটা ফায়সালা হওয়ার কথা ছিল।

“আমি সোজা বলে দিয়েছি- আমার গ্যাস কত আছে আমি জানি না। আর গ্যাস যেটুকু থাকবে, প্রথম অগ্রাধিকার আমার দেশের মানুষের। তাদের চাহিদা মেটাব। আগামী প্রজন্মের জন্য অন্তত ৫০ বছরের মজুদ থাকবে। এর অতিরিক্ত যদি থাকে সেটা আমি বলতে পারি, তার বেশি না।

“ওইটা ছিল একেবারে ফাইনাল স্টেজ। আমি সেখানে ওই কথা বলেছি। আর বিএনপি থেকে সোজা মুচলেকা দেয়া হয়েছিল যে, তারা ক্ষমতায় আসলে সমস্ত গ্যাস বিক্রি করে দেবে। আমি ওখান থেকে বেরিয়ে চলে এসেছিলাম। কারণ ওইটা আমার পক্ষে সম্ভব না। এবং সেদিনই আমরা বুঝেছিলাম ইলেকশনে কী হতে পারে।”

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, “একটু হিসাব করে যদি দেখেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে যারা সরকার প্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন তাদের মধ্যে শুধু বঙ্গবন্ধু আর আমি, আমরা দুজনেই কিন্তু এই মাটির সন্তান, এই মাটিতেই জন্মগ্রহণ করেছি।

“কাজেই মাটির টান, মাটির প্রতি ভালোবাসা, মানুষের প্রতি ভালবাসা-এটা আমাদের থেকে বেশি কারো থাকতে পারে সেটা আমি বিশ্বাস করি না।”

এসময় পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধের ‘নেপথ্য কাহিনী’ নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

“এক পদ্মা সেতু নিয়ে কত নাটক। উদ্দেশ্য অন্যরকম ছিল। ব্যক্তিবিশেষকে বসিয়ে বাংলাদেশের এই বিশাল সমুদ্রসীমা থেকে শুরু করে যা কিছু সম্পদ ‘সবই বাপের ফল, সবকিছুই লুটের মাল’ এটাইতো কোনো কোনো মহলের চেষ্টা ছিল। কিন্তু জানে যে, বঙ্গবন্ধুর মেয়ে ক্ষমতায় থাকলে এটা সম্ভব না।”

দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যে কোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত বলে জানান শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের মানুষ যাতে আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশ্বে চলতে পারে সে ব্যবস্থা করতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs