সর্বশেষ সংবাদ :

নুরু সরদার এবং একটি মিছিল:-মুকুল খান। সম্পাদকীয়।

Share Button
309892_422235337856210_194752672_nm
সম্পাদকীয় :————— মুকুল খাঁন
সিডনি, অষ্টেলিয়া, ০৮ জানুয়ারী, ২০১৫।
নুরু সরদার এবং একটি মিছিল
___________________ মুকুল খান

সকাল থেকে নুরু সরদার খুব বে-চেয়েন হয়ে পায়চারী করে গুলশানের এই ফ্লাটের অলিতে গলিতে। সাত সকালের খবরে প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রীকে অন্তরিন করার

সংবাদ তাকে প্রকৃতই বিচলিত করে। এই শতাব্দীর প্রতিনিধি হয়ে সরকার যে ফ্যাসিবাদী নীতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে কিংবা সেই সমাজে তার অবস্থান কোথায়

থাকবে, কিংবা আদৌ থাকবে কিনা তা নিয়ে নুরু সরদার বিচলিত না হয়ে পারে না। আজ সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দেশের পশু-পাখি গুলো পর্যন্ত মাথা নিছু করে

সু-সু করে, খাবার সংগ্রহ করে, প্রেম করে, নদীতে স্নান করতে যায়, সঙ্গম করে। এই সাত সকালে নুরু সরদার এই সব ভাবে নিজের উপর বিরক্ত হয়। নুরু সরদার বিরক্ত হয় এই সমাজের রাজনীতি নামক সোনার হাঁসের হাড্ডিসার শরীরের শিরা-উপশিরা গুলোর দিকে তাকিয়ে।

বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে নুরু সরদার তার প্রাতরাস সেরে পুরান ঢাকার ইসলামপুরে কাপড়ের দোকানের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ে। গুলশান থেকে এই অবরধের দিনে নুরু হেটেই

রওনা দেয়। ইসলামপুর কখন পৌঁছাবে তা যদিও নুরু জানে না তবুও নুরু হাঁটতে থাকে। একটি রিকশাওলার সাথে ভাব জমিয়ে নুরু যখন মালিবাগ এসে সিগারেট জ্বালায়

তখন মৌচাক থেকে আশা একটি মিছিল তার দৃষ্টি এড়াতে পারে না। “গনতন্ত্র মুক্তি পাক, ফ্যাসিবাদী নিপাত যাক, এ লড়াই গণতন্ত্রের, এ লড়াইয়ে জিততে হবে। এ

লড়াই বাঁচার লড়াই, এ লড়াইয়ে জিততে হবে”। নুরু খুব যে বিচলিত হয় এই মিছিল দেখে তা কিন্তু না। যদিও অতীতের মতো নুরুর কাছে এই মুক্তির মিছিল বরাবরই

একটি স্বপ্ন নিয়ে হাজির হয়। নুরু যখন বন্ধু নুর হোসেনের সাথে আশির দশকের সেই গণতন্ত্রের মিছিলে আগুন ঝরানো স্লোগান তুলেছিল, সেই দিনটির কথা নুরু সরদার

আজো ভুলেনি। “মিছিলের তরুন, স্বাধীনতার দাবী, গণতন্ত্রের দাবী”। হ্যাঁ, নুর আর নুরু দুই দস্তই ছিল তরুণ আর টগবগে। কিন্তু আজ এই মিছিলে মুক্তির আর

স্বাধীনতার ডাক তার কাছে খুব পুরাতন কোন আধুনিক বাংলা গানের মতই মনে হয়। শুনতে ভালো লাগে আবার কোন রকন চেষ্টা ছাড়াই ভুলে যাওয়া যায় অনায়াসে।

তবুও নুরু এই মিছিলের কথা না ভেবে পারে না। “মিছিলের রক্ত গরম করা স্লোগান আমার না, মিছিলের ঘাম ঝরানো সংগ্রাম আমার না” হেরে যাওয়াদের এই অনুভূতি

নুরু দেখেছে তার সন্তানদের মাঝে। কারন, নুরু তার সন্তানদের অন্য কোন প্রকৃত সমাজ বদলের, প্রকৃত সংগ্রামের কথা জানাতে পারেনি। দিতে পারেনি অন্য কোন বিপ্লবের

সুসংবাদ। বলতে পারেনি সর্বহারাদের আর্তনাদের ইতিহাস, আর পারেনি বলেই নুরু সরদার বিচলিত হয়। মিছিলটা হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে যায় টিভি ভবনের

দিকে। মিছিলের শেষে যেই নারী কর্মী মুক্তির স্লোগান দিয়ে দিয়ে তার সামনে দিয়ে হেটে গেল তাকে দেখে নুরুর চোখ লজ্জায় মাটিতে নেমে আসে। এই সংগ্রামীর বেশভূষা,

চলন-বলন কিছুই দারিদ্রের বাইরের কোন গল্প বলল না পেরিয়ে যাবার আগে। আর তখনই নুরু সরদার তার দিনের সবচেয়ে বড় ভুলটার কথা উপলব্ধি করলো। পায়ের

জুতোজোড়াকে খুলে বগলের তলায় নিয়ে, সাদা লুঙ্গি টাকে হাঁটু পর্যন্ত তুলে গিট দিয়ে নুরু মিছিলটাকে ধরে ফেলে। বাম হাতে জুতোজোড়াকে নিয়ে মুষ্টিবদ্ধ ডানহাত আকাশে

তুলে সে স্লোগান ধরে “গনতন্ত্র মুক্তি পাক, ফ্যাসিবাদীরা নিপাত যাক, এ লড়াই গণতন্ত্রের, এ লড়াইয়ে জিততে হবে। এ লড়াই বাঁচার লড়াই, এ লড়াইয়ে জিততে হবে”।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs