সর্বশেষ সংবাদ :

নোয়াখালীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ৩ : গুলিবিদ্ধ ৬

Share Button

06_clash_press+club_050115_0006_200081m

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ০৭ জানুয়ারী, ২০১৫।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী শহরে অবরোধকারী, ছাত্রলীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী দফায় দফায় সংঘর্ষে এক ব্যবসায়ীসহ নিহত হয়েছে ২ জন। ঘটনায় ৬জন গুলিবিদ্ধ ও পুলিশসহ আহত হয়েছে কমপক্ষে অর্ধশত জন। নিহত ব্যবসায়ীর নাম মিজানুর রহমান রুবেল।
নিহত রুবেল (৩০) সেনবাগ উপজেলার ৯নং শিবপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের তোফায়েলের ছেলে এবং চৌমুহনীর বড় পোল সংলগ্ন তোফায়েল স্টোর-এর ব্যবসায়ী। অপর নিহতের নাম মহসিন। মহসিন (৩০) হাজীপুর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। গুলিবিদ্ধ গুরুতর আহত জাহাঙ্গীর আলমের অবস্থা আশংকাজনক। এদিকে পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চৌমুহনীর বিভিন্ন স্থান থেকে ১৪ জনকে আটক করেছে।
প্রতিবাদে রুবেল ও মহসিনকে নিজেদের কর্মী দাবী করে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা নোয়াখালীতে হরতালের ডাক দেয় জেলা বিএনপি। এদিকে ঘটনায় পুরো চৌমুহনী এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং জেলা শহর ও উপজেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চৌমুহনী শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নোয়াখালী আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন- বেগমগঞ্জ উপজেলার দূর্গাপুরের নূর মোহাম্মদের ছেলে জাহাঙ্গীর (৩৭), বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীর গণিপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে সাহাব উদ্দিন (৩৫), উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মাসুদুর রহমান (১২) ও ঝিনাইদহ জেলার বাঁধখালি এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে ও জমিদারহাট ব্যাংকের আনসার সদস্য জামাল হোসেন (৩২), কামরুল (৩২)। আহতদের মধ্যে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) জসিম উদ্দিন, চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জিসান আহম্মদ, চৌমুহনীর টিএসআই সাইফুল সিকদার রয়েছেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ফরিদ উদ্দিন জানান, রাত ৮টা পর্যন্ত নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি লাশ এসেছে। নিহত রুবেল বুকের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হয়। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের কারণে রুবেল নিহত হয়।  গুরুতর আহত জাহাঙ্গীর-এর পিঠে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় তার অবস্থাও আশংকাজনক বলে তিনি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারে অবরোধের সমর্থনে চৌমুহনী পৌরসভা বিএনপির সভাপতি জহির উদ্দিন হারুন ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বাবু কামাঙ্কা চন্দ্র দাস-এর নেতৃত্বে চৌমুহনী বাজার থেকে একটি মিছিল বের করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি ফেনী রোডের কাচারি বাড়ী মসজিদ পর্যন্ত গিয়ে পুনরায় বাজারের দিকে আসার পথে রেইল লাইন এলাকায় এসে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছুঁড়ে। এতে পুলিশ, পথচারী, ব্যবসায়ীসহ অন্তত বিএনপির অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়। এসময় সংঘর্ষকারীরা ৫টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় ও ব্যাপক ভাংচুর করে।
জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বাবু কামাঙ্কা চন্দ্র দাস নিহত রুবেল ও মহসিনকে যুবদলের কর্মী দাবী করে জানান, আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবদল কর্মী রুবেল ও মহসিন নিহত হয়েছে। এছাড়া আমাদের ৪জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশত নেতা কর্মী আহত হয়েছে।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) আইনুল হক জানান, বিএনপি মিছিল থেকে পুলিশ দেখামাত্রই বিএনপির কর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও নিরাপত্তার স্বার্থে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করে। কিন্তু এর পরও বিএনপি কর্মীরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। পরে জেলা শহর ও পার্শ্ববর্তী থানাগুলো থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে  আনুমানিক ২৫০ রাউন্ড গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৪জনকে আটক করা হয়েছে।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs