সর্বশেষ সংবাদ :

৯ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা শুরু : প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন

Share Button

10405637_316480085217674_4482428693278640435_n

রিপোর্ট:দৈনিক মুক্তকন্ঠ
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারী, ২০১৫।

আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে তাবলিগ জামাতের ৪৯তম বিশ্ব ইজতেমা। রাজধানীর উপকন্ঠে শিল্প নগরী টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে আগামী ১১ জানুয়ারি আখেরী মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। চার দিন বিরতির পর আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে এবং ১৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের আখেরী মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে বলে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির সদস্য আবদুল কুদ্দুস জানিয়েছেন।

মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত এই বিশ্ব ইজতেমায় প্রতিবছর দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করে থাকে। প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিশাল ময়দানে চটের তাবু ও বাঁশ দিয়ে প্যান্ডেল তৈরির কাজসহ অন্যান্য সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে দেশ-বিদেশের তাবলিগ জামাতের মুসল্লিরা জমায়েত হবেন বলে ইজতেমার আয়োজকরা জানান। এরমধ্যে প্রথম পর্বে ৩৩টি জেলা এবং দ্বিতীয় পর্বে ২১ জেলার তাবলিগ জামাতের মুসল্লিরা শরিক হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ১৯৬৬ সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে পাগার এলাকায় তাবলিগ জামাতের তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ১৯৬৭ সাল থেকে বর্তমান স্থানে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় গত তিন বছর যাবৎ দু’দফায় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার প্রতিনিধি যোগদান করে থাকেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল জানান, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের মুসল্লিদের সার্বিক সুযোগ-সুবিধাসহ আনুষঙ্গিক কাজ সুনিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায় থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিদেশিদের জন্য আলাদা টিন শেড দিয়ে বিশেষ প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশীদ জানান, অন্যান্য বারের মতো এবারও সেনাবাহিনী, র্যা ব, পুলিশ, আনসার ও সাদা পোশাকে প্রায় ১০ হাজার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইজতেমা এলাকায় নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকবে শর্টসার্কিট ক্যামেরা, ওয়ার্চ টাওয়ার ও হেলিকপ্টারের সার্বিক ব্যবস্থা। এছাড়া উচ্চ টাওয়ার থেকে র্যা বের পর্যবেক্ষণ দল ময়দানের চারপাশ তদারকি করবে। এছাড়া ইজতেমা চলাকালীন সময়ে র্যা বের নিরাপত্তা হেলিকপ্টার আকাশ পথে টহল দেবে। এছাড়া তুরাগ নদীতে স্পিড বোটে টহল অব্যাহত থাকবে। ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের অবাধ চলাচলের জন্য তুরাগ নদীতে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা পন্টুন সেতু তৈরি করেছেন। সেই সঙ্গে তুরাগ নদীর উপর সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ভাসমান সেতুও তৈরি করা হবে। মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য থাকবে বাংলাদেশ রেলওয়ের ২২টি বিশেষ ট্রেন এবং বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ ৩০০টি বাস বিশেষ বাস সার্ভিস পরিচালনা করবে। এছাড়া বিদেশী অতিথিদের জন্য হজরত শাহজালাল (রহ,) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইজতেমা ময়দান পর্যন্ত বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইজতেমায় লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সেবা প্রদান করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ৪০ থেকে ৪৫টি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পালন করবে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন মশক নিধনসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ তদারকি করবে বলে জানা গেছে। টঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন জানান, এবারের বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রথম পর্বে ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, ভোলা, যশোর, বাগেরহাঁট, বান্দরবন, ফেনী, সিলেট, মেহেরপুর, রাজশাহী, জয়পুরহাঁট, নাটোর, হবিগঞ্জসহ ৩৩টি জেলা এবং দ্বিতীয় পর্বে ৩১টি জেলার মুসল্লিরা অংশ নেবেন।

 

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs