সর্বশেষ সংবাদ :

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মিথ্যাচার করেছেন:-জামায়াতে ইসলামী

Share Button

Jamaat

দৈনিক মুক্তকন্ঠ রিপোর্ট:
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারী, ২০১৫

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিথ্যাচার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর ভারাপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ।

এক বিবৃতিতে সোমবার রাতে মকবুল আহমাদ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রত্যাখ্যান করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একটি কালো দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এদিন জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করে। ওই নির্বাচনের পূর্বে বুদ্ধিজীবী ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ দেশী-বিদেশী মহল ও জাতিসংঘ সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংলাপের ওপর তাগিদ দিয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের একগুয়েমী ও ক্ষমতা দখলের অসৎ মনোবৃত্তি সংলাপকে ব্যর্থ করে দেয়।

বিবৃতিতে মকবুল আহমাদ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার পরিকল্পিতভাবে বিরোধী দলকে নির্বাচনের বাইরে রেখে আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন দিয়ে একটি সাজানো ও পাতানো নির্বাচনের আয়োজন করে। দেশের জনগণ এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে। শতকরা ৫ ভাগ ভোটারও ভোটকেন্দ্রে যায়নি। জনগণের নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলেছিলেন, এটি নিয়ম রক্ষার ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার নির্বাচন। তিনি আরও বলেছিলেন, প্রয়োজনের তাগিদেই এ নির্বাচন করতে হয়েছে। আজ এক বছরের মাথায় এসে তিনি ভোটারবিহীন তামাশার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর জাতির সামনে তার ভাষণে যে মিথ্যাচার করেছেন, তা দুঃখজনক ও কলঙ্কজনক। প্রধানমন্ত্রী তার বিবেকবোধ হারিয়ে ফেলেছেন, যার জন্য তিনি এ ধরনের আবোল-তাবোল বক্তব্য প্রদান করেছেন। বাংলাদেশের জনগণ তার এ মিথ্যা ও উদ্ভট ভাষণ প্রত্যাখ্যান করছে।

বিবৃতিতে মকবুল আহমাদ আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বেকারত্ব লাঘব, ব্যবসা-বাণিজ্য, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের যে বিভ্রান্তিকর ও কথার পঙক্তিমালায় সাজানো ভাষণ তিনি পেশ করেছেন, তা বাস্তবতা বিবর্জিত একটি হাস্যকর উপাখ্যান ছাড়া আর কিছু নয়। প্রকৃতপক্ষে দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয়কর পরিস্থিরি সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে।

যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে জামায়াত নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে প্রহসনের বিচারের আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে মকবুল বলেন, এ বিচার বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক মহলের কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। আন্তর্জাতিক মহল থেকে এ বিচার সম্পর্কে তীব্র আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে। দেশের জনগণ বিচারের নামে এই প্রহসনকে মেনে নেয়নি।

বিবৃতিতে মকবুল আওয়ামী লীগের শাসনকাল, দুর্নীতি, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, ডেসটিনি-হলমার্ক-পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারি, বিভিন্ন টিভি ও পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়াসহ নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs