সর্বশেষ সংবাদ :

গুলশানে খালেদা জিয়ার অফিসের সামনে যা ঘটছে

Share Button
image_171628.gulshan_office_640x360_focusbangla
দৈনিক মুক্তকন্ঠ রিপোর্ট:
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারী, ২০১৫
গাবতলী থেকে বালুভর্তি ট্রাক চালিয়ে যাচ্ছিলেন বাচ্চু মিয়া। পথে পুলিশের সিগন্যাল পেয়ে থামতে হলো। পুলিশ এসে কাগজপত্র দেখতে চাইলো। সাথে কোনো কাগজপত্র ছিল না। পুলিশ বললো, আসো আমাদের সঙ্গে। বালুভর্তি ট্রাক চালিয়ে পুলিশের পেছন পেছন বাচ্চু মিয়া এসে থামলেন গুলশানের এক তিনতলা বাড়ির সামনে। রবিবার রাত থেকে আছেন সেখানে। দুই দিন ধরে কিছু খাই নাই। পুলিশও কোনো খাবার দেয় নাই। কখন যে এখান থেকে ছাড়া পামু জানি না, বললেন বাচ্চু মিয়া।
গুলশান ৮৬ নম্বর রোডের দুই প্রান্তেই সবুজ উদ্যান। রবিবার সকাল থেকে পুরো বাংলাদেশের নজর এই রাস্তার দিকে। রাস্তার দুই দিকেই আড়াআড়িভাবে পার্ক করা অনেকগুলো ট্রাক। সর্বমোট ১১টি। ট্রাকের ফাঁকে ফাঁকে পুলিশের গাড়ি। ইউনিফর্মধারী পুলিশ। সাদা পোশাকের পুলিশ। কালো পোশাকের র‍্যাব। তিনতলা যে বাড়িটির ভেতর বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া গতকাল থেকে কার্যত বন্দি হয়ে আছেন, তার সামনে এখন শখানেক সাংবাদিকের জটলা। পুলিশের মতো তারাও গতকাল থেকে ক্যাম্প করে আছেন এখানে। ফুটপাথের ওপর কয়েকটি টুল। সেখানে বসে অলস আড্ডায় সময় কাটাচ্ছেন কেউ।
টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সাংবাদিকরা অবশ্য বেশ ব্যস্ত। বাঁশ আর স্টিলের পাইপ দিয়ে একটা প্ল্যাটফর্ম মতো বানানো হয়েছে। তার ওপর টেলিভিশন ক্যামেরা। ঘণ্টায় ঘণ্টায় লাইভ আপডেট যাচ্ছে স্যাটেলাইট টিভিতে।
সমস্যা একটাই। এখানে কোনো দোকানপাট নেই। এরকম মানুষের জটলায় ঝালমুড়ি-চানাচুরওয়ালাদের ভালো ব্যবসা হওয়ার কথা। কিন্তু পুলিশ তাদের ত্রিসীমানায় ঢুকতে দিচ্ছে না। সিগারেট ফুরিয়ে গেছে অনেকক্ষণ, সিগারেট কিনতে না পেরে আক্ষেপ করছিলেন একজন সাংবাদিক। সকালে অবশ্য ভালো নাস্তা করার সুযোগ পেয়েছেন সাংবাদিকরা। নাস্তার প্যাকেট পাঠানো হয়েছে বিএনপির তরফ থেকে।
নির্ঘুম রাত
মূল ফটক পেরিয়ে বাড়ির আঙিনায় ঢুকলে চোখে পড়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটা মূর্তি। বাড়ির রাস্তার দিকের দেয়ালজুড়ে খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানে ছবি। বাড়ির নিচতলায় বিশাল এক হলঘরে বসে আছেন কিছু সাংবাদিক আর খালেদা জিয়ার কয়েকজন ব্যক্তিগত স্টাফ। যে সাংবাদিকরা গত রাতে এই বাড়িতে ঢুকেছিলেন, তাদের অনেকে সেখানেই আটকে পড়েছেন। নতুন কাউকে আর ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। যারা ঢুকেছেন তারা বেরুতে পারছেন না।
সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠলে আরও কয়েকটি রুম। একটি রুমে টেলিভিশন চলছে। সেখানে লাইভ দেখানো হচ্ছে বাংলাদেশের এই সর্বশেষ রাজনৈতিক সংকটের চিত্র।
“আমরা সারারাত নির্ঘুম কাটিয়েছি”, বলছিলেন খালেদা জিয়ার প্রেস উইং এর এক কর্মকর্তা শায়েরুল কবির খান। “সব মিলিয়ে এখানে প্রায় ৫০ জনের মতো লোক আছেন। সাংবাদিক, অফিসের স্টাফ, চেয়ারপারসনের পার্সোনাল স্টাফ সব মিলিয়ে।”
খালেদা জিয়া এই বাড়িতে আছেন শনিবার থেকে। পর পর দুই রাত তিনি কিভাবে কাটালেন এই বাড়িতে?
“এখানে তো ঘুমানোর কোনো ব্যবস্থা নেই, কোনো বেডরুম নেই। তাঁর সঙ্গে সেলিমা রহমান সহ কয়েকজন মহিলা নেত্রী আছেন। তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতে হয়েছে”, জানালেন শায়েরুল কবির খান।
আর খাবার দাবারের কি ব্যবস্থা?
“খাবার আসছে বাইরে থেকে। কিন্তু বাড়ির যে তিনটি ফটক তিনটিতেই এখন তালা। কাজেই খাবার আনতে গিয়েও সমস্যা হচ্ছে।”
তালা রহস্য
বিএনপি নেত্রীর বাড়ির গেটে আজ সকালে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির গেট পর্যন্ত হেঁটে গিয়ে দেখি তালাটাকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে পুলিশ। বললাম, একটু সরে দাঁড়াবেন, তালাটা দেখতে চাই। কে তালা দিয়েছে, তা পুলিশ বলছে না। প্রত্যক্ষদর্শী এক সাংবাদিক আমাকে জানালেন, পুলিশই এই তালা ঝুলিয়েছে, নিজের চোখে দেখেছেন তিনি।
খালেদা জিয়ার একজন মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, দুপুরের পর তিনি বাইরে বেরুবেন। কিন্তু তালা খোলার কি ব্যবস্থা হবে, সেই প্রশ্ন অমীমাংসিত।
প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs