সর্বশেষ সংবাদ :

কঠোর অবস্থানের দিকে সরকার

Share Button

pm

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ০৪ জানুয়ারী, ২০১৫

কঠোর অবস্থানের দিকে সরকার

কঠোর অবস্থানের দিকেই যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার। ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হওয়ায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তার গুলশান কার্যালয় থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। নয়াপল্টন কার্যালয় তালা দিয়ে সেখান থেকে আটক করা হয়েছে দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকেও।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপির শীর্ষ নেত্রী খালেদা জিয়াকে গুলশান কার্যালয় থেকে বের হতে না দেওয়ার মাধ্যমে এবং রুহুল কবীর রিজভীকে আটক করে তারা মূলত বিএনপিকে একটি বার্তা দিতে চেয়েছে। বিএনপি আন্দোলনে নামলে কিংবা জ্বালাও-পোড়াও করলে প্রয়োজনে খালেদা জিয়াকেও আটক করতে সরকার দ্বিধা করবে না। আওয়ামী লীগ নিজেদের স্বার্থে বিএনপির প্রতি ধীরে ধীরে জিরো টলারেন্সের দিকে যাবে।

আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া শনিবার বলেন, ‘দয়া করে রাস্থায় নামবেন না। বের হবেন না। আমরা ১৬টি স্পটে থাকব। বের হলে খবর আছে। অনেক জ্বালাইছেন, আর সুযোগ দেওয়া হবে না।’

আওয়ামী লীগর নেতাদের এমন মন্তব্যের পরই শনিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুলশানের কার্যালয় থেকে বের হতে চাইলে পুলিশ তাঁর গাড়ি আটকে দেয়। এখন পর্যন্ত খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয়েই অবস্থান করছেন। এর আগে রাত ১২টার দিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী আহমেদকে আটক করে হাসপাতালে দিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। বিএনপির নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় থেকে সব কর্মচারীকে বের করে দিয়ে গেইটে তালা মেরে দিয়েছে পুলিশ। এখন সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, সরকার দেশের স্থিতিশীলতার প্রশ্নে কোনো ছাড় দিবে না। ৫ জানুয়ারির পর বিএনপিকে তারা এমন কর্মসূচি করতে দিবে না- যার জন্য কুটনীতিকরা বিএনপির সঙ্গে সরকারকে আলোচনায় বসার দাবি জানাতে পারেন। বরং বিএনপিকে ভয়ের মধ্যে রেখে দলটিকে আরও দূর্বল করার কৌশলই নিচ্ছে সরকার। এজন্যই স্বয়ং খালেদা জিয়াকেই বের হতে দেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, সরকার নির্দিষ্ট তালিকা অনুযায়ী বিএনপির আরও অনেক নেতার বাড়িতে রবিবার থেকে অভিযান পরিচালনা করবে। আজকের (রবিবার) মধ্যেই সরকার এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে যাতে সোমবার ৫ জানুয়ারি বিএনপি নেতা-কর্মীরা আতঙ্কে মাঠেই নামতে না পারেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জামায়াত-বিএনপি সারা দেশে নাশকতা করবে আর সরকার বসে থাকবে, এটাতো হতে পারে না। খালেদা জিয়া নাশকার ছক আঁকবেন, আর আমরাতো বসে থাকব না। ৫ জানুয়ারি আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছি, এদিন গণতন্ত্রের বিজয় অর্জিত হয়েছে। এই দিনে কাউকেই নাশকতা করতে দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘যে দলের নেতারা জাতির পিতাকে নিয়ে কটুক্তি করেন, সেই দলটিকে বাংলার মানুষ রাজনীতি করতে দিবে কি না, এটা সময়ের প্রশ্ন। যারা যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালায়, তাদেরতো রাজনীতি করার অধিকার থাকতে পারে না।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সভা-সমাবেশের অধিকার তো সবারই আছে, কিন্তু সভা-সমাবেশের নামে নাশকতার অধিকার কি আছে? বিএনপি অতীতে সভা-সমাবেশের নামে নাশকতা করেছে, জ্বালাও-পোড়াও করেছে, এবারও তারা তাই করার পরিকল্পনা করছে, আওয়ামী লীগ দেশের স্বার্থে তো তাদের এই জ্বালাও-পোড়াওয়ের সুযোগ দিতে পারে না।’

আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘দেশের স্বার্থে, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনে সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিবেন।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণের জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হলে আমরাতো কঠোর অবস্থানের দিকেই যাবো। এমন কিছু বিএনপির করা ঠিক হবে না, যাতে আমাদের কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হতে হয়।’

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs