সর্বশেষ সংবাদ :

সরকারের ১ বছর এবং বিএনপির আন্দোলনে মোহন লালদের হাহাকার।সম্পাদকীয়

Share Button

309892_422235337856210_194752672_nm

সম্পাদকীয় :————— মুকুল খাঁন
সিডনি, অষ্টেলিয়া, ০৩ জানুয়ারী, ২০১৫

সরকারের ১ বছর এবং বিএনপির আন্দোলনে মোহন লালদের হাহাকার

একজন মানুষ যখন তার পরিবর্তিত আদর্শকে সম্বল করে পরলোকে পাড়ি জমান তখন তার ফেলে যাওয়া শেষ আদর্শকে আমরা তার প্রকৃত আদর্শ বলে ধরে থাকি (যদি না সেই জন তার মৃত্যুর আগে ভিন্ন কোন মতের প্রতি তার দুর্বলতা প্রকাশ করে থাকেন)। এবং তার শেষ আদর্শকে আঁকড়ে ধরেই তার পরবর্তী প্রজন্ম বেঁচে থাকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রাহমান এবং ভুপেন হাজারিকাকে আমরা এই কাতারে ফেলতে পারি অনায়াসে। বঙ্গবন্ধুর কথায় আসার আগে আমি, ভারতের এই মানবতাবাদী গায়ক, যিনি কিনা সারা জীবন মানুষের জন্য গান গেয়ে, শেষ জীবনে বিজেপি-র মতো একটি ধর্মীয় ঝাণ্ডাধারী দলে নাম লিখিয়ে, সেই পার্টির নমিনেশন নিয়ে নির্বাচন করে হেরে ছিলেন সেই সাতকাহন শুনাব না, কারন তার বিস্তারিত বিবরন আমার এই লেখার প্রধান বিষয় নয়। যদিও মানুষের আদর্শের এত বড় জলাঞ্জলি ইতিহাসের পাতায় খুব একটা বেশী দেখা যায় না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর বাকশাল প্রসঙ্গ নিয়ে আমরা নীচে আলাপ করবো। তার আগে আমরা গত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন কিভাবে আমাদের গণতান্ত্রিক তথা অর্থনৈতিক সমাজ ব্যবস্থাকে ধ্বংসের গোঁড়ায় নিয়ে যাচ্ছে তার কিছুটা ধারনা দিব।

একটি দেশের সার্বিক জনসমষ্টিকে আমরা যখন কয়েক ভাগে ভাগ করবো তখন আমরা তাদেরকে বিভিন্ন শ্রেণীর আলোকে ভাগ না করে কয়েকটি সাধারণ ভাগে ভাগ করবো। ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, মজদুর, বেকার, চাকরিজীবী এবং ব্যবসা নির্ভর জনগোষ্ঠী। এই সমগ্র জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন শ্রেণীভাজন কিংবা বিভাজন আমাদের সমাজকে করেছে যুগে যুগে প্রতিষ্ঠিত এবং একগুচ্ছ সীমারেখার বন্ধনে করেছে সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ। একজন কৃষক যখন জমিতে হাল দেয়ার কথা ভাবে তখন তার বীজের, সারের, হাল চাষ তথা গরু অথবা যন্ত্রচালিত উপকরণ, লোকবলের দরকার হয়। আর তাই সে নির্ভর করে বাজারের পরিস্থিতির উপর। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বাজারই ভোক্তার কাছে প্রধান। বাজার যত সহনীয় হবে জনগন তত সুখী হবে। আর বাজার কখন স্থিতিশীল হয়? যখন দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রম কোন ধরনের বাধা ছাড়াই পরিচালিত হয়, তখনই একটি বাজার সাধারণ জনগনের প্রতি তার ব্যবহার সংহত করে। অস্থিতিশীল বাজার কখনোই একটি সুস্থ রাজনৈতিক অবস্থার পরিচয় বহন করে না। অন্যদিকে, এই কথাকে আমরা যদি ঘুরিয়ে বলি; অসুস্থ কিংবা অস্থিতিশীল রাজনীতিতে বাজার কখনও স্বাভাবিক ব্যবহার করে না। আর করে না বলেই কৃষক কিংবা যারা কাঁচামালের প্রকৃত ক্রেতা তারা কখনোই অস্থিতিশীল বাজারে তাদের প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতার কোন প্রতিফলন ঘটাতে পারেন না। যার ফলস্রুতিতে দেখা যায়, কৃষক তার পণ্যের প্রকৃত মূল্য পায় না। আর তাই তাকে সময় সময় মহাজনের কাছে ধারের জন্য হাত পেতে সংসারের ঘাটতি পুরন করেতে হয়। পরিনাম হয় যে, এই সকল কৃষক আর কখনও নিজেকে সুখী কৃষক হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে না বরং সময়ের বিবর্তনে এই সকল কৃষক প্রথমে ভূমিহীন কৃষকে তারপর দিনমজুরে পরিণত হয়। এটা একটা চেইন। কৃষকের ছেলে হয় ভূমিহীন, হয় দিনমজুর। অতঃপর দিনমজুরের ছেলে দিনমজুর/ভিক্ষুক হয়েই মৃত্যুবরন করে।

একই সময়ে আমরা যখন কোন দেশের আমদানি কিংবা রপ্তানি নিয়ে কথা বলবো তখন আমাদের খেয়াল রাখতে হবে একটি ব্যবসা সফল সমাজের প্রধান বিবেচ্য বিষয়ের দিকে। রাজনৈতিক স্তিথিশিলতা একটি দেশের ব্যবসায়ীদের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। যতদিন রাজনীতি তার আপন দুর্গন্ধযুক্ত পাঁকে পড়ে খাবি খাবে ততদিন দেশে কোনবিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে না এটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী মহলই ভালো বলতে পারবেন তাদের বর্তমান অবস্থানের খতিয়ান। দেশের সংবাদপত্র গুলো ঘেঁটে আমরা জেনেছি আমাদের দেশের তাবত ব্যাংকের ভল্ট গুলোর বর্তমান অবস্থা। টাকা আর টাকা ব্যাঙ্কের ভল্টগুলোতে। কারন দেশের কোন ব্যবসায়ী বিনিয়োগ করতে আগ্রহী না। কারন ওই একটাই। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। একইভাবে অন্যান্য সরকারি কিংবা বেসরকারি খাতগুলোর দিকে তাকালে আমরা একই চিত্র দেখতে পাই।

একটি দেশের অশান্ত/অবৈধ সরকার শুধুমাত্র তার অর্থনৈতিক ভিত্তিকেই দুর্বল করে না তার সমাজের আদর্শিক ভিত্তিটাকেই নড়বড়ে করে দেয়। বর্তমান অবৈধ সরকারের অবৈধ কার্যক্রম গত এক বছরে তাদের জনভিত্তি কোথায় নামিয়ে এনেছে তা বোধকরি সরকারের প্রিয় সিন্দাবাদের ভূতগুলোর মাথায় ধরছে না। ধরার কথাও না। চর দখলের মন-মানসিকতা নিয়ে যখন কেউ চেয়ারে বসে থাকেন, তখন এই সকল নিন্মমানের আবেগ এই সকল নেতাদের! খুব একটা বিচলিত করতে পারে না। আর করে না যে তা তো আমরা মিসেস হাসিনা ওয়াজেদের কথা কিংবা খিস্তি খেউর থেকেই বুঝতে পারি। তার মন্ত্রী কামরুল, হাইব্রিড হাসান মাহমুদ, মায়া, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী ইনু, হানিফরা তাদের গলায় বিষ্ঠার ঘণ্টা নিয়ে ঘোরেন আর বিভিন্ন সভা সমাবেশে গরম বিষ্ঠা মুখ দিয়ে ঢেলে দিয়ে তারা যখন রাজনীতির আর গণতন্ত্রের কথা বলেন তখন বাঙ্গালী জাতির কিছু করার থাকে না। তাদের গলা দিয়ে উপচানো বিষ্ঠা টেলিভিশনের পর্দা বেয়ে যখন এই দেশের জনগনের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে প্রতি নিয়ত, তখন তাদের এই দুর্গন্ধময় রাজনৈতিক আচরনের প্রকৃত চেহারা জনগন আঁচ করতে পারেন বলেই আমার বিশ্বাস।

অবৈধ সরকারের নেতাদের অনৈতিক কথনের প্রতিযোগিতায় আওয়ামী অবৈধ মন্ত্রী ছাড়াও আছেন লন্ডনী চৌধুরীর মত চোখে ঠুলি পরা কিছু চাঁটা বুদ্ধিজীবী। আছেন আওয়ামী লীগের প্রধান চাঁটা হুজুর তথা মিসেস হাসিনার প্রধান উপদেষ্টা। চৌধুরী সাহেবের প্রায় লেখাতেই চোখ বুলাই, বুলাতে হয়। মিসেস হাসিনা ওয়াজেদের প্রিয় উপদেষ্টার বক্তব্য বিকৃত হয়েছে এই গোপন কথা চৌধুরী সাহেব লন্ডন থেকে বুঝে গেলেন কিন্তু বাংলাদেশে যারা সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারা কেউ কিন্তু এই কথা বুঝতে পারেননি। শুধু লন্ডনি সাহেব লন্ডনে থেকে বসে সব দেখে ফেললেন। উনি আগেও দেখতেন এখনও দেখেন। আল্লাপাক আমাদের এই মহান দূরদর্শীকে বাঁচিয়ে রাখুন,তা নাহলে ভবিষ্যৎ আমাদের বড় অন্ধকার। সেদিন তিনি তারেক সাহেবের কিছু কথার সমালোচনা করে পাল্টা কিছু কথা বললেন। জিয়াউর রহমান ‘৭২ সালেই লেফটেন্যান্ট কর্নেল হয়েও কিন্তু চৌধুরী সাহেবের মিথ্যা কথনে আজীবন মেজরই থেকে গেলেন, কিন্তু কিভাবে তা আমার মাথায় আসে না। তারেক জিয়া সহপাঠিকে চুমু দিয়ে বহিষ্কৃত হয়েছেন এই কথা আমি কিংবা আর কেউ কখনও শুনেছে বলে আমার জানা নেই। তবে হলেও আমি একে ছেলেবেলার হাজারও ভুলের একটি বলেই ধরে নিব। এই প্রসঙ্গ এনে তিনি কি প্রমান করতে চান জানি না তবে আমি আশা করবো উনি আগামি লেখায় বঙ্গবন্ধুর সন্তান প্রীতি নিয়ে কিছু লিখে, চাঁটা বৃত্তির বাইরের একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রমান করবেন।

আওয়ামী চাঁটারা কিন্তু বরাবরই দলের প্রতি তাদের চাটাচাটি সর্বাধিক গুরুত্ব নিয়েই করে থাকেন। আর এই জন্য তাদের সাধুবাদ জানাতেই হয় তা না হলে আবার জেল জরিমানা হতে পারে। শুধু একটাই আফসোস, দেশের জন্য তারা কেউ কোথাও কাউকে চেটেছেন কিনা তা আমার বা কারো জানা আছে বলে আমার ধারনা নেই। সবচেয়ে দুঃখজনক হল, বর্তমানে যে সরকার নিয়ে মিসেস হাসিনা ওয়াজেদ বড়াই করে বেড়াচ্ছেন তাতে তার দলের অনেকের ভাগ্যাকাশে নতুন নতুন চাঁদ উঠছে ঠিকই কিন্তু দেশের সাধারণ জনগন যখন চুলার ঘরে পান্তা আনতে গিয়ে দেখে নুন নাই তখন জনগনের সেই অংশটা আর যাই করুক নিজেদের আওয়ামী লীগের এই চোরগুলির মতো সুখী করতে পারে না। আর পারেনা বলেই ৭২-এর পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের নিরীহ সাধারণ জনগন (চোর আর চাঁটার দল ছাড়া) কখনও আওয়ামী লীগকে মন থেকে মেনে নেয়নি। ১৯৭৫-এর ৭ তারিখে জনগনের ভোটের অধিকার যখন কেড়ে নেয়া হল, তখন আর আজ ৫ই জানুয়ারি (২০১৪-২০১৫), এই দুই সময়ের মধ্যে কি আওয়ামী কিংবা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কোন পার্থক্য আমরা দেখি? দুইটি ঘটনাই কি আমাদের গনতন্ত্রহীনতা আর স্বাধীনতাহীনতার কথাই মনে করিয়ে দেয় না?

স্বাধীনতাহীনতায়, গনতন্ত্রহীনতায় কে বাঁচিতে চায় রে, কে বাঁচিতে চায়?????

নেতা এসেছিলেন ক্ষিপ্রগতিতে, দাড়িয়ে ছিলেন জনসমুদ্রে, সেই সমুদ্রের আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা এসেছিলেন স্বাধীনতার গল্প শুনতে। নেতা বলেছিলেন ক্ষমতার কথা, নইলে স্বাধীনতা। নেতা ২৫শে মার্চ রাত্রি পর্যন্ত আশায় ছিলেন পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি আপোষের কিন্তু তা হইনি। এরপরের কাহিনী আমরা সবাই জানি। নেতা ফিরে এলেন পাকিস্তান কারাগার থেকে ৭২-এ, প্রধানমন্ত্রী হলেন, শুরু হল দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় ব্যক্তির এক অপশাসনের অধ্যায়। এই অপশাসনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ৭ই জুনের পর, বাংলাদেশের অন্যান্য দলের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নাম-গন্ধও কোথাও খুজে পাওয়া যায়নি । পাওয়া গেল নতুন এক পানিপড়া, নাম তার “বাকশাল”। বঙ্গবন্ধু যখন ফ্যাসিবাদী চক্রের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তখনই আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে সমস্ত ক্ষমতা নিজের কাছে নিয়ে, বঙ্গবন্ধু হয়তো ভেবেছিলেন মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, সংবিধানের মৌলিক ধারাগুলোকে পাশ কাটিয়ে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবেন। কোন নেতা যখন একের পর এক ভুলের উপর নিশ্চিন্তে বসে রাজনীতি করতে ভালবাসেন এবং সেই নেতা যখন “সবাই আমাকে ভালবাসে” এই ধরনের আত্মতৃপ্তিতে ভোগেন তখনই এই ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে তিনি বা তারা পিছপা হন না। কারন এই সকল নেতাদের মধ্যে তখন স্তালিনিয় কিংবা হিটলারিয় মনোভাব প্রবল ভাবে কাজ করে। ৭২-৭৫ ছিল বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে দুঃসময়। ৭১-এর ২৫শে মার্চ রাতে তাজুদ্দিন সাহেবের অনুরোধে স্বাধীনতার ঘোষণা না দেয়ার বিষয়টি যে গোপন ছিল না, এই কথাটি হয়তো তিনি বিশ্বাস করেননি। আর তাই নিজেকে আরও নিরাপদ রাজনৈতিক অবস্থানে রাখতে তিনি তাজুদ্দিন সাহেবকে পার্টির সমস্ত কার্যক্রম থেকে দূরে রেখেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। আওয়ামী চাঁটার দল আর জাসদ-বামপন্থী-ক্ষমাপ্রাপ্ত রাজাকারদের যন্ত্রণায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রন হারিয়েছিলেন স্বাধীনতার ৪ বছরের মাথায়।

আমার এই প্রসঙ্গকে সমাপ্তির ঘেরাটোপে আবদ্ধ করার আগে আমি আমার এই লেখার প্রথম অংশে ফিরে যাবো। বলেছিলাম, পরিবর্তিত আদর্শের কথা। বঙ্গবন্ধু যখন মর্মান্তিক ভাবে নিহত হলেন তখন পিছনে ফেলে গিয়েছিলেন এক নতুন পরিবর্তিত আদর্শ, যার নাম “বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ”। তার মৃত্যুর পর রাজ্জাক সাহেবের মতো হাতে গোনা কিছু নেতাই শুধু বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শের সাথে একাত্মবোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনিও বঙ্গবন্ধুর এই স্বৈরাচারী রাজনৈতিক ফরমুলা থেকে সরে এসেছিলেন এবং বাকশাল থেকে সমাজতন্ত্রের নামগন্ধ মুছে দিয়ে আওয়ামী লীগ নামে বঙ্গবন্ধুরই বাতিল করে দেয়া সংগঠনকে বেছে নিয়েছিলেন। এখানেই আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রকৃত ধারক কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

ভূল, আসলে তারাই হল আসল ধারক এবং বাহক। গোপনে হলেও তারা এই আদর্শের ধারক ৭৫-এর ৭ই জুন থেকেই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, এই ধোঁয়া তুলে যারা চায়ের টেবিল গরম করে তারা কিন্তু এই বাকশালি আদর্শের কথাই বলেছেন ‘৭৫-এর পরবর্তী সময় থেকে। আমরা বুঝিনি, ভেবেছি, আওয়ামী লীগ বুঝি সত্যিকারের গনমানুশের গনতন্ত্রের কথাই বলছে। ফলে দেখা গেল, কল্পনা আর বাস্তবতার এই রশি টানাটানিতে শেষ পর্যন্ত জনতার প্রানের দাবী “গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা” আবার ২০১৪-তে এসে বাকশালিদের আঁচলের নিচে হারিয়ে গেল।

পরিশেষে, বিএনপির আন্দোলন নিয়ে দুটি কথা…

৫ই জানুয়ারি উপলক্ষে বিএনপি আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। অবৈধ সরকার হটাও, গনতন্ত্র উদ্ধার কর। ভালো স্লোগান, রক্ত গরম হয়। কিন্তু, কারা এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিবে? যারা গত ২৪টি বছর চুরি, চামারি করে দলটাকে নিয়ে গেছে ধ্বংসের গোঁড়ায় তারাই যদি এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয় তবে বলার কিছু নেই। কিন্তু একটি কথা না বলে পারছি না। আসন্ন সম্মুখ সমরে, প্রধান সেনাপতি যদি মীর জাফরের মতো কামান নিয়ে ঘসেটি বেগমের আঁচলের তলায় মুখ লুকায় তখন বিএনপি নেত্রী কি করবেন? মোহন লালরা যখন নেত্রীর কাছে মীর জাফরের সন্ধান চাইবে তখন নেত্রী কি তাকে খুঁজতে বঙ্গবন্ধু এভেনুএতে লোক পাঠাবেন? নাকি, আন্দোলন শুরুর আগে নেত্রী প্রকৃত সৎ, ত্যাগী, পার্টির আদর্শের প্রতি অবিচল নেতাকে তার সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ দিবেন? প্রশ্নটা আমার, আম জনতার। উত্তরটা নেত্রী, আপনাকেই দিতে হবে।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs