সর্বশেষ সংবাদ :

দেশে দেশে নববর্ষ উদযাপন

Share Button
new year (2)_48692_1
রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪।
আর মাত্র ঘণ্টা খানেকের অপেক্ষা৷ তারপরেই ২০১৫ কে স্বাগত৷ তবে নতুন বছর মানেই কি শুধুই আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে মেতে চলা? উত্তরটা কখনওই পুরোপুরি হ্যাঁ নয়৷ পৃথিবীর বহু দেশেই নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয় নানা রকম রীতি-নীতি ও প্রাচীন ঐতিহ্যকে মেনে৷ তারই কয়েকটি রইল এই প্রতিবেদনে-
রাশিয়াতে থার্টি ফাস্ট ইভে নতুন বছরে কী করতে চান সেরকম একটি বিশেষ ইচ্ছা কাগজে লিখে কাগজটি পোড়ানো হয়৷ তারপর ছাইটাকে ঢালা হয় শ্যাম্পেনের গ্লাসে৷ এবং ঘড়ির কাঁটা বারোটা বাজার পর শ্যাম্পেনের সঙ্গে সামান্য ছাই মিশিয়ে খাওয়া হয়৷ নতুন বছরে সেই ইচ্ছেটা পূরণ হবেই হবে এই বিশ্বাস নিয়ে৷
কী না করা হয় এখানে৷ নতুন কাপড় পরে, মোমবাতি জ্বালিয়ে, কাগজে নতুন ইচ্ছা লিখে কতভাবেই না এরা সেলিব্রেট করে নতুন বছরের সূচনাকালকে৷ তবে সবচেয়ে অদ্ভুত এদের ভাগ্য গণনা৷ একটা খোসা ছাড়ানো, একটা অর্ধেক খোসা ছাড়ানো ও অন্য খোসাশুদ্ধ আলুকে সোফার তলায় রেখে কোনও একটাকে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনতে হবে৷ খোসা ছাড়ানো আলু তুললে নতুন বছরে আপনার অর্থভাগ্য খুব একটা ভালো হবে না৷ খোসাসমেত আলু তুললে নতুন বছরে কোনও আর্থিক মন্দা থাকবে না৷ আর অর্ধেক খোসা ছাড়ানো আলু তুললে নতুন বছরে আর্থিক ভাগ্য মাঝারি থাকবে৷
new year_48692_0

ফিলিপিন্সে নতুন বছর যাতে সকলের জন্য সৌভাগ্যের বার্তা নিয়ে আসে সেজন্য ফিলিপিন্সেও নানারকম রীতি-রেওয়াজ মেনে চলা হয়৷এখানে নিউ ইয়ার ইভে প্রতিটি বাড়ির সমস্ত দরজা জানালা খুলে রাখা হয়৷ যাতে সকল অশুভ শক্তি বেরিয়ে গিয়ে শুভ শক্তি প্রবেশ করতে পারে৷

ঘড়ির কাঁটা বারোটা ছোঁয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে গুণে গুণে স্পেনীয়রা ১২ টি আঙুর খায়, যাতে নতুন বছরের বারোমাসই ভালো কাটে৷কে কত তাড়াতাড়ি আঙুর খেতে পারে এই নিয়ে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও হয়৷
দেশে দেশে নববর্ষ উদযাপন

পুয়ের্তো রিকোতে জানালা দিয়ে পুরনো জলের বালতি ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়৷ স্থানীয়দের বিশ্বাস এর মাধ্যমে সমস্ত অশুভ শক্তি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়৷অনেকে আবার বারোটা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই পিছনের দরজা দিয়ে বালতি-মগ ছুঁড়ে ফেলে৷

আয়ারল্যান্ডে নতুন বছরের প্রথম দিনে বাড়ির দেওয়াল আর দরজায় বিশেষ এক ধরনের পাউরুটি লাগানো হয়, সমস্ত অশুভ শক্তিকে দূর করার জন্য৷
ব্রাজিলের লোকজন এদিন সাদা পোশাক পরবেই পরবে৷ আর এদের অধিকাংশই রিও ডি জেনেরিও-র বীচে গিয়ে সেলিব্রেট করে৷ বিশ্বের অন্য অনেক দেশের অধিবাসীদের মতো এরাও মনে করে সাদা পরা মানেই আগামী বছরটা দারুণ কাটবে৷ অনেকে আবার সমুদ্রে কোনও গোপন মনস্কামনা জানিয়ে কিছু ফুলও অর্পণ করে৷
দেশে দেশে নববর্ষ উদযাপন

ডেনমার্কে অব্যবহৃত বাসনপত্র, প্লেট, গ্লাস সবই বারোটা বাজার আগে বাইরে ছুঁড়ে ফেলে ভেঙে দেওয়া হয়৷

ইক্যুয়েডরে গত বছরের সমস্ত পুরনো ছবি পুড়িয়ে দেওয়া হয়, নতুন বছরে নতুন করে সৌভাগ্যকে বরণ করার জন্য৷
দক্ষিণ আমেরিকায় এদিন রঙীন অন্তর্বাস পরা চাই-ই চাই৷ অন্তর্বাসের রঙ লাল হলে আপনি নতুন বছরে মনের মতো সঙ্গী খুঁজে পাবেন, গোল্ডেনের অর্থ পরের বছর অর্থযোগ রয়েছে আপনার ভাগ্যে৷
দেশে দেশে নববর্ষ উদযাপন

জাপানে বৌদ্ধ বিশ্বাসানুযায়ী ১০৮ বার ঘণ্টা বাজানো হয়৷ নতুন বছরে চারপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকবে৷

সুইজারল্যান্ডে মাটিতে এক স্কুপ করে আইসক্রিম ফেলা নিউ ইয়ারের ট্র্যাডিশন৷ এদের ধারণা নিউ ইয়ারও এর ফলে কাটবে দারুণ৷
রোমানিয়ার অধিবাসীরা সৌভাগ্যের জন্য থার্টি ফার্স্ট ইভে পুরনো খুচরো কয়েন নদীর জলে ভাসিয়ে দেয়৷
প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ইতোমধ্যেই নববর্ষ উদযাপন শেষ করেছে। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার (অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সময় রাত ১২টা) সময় অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের মধ্যে সবার আগে নববর্ষ উদযাপন করে। এরপর পর্যায়ক্রমে জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো নববর্ষকে স্বাগত জানাবে।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs