সর্বশেষ সংবাদ :

দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটকদের ভিড়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

Share Button

Coxbazar-1

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪।

সারাদিন ঘন কুয়াশা ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে ২০১৪ সালের শেষ সূর্যাস্তের দেখা মেলেনি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জামায়াতের ডাকা দুই দিনব্যাপী হরতাল। দুইয়ে মিলে কক্সবাজারে বর্ষবরণ উৎসবে আসা পর্যটকদের আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে। তারপরও সবকিছু উপেক্ষ করে দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

এরইমধ্যে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন ও পর্যটকদের বরণে কক্সবাজারকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। আগত পর্যটকের আনন্দ দিতে আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠানের। বেসরকারি টেলিভিশনের উদ্যোগে আইয়ুব বাচ্চু, জেমসসহ দেশখ্যাত শিল্পীদের উপস্থিতিতে রয়েছে সৈকতে পৃথক ওপেন কনসার্ট। একই সঙ্গে ইন্ডিয়ান আইডলসহ অন্যান্য শিল্পীদের উপস্থিতিতে রয়েছে নানা অনুষ্ঠান।

এসএটিভির ওপেন কনসার্টে নগর বাউলের জেমস, মিলা, বাংলাদেশ আইডলের শীর্ষ ১০ জন অংশ নেবে। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রসার করা হবে।

তবে হরতালের কারণে পূর্ব নির্ধারিত বেশকিছু অনুষ্ঠান ইতোমধ্যে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ইতোমধ্যে পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। অনেকে ৩১ ডিসেম্বর সকালে আসার কথা থাকলেও হরতালের কারনে আসতে পারেননি। এরপরও ঘন কুয়াশা, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও শীত উপেক্ষা করে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যোগ দিয়েছেন অসংখ্য পর্যটক।

রাত ১২টা ১ মিনিটে আলোর ঝলকানিতে সাগরপাড়ে নেচে গেয়ে ২০১৫ সালকে স্বাগত জানাবেন হাজারো পর্যটক। সৈকতের বালুতটে বসবে পর্যটকের মিলনমেলা। বিশ্বের দীর্ঘতম এই সাগর সৈকতে গভীর রাত পর্যন্ত চলবে বর্ষবরণের উৎসব। নেচে গেয়ে পুরোনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরে স্বাগত জানাবেন তারা।

সমুদ্র সৈকত ছাড়াও পর্যটন এলাকার তারকা মানের হেটেলগুলোতে আয়োজন করা হয়েছে ভারতের আইডলসহ দেশি শিল্পীদের নিয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া বিভিন্ন হোটেলে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনে রয়েছে ফ্যাশন শো, ডিজে পার্টি, মিনি কনসার্টসহ বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও।

নির্বিঘ্নে বর্ষবরণের সব আয়োজন নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রয়েছে। পুরো সৈকত ও হোটেল মোটেল এলাকায় নেয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

নতুন বছর দেশের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবে অনেক দূর। সেইসঙ্গে একটি নতুন সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ে উঠবে-এমনটাই প্রত্যাশা সবার। তবে হরতাল আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে হতাশ হয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার দৈনিক মুক্তকন্ঠকে জানান, পর্যটন ব্যবসায়ীরা মনে করেছিলেন এবার দুই লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম হবে। ২৫ ডিসেম্বর প্রচুর পর্যটক ছিল। কিন্তু ২৮ ডিসেম্বর হঠাৎ করে উধাও হয়ে গেল। এখন যারা এসেছেন সব মিলে ৫০ হাজারও পর্যটক হবে না।

আবাসিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ শফিকুর রহমান দৈনিক মুক্তকন্ঠকে জানান, সাড়ে চার শতাধিক প্রতিষ্ঠানে তাদের ধারণক্ষমতা দেড় লাখ। ৩১ ডিসেম্বর সবার অগ্রিম বুকিং ছিল। একই সঙ্গে বিলাসবহুল আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাটসমূহে আরও ৫০ হাজার মানুষ থাকবে, তাও বুকিং হয়েছিল। কিন্তু ২৮ ডিসেম্বর অনেক পর্যটক তাদের বুকিং ছেড়ে দিয়েছে।

হোটেল দ্য কক্স টুডের পরিচালক (অপারেশন) সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক মুক্তকন্ঠকে জানান, হরতালের কারণে অনেক পর্যটক তাদের বুকিং বাদ দিয়ে দেন। থার্টি ফার্স্ট নাইটকে ঘিরে পর্যটন ব্যবসায়ীরা কোটি টাকার ব্যবসা করতেন। কিন্তু হরতাল সব কিছু মাটি করে দিল। তারপরও কিছু পর্যটক এসেছে।

স্বপ্নপুরী ট্রাভেল টিউনের পরিচালক বেলাল আবেদীন ভুট্টো দৈনিক মুক্তকন্ঠকে জানান, ইনানী, মহেশখালীর সোনাদিয়া, আদিনাথ, হিমছড়ি, রামু ও সাফারি পার্কগুলোতে তারা পর্যটকদের সেবা দিয়ে থাকেন। এছাড়া সেন্টমার্টিনও পর্যটকদের সেবা দেন তারা। কিন্তু হরতালের কারণে আশানুরূপ পর্যটক আসতে পারেনি। এতে তাদের ব্যবসার অনেক ক্ষতি হবে।

এদিকে, ঘন কুয়াশার কারণে সারাদিন দেখা মিলেনি সূর্যের। এছাড়া দুপুর থেকে ছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। এ নিয়ে পর্যটকদের মিশ্রিত প্রতিক্রিয়া ছিল। অভ্যন্তরীণ অনুষ্ঠানের আয়োজন ঠিক থাকলেও ওপেন কনসার্ট নিয়ে ছিল সংশয়। এরপরও থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে কর্তৃপক্ষের রয়েছে সার্বিক প্রস্তুতি।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs