সর্বশেষ সংবাদ :

৩ ও ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করতে না দিলে হরতাল

Share Button

20

রিপোর্টঃ-মোঃ মহিউদ্দিন লিটন
ঢাকা, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৪।

৩ ও ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করতে না দিলে হরতাল কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলের বেশ কয়েকজন জেষ্ঠ্য নেতার সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিএনপি আগামী ৩ ও ৫ জানুয়ারি ঢাকায় সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস ও কালো দিন হিসেবে পালন করবে তারা। ইতোমধ্যে ডিএমপি ও গণপূর্ত অধিদপ্তরে সমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে দলটি। আবেদনে স্থান হিসেবে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর, নয়াপল্টন ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই তিন জায়গার যেকোনো জায়গায় সমাবেশ করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলের নেতাকর্মীরা। কিন্তু সরকার যদি শেষমেষ সমাবেশ করার অনুমতি না দেয় তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে চূড়ান্ত আন্দোলনের দিকে যাবে বিএনপি।

বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫ জানুয়ারি সমাবেশকে সফল করতে ২১ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা মহানগরসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনগুলোর সাথে বৈঠক করেছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৫ জানুয়ারি ঢাকায় সমাবেশ ও এর আগে ৩ জানুয়ারির সমাবেশ সফল করতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে সমাবেশের অনুমতি না দেয়া হলে হরতালসহ বৃহত্তর কর্মসূচির সিদ্ধান্তের কথা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতাকর্মীদের জানিয়েছেন। সেইভাবে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

৫ জানুয়ারি সমাবেশে প্রধান অথিতি হিসাবে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। একই সাথে সমাবেশ থেকে বেগম জিয়া জনসম্পৃক্তমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন বলে বিএনপির হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে অহিংস কর্মসূচিও ঘোষণার কথা রয়েছে। এই বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সিদ্ধান্ত নিবেন।

তাদের দাবি, গত ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। এই দিনটি বিএনপি কালো দিবস ও গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে মিছিল-মিটিং ও সমাবেশ করবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে বিএনপি ৫ জানুয়ারি ঢাকায় সমাবেশ করবে। এর আগে সরকার বিরোধী আন্দোলনের বার্তা হিসাবে ৩ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশ করার কথা রয়েছে। কিন্তু সরকার যদি ৫ জানুয়ারি সমাবেশের অনুমতি না দেয় তাহলে বিএনপি হরতালসহ বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগামী ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে বিএনপি ঢাকায় সমাবেশ করবে। ওই সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া জনসম্পৃক্তমূলক কর্মসূচির ঘোষণা করবে। আর ওই কর্মসূচি হবে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলন। তবে সেই কর্মসূচি কি হবে তা এখনও আলোচনাধীন রয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় দিন। তাই ওই দিনে বিএনপি সমাবেশ ও মিছিল-মিটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর ওই দিনেই সরকার পতনের চূড়ান্ত কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। কিন্তু এখনই বলা যাচ্ছে না সেই কর্মসূচি কি হতে পারে।

জানতে চাইলে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিএনপি ৫ জানুয়ারির দিনটি গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে পালন করবে। আর ৫ জানুয়ারি সরকারের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবে। তবে সেই কর্মসূচি কি হবে তা এখনও নিশ্চিত করা বলা যাচ্ছে না। কারণ এই বিষয়ে জোট নেতাদের সঙ্গে এখনও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে ২ জানুয়ারি রাজধানী সোহরাওয়ার্দী উদ্যাগে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্র সমাবেশ করবে সংগঠনটি। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্যে রাখার কথা রয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার।

এই বিষয়ে ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা ডিএমপির কাছে ১ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু বিশেষ কারণে প্রশাসন ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। তাই ছাত্রদল আবার ২ জানুয়ারি সমাবেশের জন্য আবেদন করেছে। আমরা আশা করছি এবার আমাদেরকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs