সর্বশেষ সংবাদ :

গাফফার চৌধুরীর বয়ানে জিয়া-খালেদা-তারেক সমাচার

Share Button

gaffar02

রিপোর্টঃ-মোঃ আরিফ আহাম্মেদ
ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৪।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ও তাদের বড় ছেলে তারেক রহমানকে নিয়ে নানা গল্প শোনালেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী। এই পরিবারের অতীত ও বর্তমান অনেক কথাই বললেন তিনি। বলাবাহুল্য পুরোটাই সমালোচনামূলক।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর তৃতীয় মেয়েটি ছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু আজ তার কোনো কৃতজ্ঞাতাবোধ নেই। সে আজ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু বার্ষিকীতের নিজের সাজানো জন্মদিন পালন করে। অবশ্য অশিক্ষিতদের দ্বারাই এসব সম্ভব। সেদিন শেখ মুজিবের কথায় জিয়াউর রহমান খালেদাকে গ্রহণ না করলে আজ তিনি কোথায় অবস্থান করতেন?’

জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গে আব্দুল গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘ভদ্রলোকের যুদ্ধ করার ইচ্ছা ছিল না। কারণ তার চুল আঁচড়াতে লাগত এক ঘণ্টা। তার স্ত্রীর লাগত আরো বেশি সময়। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় ডাবল এজেন্ট হওয়ায় তার ‘জেড ফোর্স’ ভেঙে দেয়া হয়েছিল। জেনারেল ওসমানীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার ফলে তার কোর্ট মার্শাল হয়েছিল।’

তারেক রহমানের উচ্ছৃঙ্খল জীবনের কথা উল্লেখ করতে তিনি বলেন, ‘তাকে জীবনে মাত্র দু’বার দেখেছি- একবার তাদের বাসায় যখন তার বাবা কোমরের বেল্ট দিয়ে তাকে মারছিল। মেয়েদেরকে বিরক্ত করার কারণে তারেককে স্কুল থেকে বহিষ্কার করার কারণেই তাকে পেটানো হচ্ছিল। পরে তারেকের সঙ্গে দ্বিতীয় দেখা হয় লন্ডনের একটি মার্কেটে। সে তখন লন্ডনে তার দলবল নিয়ে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে আসছিল। কিন্তু আমাকে দেখার সাথে সাথেই এমনভাবে খোঁড়ানো শুরু করল যে সে এর আগে কোনদিনই হাঁটতে পারতো না। এই তারেক ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করেছিল। সে তার মাকে ফোন করে নির্বাচনে যেতে নিষেধ করে। পাকিস্তান আইএসআই ও জামায়াতের সমন্বয়ে তারেক এসব করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজকাল তারেক রহমান লন্ডনে পাঁচ/দশ হাজার টাকার ভাড়া করা রুমে জামায়াতের লোকদের সঙ্গে নিয়ে পাগলের প্রলাপ বকেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যারা মন্তব্য করে তারা রাষ্ট্রদ্রোহী। সেই বিষয় নিয়ে কীভাবে তারেক মন্তব্য করে? তাই তারেককে নিয়ে আলোচনা না করে আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করি আইন করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।’

লন্ডন প্রবাসী এ কলামিস্ট বলেন, ‘গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলাসহ বিভিন্ন মামলার একজন তৃতীয় শ্রেণীর আসামি যুক্তরাজ্যের মতো স্থানে বসে কীভাবে মুক্তিযুদ্ধ ও শেখ মুজিব সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন তা আমার বোধগম্য নয়। আমি শেখ হাসিনাকে বলব তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করুন।’

তারেক ও খালেদা জিয়া যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ ও শেখ মুজিব সম্পর্কে একের পর এক কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে তাতে তাদেরকে জার্মানির ‘হলোকাস্ট’ আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান তিনি।

বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যমে মূলত জামায়াতই ক্ষমতায় যাবে। আর তারা ক্ষমতায় গেলে তালেবান, আইএস এবং জঙ্গিরা ক্ষমতায় যাবে। ফলে দেশটা আফগানের মতো অস্থিতিশীল হয়ে যাবে।’

সিরাজ-উদ-দৌলাকে হত্যার পর ইংরেজরা যেভাবে তাকে নিয়ে মিথ্যাচার ও প্রকৃত ঘটনা আড়াল করেছিল ঠিক তেমনিভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে ইতিহাস বিকৃতি থেকে শুরু করে নানান রকমের মিথ্যাচার চলছে বলে উল্লেখ করেন গাফফার চৌধুরী।

শেখ হাসিনার সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারে দুর্বলতা, সীমাবদ্ধতা ও অন্যায় আছে কিন্তু তারাই প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের দল। নির্বাচনের পূর্বে দেশে ৯ মাসের যে সহিংসতা চলেছে সেখানে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে শেখ হাসিনা তার বাবার মতো সাহসী ভূমিকা পালন করে নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে।’

বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রকৃত বুদ্ধিজীবীদেরকে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হত্যা করা হয়েছে। আর এখন যারা আছে তারা ইতিহাস বিকৃতকারী কু-বুদ্ধিজীবী মাত্র।’

ড. কামাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন বলেন দেশে নাকি এখন গণতন্ত্র নেই। কিন্তু আমরা আপনার গণতন্ত্র চাই না আমরা শেখ হাসিনার গণতন্ত্র চাই।’

ড. কামাল হোসেনের জামাতা সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বার্গম্যানকে একটি লিস্ট দিয়ে দেশে (বাংলাদেশে) পাঠিয়েছিলাম একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করতে। অথচ সে দেশে এসে সব রাজাকারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। পরে সে দেশে যেয়ে একটি বিকৃত ডকুমেন্টারি তৈরি করেছিল।’

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে মহান বিজয় দিবস ২০১৪ উপলক্ষে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত ‘গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আব্দুল গাফফার চৌধুরী। ওই সভাতেই এমন সব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, ‘যারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে কটাক্ষ এবং মিথ্যাচার করে তারা মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের শত্রু। এদেরকে প্রতিরোধ করতে হবে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করে সভাপতির বক্তব্যে বিচারপতি এএফএম মেজবাহউদ্দীন বলেন, ‘মির্জা ফখরুল হলেন ‘গর্জন সিংহ’। মির্জা ফখরুল একটি দলের সরাসরি নয় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি কেমন করে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে এমন বাজে মন্তব্য করতে পারেন তা আমার বোধগম্য নয়। আমি তার গ্রেপ্তার দাবি করছি।’

বিচারপতি এএফএম মেসবাহউদ্দীনের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর রিসার্চ ডেভেলপমেন্টের মহাপরিচালক মোনায়েম সরকার, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, মোবারক আলী প্রমুখ।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs