সর্বশেষ সংবাদ :

হ্যাপীর করা ধর্ষণ মামলায় রুবেলকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট

Share Button

Rubel

স্টাফ রিপোর্টার: ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৪।

নায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলার আগাম জামিন নিতে এসে প্রায় আট ঘণ্টা আদালত পাড়ায় ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বোলার রুবেল হোসেন। এ সময় তাকে চিন্তিত দেখা যায়। তবে পুরোটা সময়ই তিনি ছিলেন তার আইনজীবীদের সঙ্গে।

এ প্রসঙ্গে রুবেলের এক আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরীফ ইউ আহমেদ দৈনিক মুক্তকন্ঠকে বলেন, ‘রুবেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় জামিন নিতে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় রুবেল আমাদের হাইকোর্ট চেম্বারে আসেন। এরপর আমরা রুবেলের জামিন আবেদনটি পুরোপুরি প্রস্তুত করি। তারপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমরা চারজন আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম স্যারের নেতৃত্বে এনেক্স ভবনের ২নং কোর্টের দিকে যাই।’

তিনি বলেন, ‘আবেদনটি শুনানীর জন্য কোর্টের কাছে মৌখিকভাবে আবেদন করি। তখন কোর্ট বলেন, যেহেতু আপনাদের আবেদনটি আনলিস্টেড তাই আমরা আজকের তালিকায় থাকা সব মামলার শুনানী শেষে সেটি শুনবো। আপনারা বেলা ৪টার পর আদালতে আবেদনটি নিয়ে আসেন।’

এ আইনজীবী বলেন, ‘ঠিক বেলা ৪টা পর্যন্ত রুবেল আইনজীবী সমিতির এনেক্স ভবনের ৪১০নং চেম্বারে অবস্থান করেন। ৪টার পর শুনানীর জন্য আদালতের দিকে আইনজীবীদের সঙ্গে আদালতের দিকে যান তিনি।’

তখন আদালতে গিয়ে রুবেলের আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘মাই লর্ড আমাদের একটা আবেদন ছিল।’ তখন বেলা সাড়ে ৪টা বাজে। এসময় আবেদনের উপর শুনানী শুরু হয়।

আদালতে শ ম রেজা বলেন, ‘মাই লর্ড রুবেল বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের একজন ভালো খেলোয়াড়। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি যড়যন্ত্রমূলক।’

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘রুবেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আনিত ঘটনার সময় ও তারিখের দিন সে (রুবেল) প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেক পুরস্কার নিচ্ছিল। অতএব তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও যড়যন্ত্রমূলক। তাকে এ মামলার অভিযোগ থেকে জামিন দেয়া হোক।’ শুনানী শেষে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে রুবেলকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দেন।

শুনানীর আগে আদালতের এক কোণায় বসেছিলেন রুবেল। পরে আবেদনটি শুনানীর সময় তিনি আদালতে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে জানান অ্যাডভোকেট শরীফ ইউ আহমেদ।

গতকাল রাতেই রুবেলের জামিন আবেদনটি প্রস্তুত করার জন্য রুবেলের সঙ্গে কথা হয় আইনজীবীদের। সে অনুযায়ী আজ সকাল সাড়ে ৯টায় রুবেল সুপ্রিমকোর্টে উপস্থিত হন। তিনি আদালতে তার পাঁচজন বন্ধুকে নিয়ে এসেছিলেন। তবে রুবেলের সঙ্গে বিসিবি বা জাতীয় ক্রিকেট দলের কেউ ছিলেন না।

জামিন নেয়ার পর রুবেল আইনজীবীদের চেম্বারে বসে চা বিস্কুট খান, তার ভক্তদেরকে অটোগ্রাফও দেন। মাগরিবের নামাজের পর আইনজীবীর সার্টিফিকেট নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে গাড়িতে করে আদালত পাড়া ত্যাগ করেন। তবে নিজেকে আড়াল করার জন্য জামিন নিয়ে রুবেল তার গায়ে থাকা সোয়েটারের একটি অংশ দিয়ে মুখ ঢেকে গাড়িতে উঠেন। এ সময় কয়েকজন সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যান তার পিছু নেয়। ছবি নেয়ার চেষ্টা করা হলেও মুখ ঢেকে রাখায় রুবেলের ছবি নিতে সমস্যা হয়।

একপর্যায়ে সাংবাদিকদের অনুরোধে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম রুবেলকে মোবাইল করে ক্যামেরার সামনে নিয়ে আসেন। পরে রুবেল সাংবাদিকদের কাছে আসেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি দুই-একদিনের মধ্যেই আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত আপনাদের জানাবো।’

এ প্রসঙ্গে রুবেলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক মুক্তকন্ঠকে বলেন, ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য আমি রুবেলকে ডেকে এনেছিলাম। কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিকের অনুরোধে আমি রুবেলকে ক্যামেরার সামনে হাজির করি। কারণ জামিন নেয়ার পর রুবেল আদালত থেকে অন্যত্র চলে যায়। ৩০ মিনিট পর আমি তাকে ফোন করে মিডিয়ার সামনে হাজির করাই।’

শ ম রেজাউল বলেন, ‘আদালত রুবেলের আবেদন শুনে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন এবং এ সময় শেষে তাকে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ দিয়েছেন।’

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs