সর্বশেষ সংবাদ :

কুমিল্লার হোমনায় মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মনিরের স্মৃতি ফলক বিলীন হতে চলছে

Share Button

10846132_676807959105658_5803598972373628405_n

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম
ঢাকা, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৪।

হোমনায় মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মনিরের স্মৃতি ফলক বিলীন হতে চলছে ।সংরক্ষনের দাবী এলাকাবাসির।
কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরের স্মরণে নির্মিত স্মৃতি ফলকটি বিলীন হতে চলছে । এর সংরক্ষনের দাবী জানিয়েছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন গুলি ও শহীদ মনিরের পরিবার । জানা যায় উপজেলার মাথাভাঙা ইউনিয়নের পঞ্চবটি নামক স্থানে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মনির শহীদ হন । তার স্মৃতি বিজরিত এ স্থানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমিতে তাকে সমাহিত করা হয় । এর পর থেকে স্মৃতি সৌধ হিসেবে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে হোমনা ও আশ পাশের উপজেলার স্কুল কলেজের ছাত্র শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে এ স্থানে সমবেত হতো । কিন্তে এখন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মনিরের কবরটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে।এর কোনো যত্ন নেই। দেখভালের অভাবে এ স্মৃতি ফলকটির গায়ে শেওলা ও ধুলোবালি জমে কালো রঙ ধারণ করেছে।
এদিকে ১৯৮৫ ইং সালে তৎকালীন হোমনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মরহুম আঃ মতিন এস্থানে একটি স্মৃতি ফলক নির্মান করেন । কিন্ত স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের অব্যবস্থাপনায় ও প্রশাসনের উদাসিনতায় এ ম্মৃতি ফলকটি বিলীন হতে চলছে ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মনিরের স্মৃতি ফলকের সাথে একটি মাজার গড়ে উঠেছে ।এতে স্মৃতি ফলকটি কারোর চোখে পড়ছে না । মাজারে আসা কয়েক জন ভক্ত মুক্তিযোদ্ধ শহীদ মনিরের কবরে বসে আড্ডা দিচ্ছে।এর মধ্যে শাহ আলম নামের এক পাগল বসে গাঁজা টানছে ।তার বাড়ি আসাদ পুর ইউনিয়নের ঘনিয়ারচর গ্রামে বলে জানা গেছে ।মাজারে আসা লোকজনকে জিঞ্জাসা করা হলে তারা জানায় এটি মুক্তিযোদ্ধার কবর কি না তারা বলতে পারবে না। তারা এ মাজারে নিয়মিত আসে ।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে মাথাভাঙ্গা গ্রামের সোলমান সাধু নামের এক ব্যক্তি ১৯৯৬ সালে মধ্যকান্দি গ্রামে তার এক ভক্ত সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। এবং তাকে ঐ বাড়িতেই দাফন করা হয় । পরে একটি চক্র রাতের অন্ধকারে তার লাশ তুলে প্রশাসনের বিনা অনুমতিতে মুক্তিযোদ্ধা মনিরের কবরের পাশে তার লাশ দাফন করা হয় । এর পর থেকে এ স্থানে সোলমান সাধুর ভক্তবৃন্দের আগমন ঘটে ।আস্তে আস্তে এ স্থানটি হযরত সোলমান শাহ মাজার নামে পরিচিতি লাভ করে ।এতে মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরব গাঁথা বীরত্বের মর্যাদাকে অবমাননা করা হচ্ছে ।
স্থানীয় লোক জনের সাথে আলাপ করে জানাগেছে এখানে আগের মত কোন মুক্তিযোদ্ধা, সংগঠন ,স্কুল কলেজের ছাত্র /ছাত্রীবৃন্দ শ্রদ্ধা জানাতে আসছে না ।এখানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় ৫৫ শতাংশ জায়গায় গড়ে উঠছে অত্যাধুনিক মাজার শরীফ । মাজারের ভীরে হারিয়ে যাচ্ছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মনিরের স্মৃতি ফলক । স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরে বিজয়ের এ মাসে মুক্তিযোদ্ধা মনিরের স্মৃতি ফলকের যথাযথ মর্যাদা রক্ষায় প্রশাসন ভুমিকা পালন করবেন ।এ দাবী এলাকা বাসি ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মনিরের পরিবারের ।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মনিরের ভাই মোঃ দাদন মিয়া জানান স্বাধীনতা সংগ্রামে ভাই শহীদ হয়েছে এটি আমাদের পাওয়া । প্রতি বছর প্রশাসনের পক্ষথেকে বিভিন্ন দিবস পালন করা হলেও আমাদের খবর কেউ নেয়নি ।
এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ জামিল বলেন,মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি বিজরিত সকল স্থাপনা সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা হবে ।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আবুল কাশেম প্রধান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মনিরের স্মৃতিফলকটি যথাযথ ভাবে সংরক্ষনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের নিকট দাবী জানাচ্ছি ।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs