সর্বশেষ সংবাদ :

প্যাশনে রাজনীতি ফ্যাশনে তারুণ্য:- মোঃ আবুনাছের ওহায়েদ সম্পদ

Share Button

রিপোর্ট:-দৈনিক মুক্তকন্ঠ,
০৫মার্চ, ২০২১। সময়: ১০.০২.AM

মোঃ আবুনাছের ওহায়েদ সম্পদ । কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ৭নং ভাষানিয়া ইউনিয়নের (তিন বার নির্বাচিত )সাবেক চেয়ারম্যান। তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে  নজর কেড়েছেন। বৈচিত্র্য রয়েছে তার ফ্যাশনে ও প্যাশনে। ফ্যাশনে যেমন তার তারুণ্যের ছোঁয়া রয়েছে তেমন সমাজ বদলানোর স্বপ্ন পূরণে রাজনীতিতে নেমেছেন। তাকে নিয়ে লিখেছেন—মোঃ সফিকুর রহমান সরকার

তার শৈশব কেটেছে ঢাকায়। ছোটবেলা থেকেই শান্ত স্বভাবের ছিলেন। শৃঙ্খলায় বেড়ে উঠেছেন। যা এখনো জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন। বাবা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সে সূত্রে রাজনৈতিক পরিবেশ নতুন নয়। সাধারণ মানুষের সেবা করার ইচ্ছাটা সেখান থেকেই এসেছে। ঘরের ভেতর থেকেই এই সেবা করার চর্চা শিখেছেন। বাবাকে খুব কাছ থেকে দেখেন এলাকা উন্নয়নের জন্য কাজ করতে। মানুষের সেবা করার দীক্ষাটি মনে গেঁথে গেছে সেই শৈশবেই। কৈশোরে এসেও পরিচিত ছিল সেই ছবিটি। রাজনৈতিক কাজ বলে পিছিয়ে ছিলেন না। মানুষের সেবা করার জন্য নিজেই আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বাবাকে সহযোগিতা করতেন। মানুষ সাহায্য চাইলে নিজেই এগিয়ে যেতেন। সেখান থেকেই শুরু। ১৯৮৮ সালে বাঞ্ছারামপুর ডিগ্রি কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জি,এস নির্বাচিত হন পাশাপশি সমানতালে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে বিকম (আনার্স) এম,কম করেছেন। ঢাকায় পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করেছেন। নিজের হাতখরচ নিজেই জোগাড় করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাজ করার সুযোগ কম। বিদেশে শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করেন, ভালো আয়ও করেন।

পড়াশোনা শেষে ২০০১ সালে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার রাজনীতিতে ফিরে আসেন। ঢাকা থেকে যেতে পারতেন। কিন্তু থাকলেন না দেশের হয়ে কাজ করার জন্য। বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকেন না কেন। পরিচিত হতে হয় বাংলাদেশি বলে। ঢাকায় ১০ বছর থেকেছেন। সেখানকার অগ্রগতি দেখেছেন। ঢাকার প্রযুক্তিনির্ভর অগ্রগতিতে হাতে হাত মেলাতে রাজনীতিতে নামেন। তার মতে এই দেশের অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। সবচেয়ে বড় সম্ভাবনার নাম তারুণ্য। এ দেশের তরুণরা স্বপ্নচারী। গুগল, ইউটিউব থেকে শুরু করে নাসা— সর্বত্র তাদের সফল পদচারণা। তিনি বলেন, এ দেশের মাটি যেমন উর্বর, তেমন এ দেশের মানুষরাও উর্বর। তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে দেশের মানুষ রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠেছে। তরুণরা সম্ভাবনাময়, সৃষ্টিশীল। তারাও রাজনীতি সচেতন। যেকারণে তারা রাজনীতিতেও নাম লেখাচ্ছেন। এটা ইতিবাচক দিক। সমাজ বদলাতে, দেশের উন্নয়নে এই ইতিবাচক পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। তরুণদের নিয়ে একটাই হতাশার জায়গা রয়েছে। সেটি হলো মাদক। মাদক যেন তরুণদের গ্রাস করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

রাজনীতিতে ক্যারিয়ার গড়েছেন। কৈশোরে আসলেই কি এমনটা ভেবেছিলেন? পারিবারিকভাবেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। ছোটবেলায় ‘কি হতে চাই’ রচনায় লিখেছিলেন— আমি সমাজসেবা করতে চাই। মানুষের দৃঢ় ইচ্ছার সঙ্গে অধ্যবসায় যোগ হলে অসম্ভব থাকে না কিছুই। রাজনীতিবিদ হয়েছেন ঠিকই। ব্যস্ততায় কাটে তার দিন। চেয়ারম্যান হিসেবে সরকারি অফিস সামলাতে হয়। এলাকার উন্নয়নেও সচেষ্ট থাকেন। বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষদের যতটা সম্ভব সহযোগিতা করে থাকেন। সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।

রাজনীতির বাইরের জীবনেও তিনি সাদামাঠা। খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন। স্ত্রী ও দুই সন্তানের ছোট পরিবারে সকালটা কাটে ছেল মেয়েকে নিয়ে। তারা স্কুলে যাওয়ার আগে অন্তত এক ঘণ্টা তাদের সঙ্গে খেলে কাটান। অবসর  পেলে গান শোনেন। সব ধরনের গানই তার পছন্দ। বই পড়তেও পছন্দ করেন। বায়োগ্রাফি ও থিউরি বিষয়ক বইগুলো তার পছন্দের। খেতে পছন্দ করেন দেশীয় খাবার। ভাত ও মাছ ভালোলাগে। বিদেশি খাবারের মধ্যে চাইনিজ খাবার পছন্দ করেন। ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন। সময় পেলে পরিবার নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে যান। তখন দুই ছেলে মেয়ের কথামতোই খাবার অর্ডার করা হয়।

রাজনীতিবিদদের প্রচলিত পোশাকেই শুধু তাকে দেখা যায় না। তারুণ্যের ছোঁয়া রয়েছে তার চলনে-বলনে ও পোশাকেও। পাঞ্জাবি পাজামা যেমন পরেন তেমনি পরেন জিন্স, পোলো টি-শার্ট। মূলত উপলক্ষ বুঝে পোশাক পরেন। তার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মাননসই পোশাকই তার ফ্যাশন। প্রখর রোদে চোখে সানগ্লাস পরেন। রিস্টওয়াচ পরেন নিয়মিত। নিজেকে যতটুকু সম্ভব গুছিয়ে রাখতে পছন্দ করেন। স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশ একদিন উন্নত, সভ্য রাষ্ট্রের কাতারে নাম লেখাবে। নিজ ৭ং ভাষানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা নিয়ে আরও কাজ করা ইচ্ছা আছে তার। সে ইচ্ছা পূরণে প্রতিনিয়ত সচেষ্ট তিনি।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs