সর্বশেষ সংবাদ :

করোনা পরিস্থিতিতে প্রয়োজন সৃষ্টিকর্তার রহমত ও আমাদের সচেতনতা

Share Button

রিপোর্টার:-দৈনিক মুক্তকন্ঠ,
১৬  এপ্রিল  ২০২০। সময : ০৯,১৫. PM

করোনা পরিস্থিতিতে প্রয়োজন সৃষ্টিকর্তার রহমত ও আমাদের সচেতনতা
———————————–
নোভেল করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রয়োজন সৃষ্টি কর্তার রহমত ও আমাদের সচেতনতা। এ ছাড়া আমাদের আর কোন পখ নেই। কিন্ত করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গণ সচেতনতার লক্ষে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখে চলাফেরা ও বিনাপ্রয়োজনর ঘরের বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করেছে। সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে শুরুকরে,জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ইউনিয়ন পরিষদ, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংস্থা ও রাজনৈতিক সংগঠন এলাকায় এলাকায় প্রচার পত্র সহ মাস্ক,হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন। কিন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে জনগন মনে হয় করোনা ভাইরাসকে খুব একটা পাত্তা দেননি। এতে কি আমাদের অসচেতনতা ও অবহেলা দায়ী নয়? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর আসে বাজার ও রাস্তা ঘাটে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে , চায়ের দোকানে এখনো আড্ডায় মেতে আছে লোকজন। দোকানদার দোকানের সাটার বন্ধকরে ভিতরে চা বিক্রি করেন, লোকজন লুকিয়ে লুকিয়ে সরকারী নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য বিধি বা সামাজিক ও শারীরীক দুরত্বকে বৃদ্ধা অাঙ্গুলী দেখিয়ে আড্ডায় মেতে উঠেছেন। এতে করে কার ক্ষতি বা লাভ হলো একবার কি ভেবে দেখেছি আমরা? আমরা নিজের ও পরিবারের কথা চিন্তা না করে মৃত্যুকে ভয় না করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ভয়ে কেন লুকালাম? পুলিশের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আই,জি,পি বলেছেন, ঘরে থাকবেন নাকি কবরে যাবেন সিদ্ধান্ত আপনার। আমরা মনে হয় কবরে যাওয়ার সিদ্ধান্তই বেছে নিয়েছি। সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে কবরে যাবার। এতোদিন ভাবতাম এ করোনা মহামারি থেকে হয়তো আমি বেচে যাবো। আমার উপজেলা এখনো করোনা রোগীর সনাক্ত হয়নি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখেন করোনা ভাইরাস হয়তো আপনার ঘরের দরজায় অপেক্ষা করছে।
কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় করোনা ভাইরাসের তেমন প্রকোপ ছিল না । আইন শৃঙ্খলাবাহনীর কথা পাত্তা না দিয়ে রাস্তা ঘাটে লোকজন চলাফেরা করতো কিন্ত দুলালপুর ইউনিয়নের মঙ্গলকান্দির ফাহিমা আক্তার নামের এক গৃহবধু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবরে কি বুঝা গেল? এ ঘাতক ভাইরাস আমাদের ঘরের দরজায় এসে অপেক্ষা করছে। হোমনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই জন ডাক্তার সহ ৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে প্রেরন করা হয়েছে। মঙ্গলকান্দি গ্রামকে লকডাউন করা হয়েছে। এমনকি এ রোগী যে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিয়েছেন সেই গাজী ডায়াগনস্টিক সেন্টার পর্যন্ত লকডাউন করা হয়েছে। কেন লকডাউন করা হয়েছে তা খুব সহজেই বুঝা যাচ্ছে। এই আক্রান্ত রোগী যাদের যাদের সাথে মিশেছেন তাদের সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইন এ রাখা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আশ্চার্যের বিষয় অনেকে তথ্য গোপন করছেন। এতে করে সে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছেন না তো? । কয়েকদিন পরে দেখবেন অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন। এখন আমাদের কি করা উচিৎ ভাবার সময় এসেছে। বেশী করে বাজারে ঘুরাঘুরি করা, রাস্তাঘাটে বেশী বেশী করে আড্ডা মারা না প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া? আপনি কার সাথে বাহাদুরি করবেন। এটি কোন বন্যা,টর্ণেডু ঝড়বৃষ্টির মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। টের পাবেন জ্বর, শুকনো কাঁশি, হাঁচি, গলাব্যাথা শুরু হলে। ঘরে না থেকে কবরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কি আপনি নিয়েছেন? তা আপনি নিতেই পারেন। আপনি আত্মহত্যা করতে পারেন। তবে আপনি পরিবারের লোকজনের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। ভাবতে অবাক লাগে এখনো বিভিন্ন এলাকায় আধিপথ্য বিস্তার নিয়ে মারামারি হচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্যে বলি ভাই একটু ধৈর্য্য ধরেন। করোনা ভাইরাসকে একটু মারামারি করার সুযোগ দেন। আপনাকে আর মারামারি করতে হবে না! করোনা ভাইরাস আপনার দরজায় কড়া নাড়ছে। দরজা খুলে বাইরে বাহির হন দেখবেন আপনার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়ে যাবে । কেন বাহিরে যাবেন? সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরিমান ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। মেয়র,চেয়ারম্যান, বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠণ তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করছেন।
মাননীয় সংসদ সদস্য দিনরাত গরীব অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যহত রেখেছেন। তাঁর হট লাইনে কেহ এসএমএস পাঠালে খাদ্য পৌঁছে যাচ্ছে তার বাড়ি । ইউএনও এব্ং এসিল্যান্ড মহোদয় দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, আমাদের জীবন বাঁচানোর জন্য। চিকিৎসকগণ জীবন বাজি রেখে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন, এএসপি সার্কেল,ওসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন । সরকার আমাদের মঙ্গলের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সংবাদকর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সতর্ক করছে। কিন্ত আমরা কি আমাদের ভালটা বুঝব না? শেষবারের মত অনুরোধ করছি আসুন বেঁচে থাকার জন্য শেষ চেষ্টাটুকু করি। সাবধান ও সতর্ক হই। অপ্রয়োজনে এক মূহুর্তের জন্যও বাড়ির বাহিরে বের না হয়ে লকডাউনে থাকি। মনে রাখতে হবে আমাদের চতুর্দিকে করোনা ভাইরাস ওৎ পেতে আছে বের হলেই আক্রান্ত হয়ে কষ্ট পেয়ে মারা যাবো। আপনার লাশ কেহ জানাযা দিতে আসবে না, কেহ কবরেও যাবে না। কাজেই আর বাহাদুরি নয়, সতর্ক হোন। আল্লাহ তায়ালার সাহায্য কামনা করুন। ঘরে বসে বেশী বেশী করে এবাদত বন্দিগী করুন। তিনিই পারেন একমাত্র তাঁর বান্দাকে এ করোনা নামক মহামারী থেকে বাঁচাতে। এ পরিস্থিতিতে চাই সৃষ্টিকর্তার রহমত ও প্রয়োজন সচেতনতা। আমিন।
#####
লেখক
সাংবাদিক
মোঃ আবদুল হক সরকার
সভাপতি
হোমনা প্রেস ক্লাব
হোমনা,কুমিল্লা।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs