সর্বশেষ সংবাদ :

করোনা ভাইরাস : বিশ্বজাহানের রব আমাদের ক্ষমা কর

Share Button

রিপোর্টার:-দৈনিক মুক্তকন্ঠ,
০৮ এপ্রিল  ২০২০। সময : ০১,০৫. PM

করোনা ভাইরাস : বিশ্বজাহানের রব আমাদের ক্ষমা কর।

মোঃ ফেরদৌস আব্দুল্লাহ, হোমনা, কুমিল্লা
চারদিকে যেন রাতের নিঃস্তব্ধতা।চেনা পরিবেশ অচেনা হয়ে গেছে।রাস্তার মোড়ে মোড়ে টহল পুলিশ।মাঝে মাঝে পুলিশের গাড়ি সতর্কবানী উচ্চারন করে এগিয়ে যাচ্ছে। ইউএনও(হোমনা) তাপ্তি চাকমা এবং এএসপি সার্কেল মোঃ ফজলুল করীম জনগনকে সচেতন করতে তৎপর। সাংবাদিক বন্ধুরাও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে খবরের পেছনে ছোটছেন।খেটে খাওয়া কিছু মানুষ জীবিকার সন্ধানে বের হতে চায়।পরিস্থিতি বিবেচনায় তারাও এখন সাবধান।ভয়াল থাবা নিয়ে অজানা এক শক্তি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পৃথিবী।ডিসেম্বর/১৯ এ চীনের উহানে আক্রমন করে দ্রুততার সাথে পৃথিবী ব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে । এটি ্এখন বৈশ্বিক সমস্যা। পৃথিবী নামক গ্রহটি সর্বব্যাপী ঝুঁকিতে পড়ে আজ অবরুদ্ধ( লকডাউন)।
কুমিল্লা থেকে ছোট ছেলেটি ফোন দিয়ে বলে ,আব্বু ,তোমার কলেজ তো বন্ধ, বাসায় এসে পড়।তাকে ভাইরাসের ভয়াবহতার কথা বলি, রাস্তায় পুলিশ-আর্মির কথা বলি, আমিও বাসায় আছি, তাকেও বাসায় থাকতে বলি। সে মনোক্ষুন্ন হয়।
গ্রামের কম বয়সী একজন ব্যক্তি স্টোক করে ঢাকায় মারা গেছেন।বর্তমান অবস্থায় মৃত্যু কি জানি কোন কারনে হয়েছে, মানুষের মনে চিন্তা , পরিস্থিতির কারনে লাশ গ্রামে আনা হয়নি। মায়ের পক্ষে সন্তানের লাশও দেখা সম্ভব হয়নি।
-রাত এগারটায় চারদিক থেকে আজানের শব্দ,ছোট বেলার কথা মনে পড়লো, ঝড় আসার পূর্ব মূহূর্তে প্রকৃতি হঠাৎ করে স্তব্ধ হয়ে যায়,বাতাস নাই, ডালপালা নড়ে না ,সামনে বড় কোন বিপদ উপস্থিত, এ সময় দেখেছি আজান দেয়া হতো।সারা দেশে রাতে আজানের ধ্বনি শুনে বুকে কাপন ধরে উঠে। এমনিই করোনার বিপদ চলছে ,আবার কোন বিপদ উপস্থিত হয় নাই তো ? কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না।
পৃথিবী দৃশ্যমান কোন শক্তি অথবা সেনাবাহিনী অথবা সমরাস্ত্র দ্বারা আক্রান্ত নয়।
কিছুদিন পূর্বেও ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া,ইয়েমেন,আফগানিস্তান, কাশ্মির, আরাকান ও জিংজিয়ান- এ মানুষের উপর মানুষের ক্ষমতার চর্চা পৃথিবী প্রত্যক্ষ করেছে।শক্তির খেলায় লাখ লাখ মানুষ নিহত ও পঙ্গু হয়।লন্ড ভন্ড হয় বহু জনপদ।বাস্তচ্যুত হয় বহু আদম সন্তান। নিস্পাপ শিশু আইলানের শেষ শয্যা হয়েছে সমুদ্রের বেলাভ’মি।আরাকানের লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের দেশ থেকে উচ্ছেদ করা হয়।হত্যা করা হয় পুরুষদের আর নির্যাতন করা হয় নারীদের।ঘটনার হোতাদের মদদ দেয়ার মানুষও পৃথিবীতে কম নয়। অসহায় মানুষের আর্তনাদে পৃথিবীর পরিবেশ হয়ে উঠেছিল ভারী। মধ্যপ্রাচ্যের অসহায় মানবতার প্রতিনিধি(একজন শিশু) বলেছিল, আমি আল্লাহকে সব বলে দেব।এ অবস্থায় আল্লাহ তার অসহায় বান্দাদের ছেড়ে যান না।আল্লাহ ও মজলুমের মধ্যে কোন অন্তরাল থাকে না।
মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে পৃথিবীর চিত্র পাল্টে গেছে।একটি অদৃশ্য শক্তি পৃথিবীর মোড় ঘুড়িয়ে দিয়েছে।এটি নিয়েই এখন মানুষের সকর চিন্তা কেন্দ্রভি’ত। মান্নাদে’র কন্ঠে বলতে হয়,তুমি কি আর আগের মতো আছো।আজকের পৃথিবী নিপীড়ক ও নির্যাতিত উভয় শ্রেনীই অজানা এক শক্তির দ্বারা বিপর্যস্ত। পৃথিবীর স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে, সবাই অজানা শক্তি নির্মূলে পেরেশান।
ইন্দোনেশিয়ার তরুন ডাক্তার হাদি করোনায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হন।তিনি জানেন,তার সময় ফুরিয়ে এসেছে,শেষ বারের মতো আপনজনদের দেখতে বাড়ি আসেন,দাঁড়ান গেইটের কাছে।জানেন, ভিতরে ঢুকলে আত্মীয় পরিজনও আক্রান্ত হতে পারেন।সেখান থেকেই অপলক নয়নে অশ্রুভেজা চোখে স্ত্রী-সন্তানদের দিকে শেষ বারের মতো অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। সন্তানও পিতার কোলে আগের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে নাই।এ ভাবেই মানবতার বন্ধু ডাক্তার বাড়ি থেকে বিদায় হন।পিতা ও সন্তানদের মধ্যে বাঁধার এক প্রাচীর তৈরী করেছে অজানা শক্তি।
-পৃথিবীর যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করতে আমরা বাধ্য হয়েছি, অজানা শত্রু ঠেকাতেই এ ব্যবস্থা।
-ইরাক যুদ্ধের পূর্বাহ্নে যারা দম্ভ দেখিয়ে বলতো ,তুমি আমার পক্ষে থাক, নচেত ধরে নেব তুমি আমার শত্রুর পক্ষে।তারাও আজ অজানা শত্রুর আক্রমনে দিশেহারা।
– মরছে মানুষ,কাছে যেতে পারছে না স্বজন।মৃত্যুর পর যন্ত্রের সাহায্যে লাশ উত্তোলন করে গর্তে চাপা দেয়া হয় অথবা পুড়িয়ে ফেলা হয়। ইউরোপের দেশ ইউক্রেন তাদের দেশে ভাইরাস আক্রমনের প্রাথমিক অবস্থায়ই হাজার হাজার গর্ত অগ্রিম করে রেখেছে লাশ চাপা দেয়ার জন্য। এক সময় যা অচিন্তনীয় ছিল , বর্তমানে তা বাস্তবতা।
– উন্নত দেশ ইটালী ,স্পেন, জার্মানী, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। অতি উন্নত তাদের টেকনোলজি,চিকিৎসা সেবা ও ব্যবস্থাপনা। তাদের চেষ্টাও অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ।চলছে লাশের মিছিল।ইটালীর প্রধানমন্ত্রীর অসহায় আত্মসমর্পন-করোনার উপর আমরা নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেছি।পরক্ষনেই উপলব্ধি , এখন সবই উপর ওয়ালার হাতে।
-অর্থনৈতিক ভাবে পঙ্গু হচ্ছে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র।তার কারনও করোনা নামক অজানা শক্তি।
-পত্রিকায় এসেছে,করোনায় প্রথম যে সিম্পটম ছিল,বর্তমানে তা নাই। করোনা তার চরিত্র পাল্টে ফেলেছে, শক্তিশালী হচ্ছে, কোন ধরনের সিম্পটম ছাড়াও মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।
-সন্দেহ নাই,পৃথিবী উন্নতির শীর্ষে পৌছেছে।কি নাই আমাদের, সব কিছু এখন হাতের নাগালে। কিন্তু করোনা(যার উপস্থিতি উপলব্ধি করতে অনুবীক্ষন যন্ত্র প্রয়োজন) পৃথিবীকে টালমাটাল করে দিয়েছে। এমন একটি শক্তির কাছে বিশ্ব অসহায়।
-দাবানল, বন্যা ,পঙ্গপাল ও করোনা একটার পর আরেকটা ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে।
ঝঞ্জা-বিক্ষুদ্ধ উত্তাল সমুদ্রের ভয়াল রূপ দেখে কবির মতো আমাদেরও বলতে হয়, রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী ?
– মনে অজানা আশংকা জাগে , আগামী পৃথিবীর ইতিহাস কি নতুন করে রচিত হবে?
কোন সে অজানা শক্তি, যার ভয়ে বিশ্বে ত্রাহিত্রাহি অবস্থা?
-ডাক্তারী ভাষায় যদি বলি ,তবে তা ভাইরাস।( বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া নাম কোভিক-১৯)
-প্রকৃতিবাদীরা বলবেন, প্রকৃতির প্রতিশোধ।
– নাস্তিকরা বলবেন, একটি বির্পযয়।
– আস্তিকরা বলবেন,ভাইরাসরূপে সৃষ্টিকর্তার গজব।
আল্লাহর নবী হযরত ইব্রাহীম( আঃ) কে চ্যালেঞ্জ দিয়ে খোদার দুশমন নমরুদ বলেছিল,তোমার খোদার শক্তি থাকলে সৈন্য পাঠাতে বলো।আল্লাহ ক্ষুদ্র একটি মশা পাঠিয়ে নমরুদের জীবন লীলা সাঙ্গ করে দেন।
কেন এ বির্পযয় ?
পৃথিবী এখন আমাদের হাতের মুঠোয়।সব প্রাপ্তি আমাদেরকে আল্লাহর নাফরমানীতে নিমজ্জিত করে ফেলেছে।সব কিছুই আমরা নিজদের ইচ্ছেমতো সাজিয়ে নিতে চাই। সীমাহীন অন্যায়-অপরাধে বির্পযস্ত পৃথিবী ।সৃষ্টি স্র্রষ্টার ক্ষমতার নাগাল পেতে চায়। অনেক ক্ষেত্রে স্রষ্টাকে অস্বীকার করে।অথচ” ক্ষুদ্রাতিক্ষদ্র অনু- পরমানুর ক্ষেত্রে পৌছাছে পর দেখা যায়,সকল যুক্তি একজন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের প্রতিই অঙ্গুলী নির্দেশ করে।কিন্তু সুকঠিন এই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েও মানুষ নিজেকে তুচ্ছ বা নগন্য ভাবতে পারছেনা।বরং বিনয়ের পরিবর্তে তার মধ্যে মাথাচাড়া দিচ্ছে ঔদ্ধত্য ও অহংবোধ। এই অবস্থায় , মানুষ যেমন তার আনন্দ ও ভোগের পথে চলতে গিয়ে সকল রকম প্রতিবন্ধকতা অস্বীকার করতে চায়; ঠিক তেমনিভাবেই মানুষ আজ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চাইছে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব। এটাই বস্তুত আধুনিক বস্তুবাদী –সমাজের মানসিক প্রতিচ্ছবি……………………….।”( সূত্র-বাইবেল কোরআান ও বিজ্ঞান- ডঃ মরিস বুকাইলি ,পৃ-১৮৪,অনুদিত-আখতার- উল – আলম)। এসব বিষয় শুনা , দেখা ও বলারও যেন কেউ নাই। ফলে ভাইরাস/প্রকৃতির প্রতিশোধ/ বির্পযয়/ গজব,যা-ই বলি না কেন, তার ক্ষেত্র কি আমরা প্রস্তুত করিনি? ’জলে ও স্থলে যা কিছু বির্পযয়, তা মানুষের দ্বারা অর্জিত।(আল কোরআন, সুরা রুম, আয়াত-৪১)।
মহামারী থেকে উত্তোরনের উপায় সম্পর্কে আল্লাহর রছুল (সঃ) বলেছেন। মহামারী আক্রান্ত এলাকায় প্রবেশ এবং সেখান থেকে বের হতে তিনি নিষেধ করেছেন।বিশ্বব্যাপী ডাক্তারগন নিজদের জীবন বিপন্ন করে করোনা নির্মূলের চেষ্টা করছেন।আর কর্তৃপক্ষ লকডাউন ও কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে করোনার বিস্তার রোধের চেষ্টা করছেন। জনগনের কল্যাণ চিন্তায় এসব ব্যবস্থা। এ জন্য তাদের সাধুবাদ।চলতে থাকুক প্রতিষেধক ও প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা।এ অবস্থায় আমাদের করনীয় আতংকিত না হয়ে সচেতন হওয়া,নিয়ম মেনে চলা।আর আল্লাহর নিকট কায়মনো বাক্যে
সাহায্য প্রার্থনা করা।
মানব জাতির এ বির্পযস্ত অবস্থায় আমাদের কি কোন বোধোদয় হয়েছে? আমরা কি আমাদের অতীত কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত ? আমাদের প্রতিটি কাজের জবাবদিহী করতে হবে- এ অনুভূতি কি আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ? আমরা কি আমাদের চিন্তা ও কর্মের পদ্ধতি পরিবর্তনের চিন্তা করেছি ? আমরা কি আল্লাহর নাফরমানি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত ? হাদীসে আছে, ”বান্দা যদি আল্লাহর দিকে এক বিগত অগ্রসর হয় তবে আল্লাহর সাহায্য এক হাত অগ্রসর হয়, আর বান্দা আল্লাহর দিকে হেটে অগ্রসর হলে আল্লাহর সাহায্য তার দিকে দৌড়িয়ে অগ্রসর হয়।” সুতরাং আমাদের সিদ্ধান্ত সামগ্রিক কর্মকান্ডের ব্যাপারে যদি ইতিবাচক হয় ,তবে আল্লাহর সাহায্য অবশ্যই আসবে ইনশায়াল্লাহ। কতই না ভাল হতো যে ভয় আমাদের পেয়ে বসেছে, সে ভয় যদি বিশ্ব স্রষ্ঠার প্রতি হতো।
এত বিপদের মধ্যেও আমরা মানুষকে বিপদে ফেলছি, ফেলার চেষ্টা করছি,অপরাধ করেই যাচ্ছি। বাইরে প্রকাশ করছি আল্লাহর ভয়ের কথা। আল্লাহ কি আমাদের মনের খবর রাখেন না?
তাই আসুন, ধরিত্রীর ক্রান্তিলগ্নে একমাত্র সুপার পাওয়ারের নিকট আত্ম-সর্মপন করি, যিনি বিশ্বের¦ শ্রষ্ঠা।” আমরা তার নিকট থেকে এসেছি, তার নিকটই ফিরে যেতে হবে।”।(আল কোরআন, সুরা বাকারা, আয়াত-১৫৬)। হে আল্লাহ , আমাদের ভুলের কারনে আমাদের ধ্বংস করে দিও না।গজব থেকে আমাদের রক্ষা কর । আমরা অসহায়- দূর্বল, আমাদের ক্ষমা কর।আমাদের সংশোধিত হওয়ার সুযোগ দাও।হে আল্লাহ ,তোমার ঘর খানায়ে কাবায়ও তোমার বান্দারা তাওয়াফ করতে পারছে না,এ ঘরের বরকত থেকে আমাদের মাহরুম করোনা। তুমিই আমাদের জন্য যথেষ্ট ,তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নাই।আমরা তোমার উপর নির্ভর করি ,তুমি মহান আরশের প্রতিপালক।তুমি ছাড়া সাহায্য করার আমাদের আর কেহ নাই ।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs