সর্বশেষ সংবাদ :

কুমিল্লার হোমনায় সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কাজ হয় না টাকা ছাড়া, অতিষ্ঠ সাধারণ জনগণ

Share Button

 

রিপোর্টার:-দৈনিক মুক্তকন্ঠ,
২৭ জানুয়ারি, ২০২০। সময ০২.১০. PM

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একশ্রেণি দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্বে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ জনগণ । দলিল লেখক,ষ্ট্যাম্প ভেন্ডার, ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সমস্বয়ে গঠিত এ সিন্ডিকেটের যোগসাজসে সাব রেজিস্ট্রার আবুল কালাম আজাদ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন দেখিয়ে, সাব কবলা দলিলের পরিবর্তে হেবা বিল এওয়াজ, অসিয়ত নামা, ঘোষণা পত্র, আমমোক্তার নামা দলিল রেজিস্ট্রি করে সরকারি রাজস্ব ফাকি দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। তিনি এ অফিসে যোগদানের পর থেকে এ দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতি দলিল থেকে আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা শেরেস্তার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে । এ টাকা দলিল লেখক সমিতি, মসজিদ ও বিভিন্ন জাতীয় দিবসের চাঁদা ছাড়া বাকি টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ ভাটোয়ারা করে আত্মসাত করা হচ্ছে ।

অফিস সূত্রে জানগেছে,২০১৯ সালে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ৬৩৯৮ টি দলিল রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে ।এর মধ্যে অধিকাংশ দলিল হেবাবিল এওয়াহ, আমমোক্তার নামা ও দানপত্র ও ঘোষনাপত্র দলিল। এতে বিপুল পরিমান সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে। গত কয়েক বছরের রেজিস্ট্রি করা দলিল পরীক্ষা করলে এর সন্ধান পাওয়া যাবে বলে মনে করেন অনেকেই।

রবিবার সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়,দলিলের ফি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করলেও শেরেস্তা (অতিরিক্ত ফি) ছাড়া সাব রেজিস্ট্রার কোন দলিল রেজিস্ট্রি করেন না । তার চাহিদা মত টাকা না পেলে বিভিন্ন কাগজ পত্রের অজুহাতে হয়রানি করে। আবার টাকা পেলে সব বৈধ হয়ে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দলিল লেখক জানান,শেরেস্তা না দিলে জমি রেজিস্ট্রি তো দুরের কথা সীমাহীন হয়রানির স্বীকার হতে হয় ভুক্তভোগীদের। তাই বাধ্য হয়েই শেরেস্তা (অতিরিক্ত ফি) দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করতে হয়। তবে কাগজ পত্রে ঝামেলা থাকলে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়।নিয়ম বহি:ভূত ভাবে প্রত্যেক দলিল থেকে শেরেস্তার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হলেও সিন্ডিকেটের ভয়ে এনিয়ে কেহ মুখ খুলতে রাজি হচ্ছে না।

অনুসন্ধ্যানে জানাগেছে,২০১৮ সালে একটি দলিলে (নং-৬২১১/১৮) উপজেলার ভিটি ভাষানিয়া গ্রামের আনোয়ারা বেগম স্বামীকে মৃত দেখানো হলেও ২০১৯ সালে তার স্বামী জহিরুল ইসলাম নিজে অফিসে উপস্থিত হয়ে জমি বিক্রি করেন (দলিল নং-৫৭৪৩/১৯) । এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের গেইটের নিকক অবস্থিত মলু মিয়া প্লাজার জমির রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে বায়না দলিলে চেয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা কমমূল্যে বিক্রি দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে । এতে বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার।শুধু তাইনয় সিন্ডিকেটের যোগসাজসে উপজেলার মিরশি^কারী গ্রামের আবুল কাশেম তার ভাই কুডু মিয়ার জমি স্ত্রীকে দান করে দিয়েছে । (দলিল নং২৭৫৮/১৯)।আলাদা আলাদা জাতীয় পরিচয় পত্র ও বিএস খতিয়ান থাকা সত্বেও বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এ দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলে আবুল কাশেম ও কুডু মিয়া একই ব্যক্তি মর্মে ইউপি চেয়ারম্যান নিকট থেকে প্রত্যয়ন পত্র সংগ্রহ করেন ।

উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, অফিসে কোন শেরেস্তা আদায় করা হয় না । দলিল লেখকরা চুক্তি করে কিছু টাকা অতিরিক্ত নিতে পারে । আর মৃত ব্যক্তির নামে দলিল রেজিস্ট্রির বিষয়টি ছিল করণীক ভুল ।

এ বিষয়ে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার আবুল কালাম আজাদ জানান, অফিসে কোন সিন্ডিকেট নেই ।দলিল লেখকের মাধ্যমে আমার নিকট দলিল আসে । শেরেস্তা আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, অফিসে কোন শেরেস্তা আদায় করা হয় না । দলিল লেখকরা চুক্তি করে দলিল রেজিস্ট্রি সরকারী মূল্যের বেশী টাকা নিয়ে থাকতে পারে । বিষয়টি আমার জানা নেই । তবে অফিসের বিবিধ খরচ বাবদ সামান্য টাকা রাখা হয় বলে তিনি স্বীকার করেছেন । তবে কারোর ইচ্ছার বিরুদ্ধে নয় ।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs