সর্বশেষ সংবাদ :

বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার জন্য নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন করতে চায় তুরস্ক

Share Button

রিপোর্ট:-দৈনিক মুক্তকন্ঠ,
২২ নভেম্বর , ২০১৯। সময ১০.৩০. PM

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনার জন্য নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন করতে চায় তুরস্ক। তিনি বলেন, কারিগরি সহায়তা বা উৎপাদিত দ্রব্য থেকে অথবা অবকাঠামো তৈরী করা, বিভিন্ন খাতে জাপানের জাইকা, জেত্রো, কোরিয়ার কোইকার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন দেশে তাদের কার্যালয় স্থাপন করে যেভাবে তাদের উৎপাদিত দ্রব্য বাজারজাত করে ঠিক সেভাবে তুরস্কও বাংলাদেশে তাদের কার্যালয় স্থাপন করে কর্মপরিচালনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ সম্পর্কে তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতের বলেছেন, যেহেতু বাংলাদেশে তাদের বাজার রয়েছে এবং তারা যেহেতু ইউরোপসহ অন্যান্য দেশের প্রবেশদার, তাই বিশ্বে তাদের একটি অন্যরকম গুরুত্ব রয়েছে। এ ধরনের কার্যালয় স্থাপন করে কর্মপরিচালনা করলে বানিজ্য সংক্রিয়ভাবেই অনেকগুন বেড়ে যাবে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

বৃহষ্পতিবার (২১ নভেম্বর) তুরস্কের আঙ্কারায় অর্থমন্ত্রী তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষকি ব্যবসা বাণিজ্য সম্পর্কে পারস্পারিক আলোচনা হয়। এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আল্লামা সিদ্দিকী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মহা পরিচালক মো. দাউদ আলী।

সূত্র মতে, তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ২০১০ সালে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। তখন তুরস্কে বাংলাদেশের রফতানী বানিজ্য ছিল ৪০০ মিলিয়ন। তখন এ বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, এটিকে ৩ বিলিয়নে উন্নীত করা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন কারনে বিশেষ করে, শুল্ক বাধার কারনে বাংলাদেশের রপ্তানী তেমন বাড়েনি, যা বর্তমানে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। এটাকে কিভাবে ৩ বিলিয়ন ডলার করা যায় সে বিষয়ের আলোচনায় তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতের বলেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের কূটনেতিক সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল। দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেতে আমার একে অন্যের প্রতিযোগী না হয়ে ব্যবসা করতে হবে। যেসব দ্রব্য উৎপাদনে তুরস্ক নিজেই ভাল করছে সে সব দ্রব্য নয় বরং অন্য দ্রব্যসমূহ এবং যেগুলোর প্রতি তুরস্কের চাহিদা রয়েছে সেই দ্রব্যগুলো রপ্তানীতে বাংলাদেশ সুযোগ নিয়ে ভাল করতে পারে। আমরাও বাংলাদেশকে সে সকল ক্ষেত্রে সহযোগীতা প্রদান করতে পারি। বাংলাদেশ কৃষি খাত, এগ্রো প্রসেসিং, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, ফ্রুট প্রসেসিং বিশেষ করে আম, লিচু, কাঠাল, আনারস প্রসেসিং এর মাধ্যমে বানিজ্য বাড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে তুরস্কও সহায়তা প্রদান করতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের গরু উৎপাদনে অগ্রগতির বিষয়টি উঠে এসেছে। এক্ষেত্রেও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ গরু উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছে এবং গুনগত দিক থেকে যেকোন দেশের তুলনায় উৎকৃষ্ট মানের গোশত উৎপাদন করছে সেহেতু এগুলোও রপ্তান বানিজ্যের আওতায় আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে হালাল সার্টিফিকেশনের যে প্রয়োজনীয়তা সেক্ষেত্রে তুরস্ক বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদান করতে পারে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং পাশাপাশি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুবিধাগুলো তুলে ধরলে তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের চামড়াজাত দ্রব্যের প্রতি অত্যধিক আগ্রহ ব্যক্ত করেন। আসিটি খাতে তুরস্ক যেহেতু অত্যন্ত সফল তাই এই দুটি খাতে বাংলাদেশ সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রকল্প প্রেরণের অনুরোধ ব্যক্ত করেন।

পৃথিবীর অন্যতম প্রধান জনবসতি ঘনত্বপূর্ণ একটি ছোট দেশ বাংলাদেশ। এখানে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত বড় হুমকী যা বাংলাদেশর সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে। আর তাই বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবসনের কোনো বিকল্প নেই। তাই অর্থমন্ত্রী এ সমস্যাটি সমাধানে তুরস্কে সহায়তা কামনা করেন। তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে আরো বেশী আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সমস্যাটি সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করার পাশাপশি যেহেতু বিতাড়িত এই অসহায় মানুষগুলো যেহেতু মুসলমান তাই বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলো ভাগাভাগি করে তাদেরকে আশ্রয় প্রদান করলে সমস্যা অনেকটাই সমাধান হতে পারে। ভাইস প্রেসিডেন্ট এ বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্টকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সালাম ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রন করেন এবং তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরের জন্য সম্মতি জানান।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs