সর্বশেষ সংবাদ :

ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

Share Button
1416589905.
স্টাফ রিপোর্টার: ২২ নভেম্বর ২০১৪।
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেশনজটের আশঙ্কায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সংঘাত, সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ছাত্র-ছাত্রীরা হল ছেড়েছেন। ফাঁকা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। সেই সঙ্গে সংঘর্ষ ও খুনের ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ ক্যাডারদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশি অভিযান চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত পুলিশি অভিযানে ছাত্রলীগের ১৭ ক্যাডার গ্রেফতার ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের গ্রেফতার এবং এক ছাত্রলীগ ক্যাডারের বাসা থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।
মহানগর জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন জানান, নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় ছাত্রলীগ ক্যাডার শিপলু আহমদের বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি রিভলবার, চার রাউন্ড গুলি ও ১৭টি রামদা উদ্ধার করে। অভিযানের সময় ওই বাসায় শিপলুকে পাওয়া যায়নি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় শিপলু।
এছাড়া রাতভর অভিযান চালিয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে জালালাবাদ থানা পুলিশ ৫ ছাত্রলীগ ক্যাডারকে গ্রেফতার করেছে বলেও জানান ওসি।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে ছাত্রলীগ ক্যাডার সজল দাস (২৪), জয়ন্ত দাস (২৪), এমদাদুল হক (২৭), বেলাল আহমদ (২২) ও নাইম আহমদ (২১)। এর মধ্যে এমদাদুল হককে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং অন্যদের হামলা ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের সবাই মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক পিযুষ কান্তির দে গ্রুপের ক্যাডার।
এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আরো ১২ ছাত্রলীগ ক্যাডারকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. রহমত উল্লাহ।
তিনি বলেন, সংঘর্ষে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও শাবি কর্তৃপক্ষের দুই মামলা
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্র নিহতের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে মহানগরীর জালালাবাদ থানায় এ মামলা দুটি দায়ের করা হয়।
শাবির রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে।
অপরদিকে জালালাবাদ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২৪০ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। যারা অস্ত্র হাতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে জড়িয়েছিল।
তবে, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সংঘর্ষে নিহত সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র সুমন চন্দ্র দাসের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন।
হল ছাড়লেন ছাত্রীরাও
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেয়া শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যেই হল ছেড়েছেন শাবির ছাত্রীরা। শাবি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশ এলাকায় বিভিন্ন মেস থেকে শিক্ষার্থীরা বাড়ির পথ ধরেন।
শুক্রবার ভোর থেকেই শহীদ জননী জাহানারা ইমাম এবং সিরাজুন্নেসা হল ত্যাগ শুরু করেন ছাত্রীরা। হল ছাড়ার পর অনেককেই পড়তে হয়েছে যানবাহন সংকটে।
মধ্যরাতে সুমনের শেষকৃত্য সম্পন্ন
শাবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শেষ বর্ষের ছাত্র সুমন চন্দ্র দাসের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের শ্যামারচর গ্রামে বাবার উপস্থিতিতেই পোড়ানো হয় প্রিয় ছেলে সুমনের লাশ। রাত সাড়ে ১০টায় সুমনের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। এসময় পুরো গ্রামেই এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগ কর্মী সুমন দাস প্রাণ হারান। নিহত সুমন চন্দ্র দাস সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিমাদ্রি শেখর রায়, শাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র অঞ্জন রায় এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ও ছাত্রলীগকর্মী খলিলুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ঘটনা তদন্তে শাবি’র সাবেক কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাসকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs