সর্বশেষ সংবাদ :

কুমিল্লার হোমনা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস একশ্রেনী দালালের নিয়ন্ত্রনে,

Share Button

1507988_325371690985504_5496419445505484338_n

হোমনা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস একশ্রেনী দালালের নিয়ন্ত্রনে,
শেরেস্তা ফি নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ ।

হোমনা(কুমিল্লা) সংবাদদাতা :
কুমিল্লার হোমনা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এক শ্রেনী দালালের নিয়ন্ত্রনে, শেরেস্তা ফি নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। অফিসে জমি রেজিস্ট্রি করতে আশা একাধিক ব্যাক্তির সাথে আলোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে । সাব-রেজিস্ট্রিারের আস্তাভাজন কিছু চিহিৃত দালাল অফিস সহকারী, মোহরার,ও দলিল লেখকের যোগ সাজসে জমি রেজিস্ট্রি করতে আসা ব্যক্তির নিকট থেকে খাজনার রশিদ, চুড়ান্ত বিএস খতিয়ান, বায়া দলিল থাকলেও অতিরিক্ত শেরেস্তা ফি’র নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে । শেরেস্তা ফি না দিলে নানা অজুহাতে জনসাধারণকে হয়রানী করা হচ্ছে । আবার তাদের কথামত টাকা দিলে কোন কাগজ পত্র, জাতীয় পরিচয় পত্র ছাড়াও দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে যাচ্ছে। এমন কি নাম খারিজ করা জমিও অন্যের নামে রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ রয়েছে এ অফিসের বিরুদ্ধে ।

জানা গেছে, সাব-রেজিস্ট্রার রবি ও সোমবার সপ্তাহে দু’দিন অফিস করেন এবং প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দেড় শ’ দলিল রেজিস্ট্রি হয়।এবং দলিল প্রতি শেরেস্তা ফি বাবদ এক থেকে দেড় হাজার টাকা অফিসের নাম করে আদায় করা হচ্ছে।
অফিস সহকারী নূরুজ্জামান জানান, দলিল রেজিস্ট্রি করতে হলে শেরেস্তা ফি দিতে হয় । শেরেস্তা ফি ছাড়া দলিল রেজিস্ট্রি হয় না । সরকারী নিয়মানুযায়ী দলিল রেজিস্ট্রির ফি ব্যাংকের এফডিয়ার দলিলের সাথে জমা হয় । কিন্ত অফিসের খরচ বাবদ শেরেস্তা অফিসে জমা দিতে হয় । তবে এর কোন ধরা বাধা নিয়ম নাই । তিনি আরো জানান এ টাকা কোন ব্যাংক একাউন্টে জমা হয় না । এ টাকা সাব রেজিস্ট্রার, ডিআর ও আই জিআর সহ স্থানীয় প্রভাবশালীরাও এ টাকার ভাগ পায়। এ ছাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস জামে মসজিদের ইমামের বেতন , দলিল লেখক সমিতির চাদাঁ ও বিভিন্ন জাতীয় দিবসের চাদাঁ এ ফান্ড থেকে দিতে হয়।

সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাব-রেজিস্ট্রার কতিপয় দলিল লেখকের সাথে আতাত করে হেবা ঘোষণা, আমমোক্তার নামা বা হেবাবিল এয়োজ, বা দান পত্র এ ধরনের দলিল রেজিস্ট্রি করে আসছে । এতে সরকারের রাজস্ব ফাকিঁ দেয়া হচ্ছে । সরকারি নিয়ম অনুসারে হেবার ঘোষণা (আত্মীয়তা) দলিলে সরকারি রেজিস্ট্রেশন ফি মাত্র ২০০ ও এনফি (নকলাবিশ) ২০০ টাকা মোট ৪০০ টাকা। অথচ এ ক্ষেত্রে শেরেস্তা আদায় করা হচ্ছে দেড় হাজার টাকা ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দলিল লেখক বলেন, এ নিয়ে ঘাটা ঘাটি করলে জনগন হয়রানী হবে । কিন্ত শেরেস্তা না দিলে কোন দলিলই রেজিস্ট্রি হবে না ।
দলিল লেখক আলমাছ বলেন, নোয়াচর মৌজার ২১০ নং বিএস খতিয়ানের ১৭ শতাংশ জমির দলিল রেজিস্ট্রি করতে সাড়ে ৩ হাজার টাকা শেরেস্তা দিতে হয়েছে ।
ষ্ট্যাম্প ভেন্ডার আবু মুছা বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার মোসাম্মৎ রেহেনা বেগম প্রথম প্রথম কাগজ পত্র চাইত । কিন্ত এখন সব নরমাল । ওনার ভাই ডিস্ট্রিক রেজিস্ট্রার (ডি আর) এবং স্বামী সাব-রেজিস্ট্রার এ জন্য উনি কাউকে পাত্তা দেয়না । এবং কেউ উনার বিরুদ্ধ মুখ খুলতে সাহস পায় না । উনি আইনকে তোয়াক্কা না করে নিজের মত করে অফিস পরিচালনা করছে । এ অফিস নিয়ে পত্রিকায় লেখা লেখি করে লাভ নাই । তিনি এসব তোয়াক্কা করেন না ।

অফিসের নকলনিবিশ সাদেকা বেগম বলেন, সাব রেজিস্ট্রার স্যার অসুস্থ্যার উছিলায় খাস কামরায় বসে দলিল রেজিস্ট্রি করেন এবং শেরেস্তা নিজ হাতে গ্রহন করেন । এছাড়া দলিল তল্লাসি,বা নকল উঠাতে ও সাব-রেজিস্ট্রারকে টাকা দিতে হয় । এবং রেজিস্ট্রি হওয়া দলিল ডেলিভারি দেয়ার সময় কোন টাকা নেয়ার বিধান না থাকলেও এ ক্ষেত্রে সাব রেজিস্ট্রারকে দলিল প্রতি ৫ শ ’টাকা দিতে হয় ।
উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মোসাম্মৎ রেহেনা বেগম বলেন, শেরেস্তা ফি বলতে কিছু নাই । তবে সামান্য অফিস খরচ বাবদ অফিস সহকারী রাখে। কাউকে জোর করে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয় না । তিনি আরো বলেন,এ অফিসের ব্যাপার ভিন্ন। এটি রাতা রাতি বন্ধ করা সম্বব নয়। বেশীর ভাগ দলিল লেখক এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা তারা দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাব খাটায় । তারা দলিলের ফি কমানোর জন্য সাব কবলা না করে হেবা দান বা অন্য দলিল সম্পাদন করলে এখানে আমি জানলেও এর কোন প্রতিকার করতে পারি না । আমার নিকট কোন দালাল আসে না । আমি দলিল লেককের মাধ্যমে দলিল রেজিস্ট্রি করি ।

ডিস্ট্রিক রেজিস্ট্রার (ডি আর) মো জসিম উদ্দিন ভুইয়া বলেন শেরেস্তা ফি নামে কোন ফি রাখার বিষয় আমার জানা নাই । সাব রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির কোন অভিযোগ প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs