সর্বশেষ সংবাদ :

কুমিল্লার তিতাসে যুবককে পরকীয়ার ফাঁদে ফেলে পিটিয়ে হত্যা

Share Button
রিপোর্ট:-দৈনিক মুক্তকন্ঠ,এমএ কাশেম ভূঁইয়া-হোমনা (কুমিল্লা)
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮। সময়: ০৭,১০,PM
কুমিল্লার তিতাসের প্রবাসী যুবক ফয়সালকে পরকিয়ার ফাঁদে ফেলে দাউদকান্দিতে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ৩জনকে আসামী করে গত শনিবার দাউদকান্দি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে নিহত ফয়সালের পরিবারের অভিযোগ থানায় ৫জনকে আসামী করে অভিযোগ দিলেও পুলিশ তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে ৩জনের নামে এজাহারিয় কাগজে স্বাক্ষর রাখে। আর অভিযোগ অস্বীকার করেন দাউদকান্দি থানা পুলিশ।
থানা পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের উলুকান্দি গ্রামের প্রবাসী বাবুল মিয়া সরকারের ছেলে প্রবাস ফেরত মো. ফয়সালের সাথে পরকিয়া প্রেমের সর্ম্পক হয় একই ইউনিয়নের নাগের চরের মো. সফিক মিয়ার মেয়ে ও উলুকান্দির জয়নাল মিয়ার প্রবাসী ছেলে মো. শিপনের স্ত্রী মোমেনা আক্তার মৌ এর। জের ধরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে মোমেনা ফয়সালকে ফোন করে দাউদকান্দির গৌরীপুরে একটি ফ্লাট বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে ফয়সালকে আটকে রেখে মোমেনা তার ভাই রুবেলকে ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানায়। এরপর রুবেল গ্রাম থেকে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মো. ইউসুফ আলী এবং ভাড়াটে সন্ত্রাসী মো. মোমেন মিয়াসহ ৭/৮জনকে সাথে নিয়ে যায়। গৌরীপুরের ওই বাসায় প্রথমে মোমেনাকে বিয়ের জন্য ফয়সালকে চাপ দেয়া হয়। এতে ফয়সাল রাজি না হওয়ায় তাকে শারিরিক ও মানষিক চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। একপর্যায়ে তাদের কিলঘুষিতে ফয়সালের নাক-মুখ থেকে রক্ত বেরুলে তাকে দাউদকান্দির গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানেও তাকে একের পর এক নির্যাতন করতে থাকলে হাসপাতালে উপস্থিত ভর্তি রোগির লোকজনদের মধ্যে থেকে আমেলা বেগম নামের একজন গৌরীপুর ফাঁড়ি থানায় ফোন দিলে পুলিশ ফয়সালকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রেরণ করেণ এবং ঘটনার সাথে জড়িত মোমেনা, রুবেল ও মামুনকে পুলিশের নিকট সোপর্দ করেন।
এদিকে ফয়সালকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে বৃহস্পতিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
সেখানে পোষ্ট মর্টেমে বিলম্ব হওয়ায় থানায় মামলা করতে পারেনী নিহতের পরিবার। তবে পুলিশের নানাহ হুমকি পেয়ে গত শনিবার দুপুরে নিহত ফয়সালের মা নাছিমা বেগম, চাচি লায়লা বেগমসহ ৩/৪জন দাউদকান্দি থানায় গিয়ে মোমেনা আক্তার, রুবেল মিয়া, মামুন মিয়া, ইউসুফ মিয়াসহ ৫জনের নামে অভিযোগ করেন। এতে পুলিশ তাদের সাথে খারাপ আচরণ করে ২জনের নাম বাদ দিয়ে বাকি ৩ জনের নামে মামলার কাগজে স্বাক্ষর রাখেন বলে অভিযোগ করেন।
ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী মোসা. আমেলা বেগম বলেন, কি হয়েছে, সবটা জানি না। ছেলেটাকে ৭/৮জন মিলে মারধর করছে দেখে থানায় ফোন দেই। পরে পুলিশ আসে। যারা মারছে তারা চলে যাচ্ছিলো, পরে লোকজনের সহযোগিতায় তাদেরকে পুলিশের কাছে দেয়া হয়।
নিহত ফয়সালের মা নাছিমা বেগম বলেন, আমরা ৫ জনের নামে অভিযোগ দেই। পুলিশ প্রথমে ওই কাগজে সই নেয়। পরে আবার ৩ জনের নাম লিখে এনে আমাদেরকে বলে ৫জনের নামে মামলা করলে জিরু পাবেন। এই তিনজনের নামে মামলা করেন। দেখি কি করতে পারি। আমরা মামলা করবো না বলে চলে আসতে চাইলে পুলিশ আমাদের গাল-মন্দ করে জোর করে ওই ৩জনের নামের কাগজেও স্বাক্ষর রাখে।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে দাউদকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জের সরকারী মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে ও.সি (তদন্ত) সৈয়দ নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ঘটনার তিনদিন পর ব্যাপক তদন্ত করে ৩জনের নামসহ আরো অজ্ঞাতদের নামে মামলা নেয়া হয়েছে। বাদী পক্ষের লিখিত অভিযোগের আলোকেই মামলা রুজু করা হয়েছে, এখানে পুলিশের কোন লেখা মামলা হয়নি।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফয়সাল মারা গেলেও নানাহ কারণে ময়না তদন্ত না হওয়ায় গত তিনদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহতের লাশ পরে ছিলো। গত শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামের বাড়িতে বেলা ৩টায় লাশ এসে পৌছলে পরিবারের স্বজনসহ এলাকায় শুরু হয় শোকের মাতম। বাবা-মায়ের বিলাপের ধ্বনিতে স্তব্দ হয়ে যায় প্রকৃতি। প্রকৃত খুণিদের বিচার নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পরে পরিবারের লোকজন। সাড়ে ৩টায় শত শত মানুষের উপস্থিতিতে উলুকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাযা শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। সকলের একটাই দাবি ফয়সালের খুনের সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হয়। পুলিশ যদি আসামী পরিবারের সাথে কোন রকম সন্তুষ্ট হয় তাহলে যেনো সংশ্লীষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন সে দাবিও করেন সাংবাদিকদের মাধ্যমে।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs