সর্বশেষ সংবাদ :

কুমিল্লার হোমনা, তিতাসে লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের ছড়াছড়ি,দেখার যেনো কেউনেই

Share Button

titas-photo-19.11.14-300x160

স্টাফ রিপোর্টার: ২০ নভেম্বর ২০১৪।

হোমনা, তিতাসের সড়কগুলোতে অবৈধ লাইসেন্স বিহীন যাহনের ছড়াছড়িতে অতিষ্ট হয়ে পরেছে এখানকার জনজীবন। এসব অধিকাংশ যানবাহনের নেই রেজিষ্ট্রেশন, রোড পারমিট, গাড়ি ফিটনেসসহ বৈধ কোন কাগজপত্র,কাগজ পত্র নেই এসব যানবাহনের চালকদেরও। আর তাই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যে যেভাবে সুযোগ পাচ্ছে সেভাবেই সমস্ত রাস্তা দখল করে যানবাহন চালাচ্ছে ইচ্ছেমত। আর এভাবে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রতিদিনই ঘটছে প্রাণঘাতি দুর্ঘটনা। অবৈধ এসব যানবাহন চলাচল বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন কার্যকরী নেই বললেই চলে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ চায় এলাকার সাধারন ভোক্তভোগি মানুষ।
উপজেলাগুলোর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, ট্রাক্টর, পাওয়ার ট্রলি, নসিমন, বটবডি, অটোরিক্সা, সিএনজি, করিমন, লাটাহাম্বার, ট্রাক্টর ট্রলিসহ এসব অবৈধ যানবাহনগুলো কোন নিয়মনীতি না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী নানা ধরনের পণ্য বোঝাই করে বাস ও ট্রাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে বেপরোয়া গতিতে দুর্দান্ত দাপটের সাথে। আবার ইচ্ছেমত যাত্রীদের কাছ থেকে ৫টাকার ভাড়া ১০, ১০ টাকার ভাড়া ১৫টাকা আদায়ের শত অভিযোগ উঠলে প্রশাসনের তেমন মাথাব্যাথা লক্ষ করা যায়না। একদিকে এসব যানবাহনের চালকদের সেচ্ছাচারিতা অন্যদিকে এসকল যানবাহনের ইঞ্জিন থেকে বের হওয়া কালো ধোঁয়া ও অতিরিক্ত শব্দে মারাত্মকভাবে দুষিত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। কিশোর, যুবক, অশিক্ষিত, অদক্ষ, বৃদ্ধ ও লাইসেন্স বিহীন চালক দ্বারা চালিত এসব যানবাহনের অধিকাংশের মধ্যেই নেই রোড পারমিট, হেড লাইট, লোকিং গ্লাস, র্হণ, ব্রেক ও রেজিষ্ট্রেশন। এসব যানবাহনে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত অহরহ দুর্ঘটনার স্বিকার হয়ে কেউ অকালে প্রাণ হারাচ্ছে আর কেউ বেঁেচ থাকতে হচ্ছে আজীবন পঙ্গুত্ব নিয়ে। আবার এসব রোগীদের বছরের পর বছর চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে অইেশ পরিবার। এসব অবৈধ যান বন্ধে মাঝে মধ্যে প্রশাসনের দায়সারা অভিযান দেখাে গেলেও স্থায়ী বন্ধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নজরে আসেনী বলে এলাকার সচেতন মহল জানায়। ফলে এসব যানবাহন চলছে তো চলছেই।
হোমনাÑতিতাসের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই সাপ্তাহিক হাটÑবাজার বসে। এসব হাট বাজারের পশু কেনাÑবেচার জন্য ক্রেতাÑবিক্রেতারা সমানতালে কেউ পায়ে হাটিয়ে আবার কেউ পাওয়ার ট্রেলার ও শেলো ইঞ্জিনচালিত নসিমন করিমনে করে হাটÑবাজারে আনা নেয়া করে। আর এসব যানবাহন চালায় অদক্ষ অশিক্ষিত ও অপ্রাপ্ত চালকরা। অদক্ষ চালনায় ও যত্রতত্র পাকিংয়ের ফলে রাস্তায় দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হয়।
এদিকে বিআরটিএ অফিস সূত্রে জানা যায়, ইঞ্জিন চালিত যেকোন যানবাহন রাস্তায় চলাচল করতে হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ীর রেজিষ্ট্রেশন, ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং রোড পারমিট বাধ্যতামূলক। স্থানীয়ভাবে এসব সেলোইঞ্জিন দিয়ে তৈরী যানবাহন রাস্তায় চলা সম্পূর্ণ অবৈধ।
স্থানীয় সচেতন মহল ও বিশিষ্টজনরা মনে করেন, রাস্তাঘাটে বৈধ যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শিগ্রই এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া অতিব জরুরী। আর এর উদ্যোগ প্রশাসনের পক্ষ থেকেই নিতে হবে। তা না হলে রাস্তাঘাটে চলাচল করী পথচারী ও স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষর্থীরা সড়ক দূর্ঘটনার মত প্রাণঘাতি দুর্ঘটনায় ধ্বংস হতে থাকবে। এসব পথচারী ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে পথ চলা নিশ্চিত করতে আশু কার্যকর ভূমিকা গ্রহন করবে প্রশাসন এমনটা আশাবাদী তারা।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs