সর্বশেষ সংবাদ :

ভূয়া ডাক্তার ও ক্লিনিকের অভয়ারণ্য গৌরীপুর বাজার!

Share Button

11c5nlinic_Visit_News_Photo

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম ঢাকা, ১৯ নভেম্বর ২০১৪।

বুধবার কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান আকম্মিক পরিদর্শনে গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান এবং ১ অনুপস্থিত ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পপ কর্মকর্তা ডা. কাজী শামীম হোসেনকে নির্দেশ দেন।
অতপর ভূয়া ডাক্তার ও অবৈধ ক্লিনিকের অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ গৌরীপুর মহাসড়ক থেকে উত্তর দিকে হোমনা সড়কে অবস্থিত ৭৫টি ক্লিনিকের বিভিন্ন কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করতে জেলা ক্লিনিক পরিদর্শন কমিটি দিনভর কার্যক্রম চালিয়ে ৫টি ক্লিনিক বন্ধ ও ৩ ভূয়া ডাক্তার সনাক্ত করেন। সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই টিমে আরো ছিলেন- ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, এমওসিএস ডা. মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম ভূইয়া প্রমুখ।
যে ৫টি ক্লিনিক সাময়িক বন্ধ করে সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন সেগুলো হচ্ছে আনোয়ারা সেন্ট্রাল হসপিটাল, মুক্তি মেডিকেল সেন্টার, গৌরীপুর আধুনিক হাসপাতাল, গৌরীপুর মডার্ণ ডায়াগনষ্টিক এন্ড ডেন্টাল সেন্টার এবং লাইফ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। যে ৩ জন ভূয়া ডাক্তার সনাক্ত হয় তারা হলো ফৌজিয়া জামান (ডা. তানসিনা আফরিনের ডাক্তারী সদন জালিয়াতি), আয়ুর্বেদি চিকিৎসক সুষমা খানম (ভূয়া এমবিবিএস লিখে ডাক্তারী করছেন), খোরশেদ আলম (তিনি কম্পিউটার থেকে এমবিবিএস ডিগ্রী লিখে ব্যবস্থাপত্র বের করে ৪০০ টাকা ফিস নিচ্ছেন)। উল্লেখ্য কয়েকদিন আগে হযরত বশির উল্লাহ (রঃ) মেডিকেল এন্ড ডায়াগনষ্টিক থেকে এসএসসি পাশ এক ভূয়া মহিলা ডাক্তার ফাজিলা আজিজকে মোবাইল কোর্ট ২ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এ প্রসঙ্গে সেখানের এক এমবিবিএস ডাক্তার ক্লিনিক পরিদর্শন টিমকে বলেন, আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি এই গোরীপুর বাজারে এত এত ক্লিনিক-প্যাথলজীতে এই মুহূর্তে আমি ছাড়া আর একজনও এমবিবিএস ডাক্তার নাই। তাহলে বুঝুন এই গৌরীপুর বাজার কেমন ভূয়া ডাক্তারের অভয়ারণ্য?
জেলা ক্লিনিক পরিদর্শন কমিটির কর্মকর্তাগণ বলেন, যে সকল ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে সেগুলোর অধিকাংশেরই লাইসেন্স নাই, অপারেশন চললেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নাই, অজ্ঞান করা ডাক্তার নাই, পোষ্ট অপারেটিভ রুম নাই, ডিউটি ডাক্তার নাই, ডিপ্লোমা নার্স নাই, এক্সরে রুমে টিনের দরজা, এক্সরে ও প্যাথলজী টেকনেশিয়ান নাই, সনোলজিষ্ট নাই।
মজার বিষয় হলো কিছু বালির ব্যবসাই সম্প্রতি এই ক্লিনিক ব্যবসায় এসে লাইসেন্স ছাড়াই ক্লিনিক উদ্বোধন করে ভূয়া ডাক্তারকে এমবিবিএস ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সাজিয়ে সহজ সরল রোগীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। দিনভর অভিযান চালিয়েও সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিদর্শন টিম উক্ত বাজারের প্রায় ৭০টি ক্লিনিক প্যাথলজীর অর্ধেকও পরিদর্শন শেষ করতে পারেননি।
দীর্ঘ ৩ কিলোমিটার লম্বা সম্ভবত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ভূয়া ডাক্তার ও ভূয়া ক্লিনিকের অভয়ারণ্য গৌরীপুর বাজার পরিদর্শন শেষ করতে আরো ২/৩ দিন লাগবে। পরবর্তীতে আকস্মিক পরিদর্শন করে সেগুলোর বিরুদ্ধে নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে উক্ত স্থানের ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি ও তিতাস উপজেলা চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সরকার, সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান কুমিল্লার সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে জেলা ক্লিনিক পরিদর্শন টিমের এ আকস্মিক পরিদর্শনে এবং তাদের রিপোর্টের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলে উক্ত এলাকার ভূয়া ডাক্তারি ও ভূয়া ক্লিনিক ব্যবসা অনেকটাই বন্ধ হবে।
তারা আক্ষেপ করে বলেন ১৯৮৬ সালে মহাকাশ ডায়গনষ্টিক দিয়ে এবং ২০০২ সালে মোহন জেনারেল হাসপাতাল দিয়ে গৌরীপুরে এ ব্যবসা শুরু হলেও এখানে এখন এ বাণিজ্য রমরমা, লক্ষ লক্ষ টাকা আয়ের কারণে এখানে জায়গার দামও ঢাকার চেয়েও বেশি, এখন সেখানে বালুর ব্যবসায়ী থেকে কসাই পর্যন্ত কেহই আর এই ব্যবসায় নামতে বাদ নেই। সকলেই এখন ডাক্তারীর নামে মানুষ ঠকানোর অভয়ারণ্য থেকে মুক্তি চায়।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs