সর্বশেষ সংবাদ :

ইমরানদের ‘ইয়াবা-বাবা ও গাঁজাখোর’ বললো অপর অংশ

Share Button

গণজাগরণ মঞ্চের ইমরান এইচ সরকারপন্থীদের ‘ইয়াবা-বাবা ও গাঁজাখোর’ আখ্যা দিয়েছে কামাল পাশার নেতৃত্বাধীন মঞ্চের অপর অংশ।

শুক্রাবার সন্ধ্যায় ইমরানপন্থীদের পূর্বনির্ধারিত ‘প্রতিবাদী গণসমাবেশে’র বিপরীতে কামাল পাশাপন্থীদের সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন জালাল (বিচ্চু জালাল) এমন মন্তব্য করেন।

বিচ্চু জালাল বলেন, ‘এই সকল নেশাখোরদের দিয়ে বিপ্লব হবে না। বিপ্লব করতে হলে মায়ের বুকের দুধ খাওয়া লাগে। ইয়াবা-বাবা হয়ে আর গাঁঞ্জা (গাজা) খেয়ে মাতলামি করে কোনোদিন জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বিপ্লব অর্জন করা সম্ভব হবে না।’
imran
তিনি বলেন, ‘এরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। তারা দেখেনি বিপ্লব কত কষ্টের। আমার মা বলতেন- চোখের পানি ঝরিয়ে কোনোদিন বিপ্লব করা যায় না। সেটা করতে সাহস ও শক্তির প্রয়োজন। যার কোনোটিই এই সকল স্বার্থান্বেসী ও নেশাখোরদের নেই।’

এ মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘আমি যুদ্ধ করেছি, বিভিন্ন অপারেশনে আমি সফল হয়েছি। বিচ্চু জালাল নামে পরিচিত হই তখন থেকেই। এছাড়া নিজামী-মুজাহিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী দিয়েছিলাম, অথচ গণজাগরণের মঞ্চে আমাকে মাইক ধরতে দেয়নি।’

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এ সকল চীনপন্থী কমিউনিস্টরা ‘নকশাল’ করেছিল। প্রথমে আমরা মনে করেছিলাম, তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভালো কাজ করছে। পরে দেখলাম, তারা আমার দেশের হাজার মা-বোনের ইজ্জত নিচ্ছে এবং অনেক লোককে মেরে ফেলেছে।’

‘আজ তারা গণজাগরণ দখল করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো মূল্যায়নই করে না। এত মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ করে চিৎকার দেয়, অথচ প্রকৃতি মুক্তিযোদ্ধাদেরকে মঞ্চে মাইক ধরতে দেয়া হয় না’ আক্ষেপ বিচ্চু জালালের।

বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হওয়া এই সমাবেশে প্রথমে কামাল পাশাপন্থী মঞ্চ কিছুক্ষণ সমাবেশ করার পর প্রতিবাদী গান পরিবেশন শুরু করে। পরে ইমরানপন্থীদের মূল সমাবেশ শুরু হলে তারা আবার বক্তব্য শুরু করে।

সন্ধ্যায় ইমরানের মঞ্চের সমাবেশ শেষ হলেও পাশার মঞ্চে বক্তব্য চলতে থাকে। এসময় মুক্তিযোদ্ধা বিচ্চু জালাল ইমরান সমর্থিদের উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেন।

সমাবেশে ইমরান অভিযোগ করে বলেন, ‘গত সপ্তাহে যখন আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করি, তখন থেকে আজ পর্যন্ত এখানে কোনো সমাবেশের কথা ছিল না। অথচ এখন পাশেই একটি সমাবেশ হচ্ছে।’

‘তাদের মাইক এমনভাবে সেট করা, যে আমাদের কোনো কথাই স্পষ্ঠ বোঝা যাচ্ছে না। এমনকি এর আগে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে, এখনও পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে’ বলেন তিনি।

ইমরান বলেন, ‘এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় সরকার কাদের পক্ষ নিয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে- অতীতে কাদের মোল্লার রায় নিয়ে যখন উল্টাপাল্টা রায় হল, তখন এই গণজাগরণের আন্দোলনের ফলেই সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়। প্রয়োজনে আবার জনগণ আন্দোলনে নামবে।’

এ সময় তিনি মঞ্চের পক্ষ থেকে পরবর্তী কর্মসূচিও ঘোষণা করেন। ইমরান বলেন, আগামী ৯ অক্টোবর ১২টায় আইন মন্ত্রণালয় অভিমুখে গণপদযাত্রা।

সেখানে সংবিধানের ৪৯ নং ধারায় রাষ্ট্রপতি যে ফাঁসির আসামিকে ক্ষমা করে দিতে পারে এটাকে সংশোধন করার দাবি জানানোসহ জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধের দাবি জানানো হবে।

এছাড়া ১৪ ও ১৫ নভেম্বর গণজাগরণ মঞ্চের জাতীয় কনভেনশন এবং এই কনভেনশন সফল করতে আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশের সকল জেলাতে গণপদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs