সর্বশেষ সংবাদ :

বিচারক বাসুদেব কি সুপারম্যান, প্রশ্ন মোহাম্মদ আলীর

Share Button

015d577dbf73b6205093e1a2f694c04c-Khaleda

রিপোর্টঃ-মোঃ সফিকুর রহমান সেলিম ঢাকা, ১৯ নভেম্বর ২০১৪।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা লিভ টু আপিলের শুনানি অব্যাহত রয়েছে। বুধবার এ মামলায় তৃতীয় দিনের মতো শুনানি হয়েছে।

শুনানিতে খালেদার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী বিচারক বাসুদেব রায়ের অভিযোগ গঠনের বিষয়ে বলেন, ‘একজন বিচারক কিভাবে একদিনের মধ্যে পাঁচশ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট পড়ে অভিযোগ গঠন করলেন, তা আমার বোধগম্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘একজন সুপারম্যানের পক্ষেও এই অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল ডকুমেন্ট পড়ে অভিযোগ গঠন করা সম্ভব নয়।’

আইনজীবী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বিচারক বাসুদেব রায় যে দিন নিয়োগ পেয়েছেন তার পরের দিনই তিনি এ মামলায় অভিযাগ গঠন করেছেন। কিন্তু নিয়ম হলো কোনো মামলায় অভিযোগ গঠনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট মামলার যাবতীয় ডকুমেন্ট পড়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে অভিযোগ গঠন করা। বিচারক বাসুদেব রায় সেটি না করে মেকানিক্যালি এ মামলায় ‍অভিযোগ গঠন করেছেন।’

এর আগে খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন তার শুনানিতে বলেন, জিয়া অরফানেজ মামলায় খালেদা জিয়ার সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি অরফানেজ বোর্ডের কোনো দায়িত্বেও ছিলেন না। সুতরাং এখানে তিনি কোনোভাবেই জড়িত থাকতে পারেন না।

বুধবার প্রধান বিচারপতি মো: মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চ তৃতীয় দিনের মতো শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেছেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও এজে মোহাম্মদ আলী। তাদের সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান।

বুধবার সকালে জয়নুল আবেদীন বিচারিক আদালতে খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়াকে চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনের উপর শুনানি করেন। এরপর দুপুরে এজে মোহাম্মদ আলী অভিযোগ গঠন বাতিল চেয়ে করা আবেদনের উপর শুনানি করেন।

খালেদার বিরুদ্ধে এ মামলায় বিচারক আদালত কর্তৃক অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন করাকে বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে আদেশ দেয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারক বাসুদেব রায়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs