সর্বশেষ সংবাদ :

একজন ব্যাংকিং বিবর্তক জিএম মোঃ জহিরুল ইসলাম

Share Button

রিপোর্ট:-দৈনিক মুক্তকন্ঠ,
২২ জুলাই ২০১৮। সময়: ১১,২০,AM,

আজ একজন ব্যাংক কর্মকর্তার কথা আপনাদের জানাবো যিনি আপন কর্মগুনে দেশের সর্ববৃহৎ রাষ্টায়ত্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় নিজেকে সফল ব্যাংকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আপামর জনসাধারণের নিশ্চয়তা-নির্ভরতা প্রদানকারী  বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে নির্বাহি পর্যায়ে এমন অনেক কর্মকর্তা আছেন যারা সৃজনশীলতা, কর্মদক্ষতা, কর্মোদ্দীপনা এবং নেতৃত্বের অন্যন উদাহরণ। এই অসামান্য কর্মতর্কা বর্তমানে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, জেনারেল ম্যানেজারস অফিস, ফরিদপুর এর কর্ণধার মাননীয় জেনারেল ম্যানেজার মোঃ জহিরুল ইসলাম। একজন ব্যাংকারের যে সকল গুনাবলী তার কর্মজীবনকে উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময় করে তার সব কিছুই এই উদ্যমী ব্যাংকারের মধ্যে বিদ্যমান।

পারিবারিক জীবনঃ

মোঃ জহিরুল ইসলাম ১ জানুয়ারী ১৯৬০ সালে কুমিল্লার হোমনা উপজেলাধীন রঘুনাথপুর গ্রামের এক শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম এবং মাতার নাম আসিয়া খাতুন। তার সহধর্মীনি রায়হানা ইসলাম। তিনি এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক । মোঃ জহুরুল ইসলাম এর পিতা ¯^নামধন্য সমাজসেবক হিসেবে পরিচত ছিলেন। তিনি বহু স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন ।

শিক্ষা জীবনঃ

মেধাবী জহিরুল ইসলাম এর শিক্ষা জীবন শুরু হয় হোমনায় ১৯৬৫ সালে হোমনা কাশীপুর হাশেমিয়া  উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৭৫ সালে এসএসসি এবং ১৯৭৭ সালে সরকারী ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৮০ সালে চট্ট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএ (অনার্স) এবং ১৯৮১ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।

প্রশিক্ষণঃ

পেশাগত প্রয়োজনে মোঃ জহিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ গ্রহন করেন। যার মধ্যে সোনালী ব্যাংক স্টাফ কলেজ ঢাকা কর্তৃক আয়োজিত রুরাল ব্রাঞ্চ ম্যানেজমেন্ট(১৯৯০), ক্রেডিট ম্যানেজমেন্ট(১৯৯১), ট্রেনিং অব বিআরডিবি-ইউসিসিএ(১৯৯২), ব্যাংকিং ”  এন্ড প্রাকটিস”(১৯৯৩), রুরাল/এগ্রিকালচারাল/টিসিসিএ ক্রেডিট(১৯৯৪), ক্রেডিট ম্যানেজমেন্ট এন্ড ফরেন এ·চেঞ্জ-ইন্টারনেশনাল ট্রেড ফাইন্যান্স(২০১১)। সোনালী ব্যাংক ট্রেনিং ইনিস্টটিউট চট্টগ্রাম কতৃক আয়োজিত ইরিগেশন ইকুইপমেন্ট লোন(১৯৯১), ফান্ড ম্যানেজমেন্ট এন্ড রিকভারী প্রসিডিউর্স(২০০১), স্পেশাল ইনভেষ্টমেন্ট স্কিম(২০০২), হিউম্যান রির্সোস ম্যানেজমেন্ট(২০০৫)। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট কতৃক পরিচালিত ক্রেডিট ম্যানেজমেন্ট(১৯৯৫), বিজনেস কমিউনিকেশন এন্ড ব্যাংকিং করোসপন্ডেস(২০০০), বেজেল- ওও ইমপ্লিমেন্টেশন(২০০৯) এ  অংশ নেন। এছাড়া খামারবাড়ী ঢাকা কর্তৃক আয়োজিত ক্রপস ডাইভারসিফিকেশন ক্রেডিট প্রোগ্রাম(১৯৯৪) এ অংশ গ্রহন করেন। উল্লেখ্য যে তিনি একজন আইবিবি ডিপ্লোমেড এসোসিয়েট।

চাকুরীজীবনঃ

সোনালী ব্যাংক ¯^াধীনতাত্তোর বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ অবকাঠামো সম্পন্ন রাষ্ট্রীয় ব্যাংক। মোঃ জহিরুল ইসলাম প্রবেশনারী অফিসার হিসাবে তার পথ চলা শুরু করেন ১৯৮৩ সালে। শিক্ষানবিশ হিসাবে কুমিল্লা প্রিন্সিপাল অফিসে বিভিন্ন সেকশনে কাজ করেন। মাঠ পর্যায়ে ব্যাংকিং শুরু করেন ১৯৮৫ সালে কুমিল্লা কর্পোরেট শাখায়। সিনিয়র অফিসার হিসাবে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন ১৯৮৯ সালে । এরপর শুরু হয় শাখা ব্যবস্থাপক হিসাবে পথ চলা। বিআরসি ১৯৮৩ ব্যাচের যেসকল কর্মকর্তা ১৯৮৯ সালে পদোন্নতির পর শাখা ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পান মোঃ জহিরুল ইসলাম তাদের একজন। তিনি  দীর্ঘ ১৯ বছর শাখা ব্যবস্থাপক হিসাবে বিভিন্ন শাখায় দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত হোমনা শাখা, ১৯৯৪ সালে মুরাদনগর শাখা এবং ১৯৯৫ সালের ১লা মার্চ প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে পদোন্নতি প্রাপ্তির পর একই শাখায় ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত শাখা ব্যবস্থাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে গৌরীপুর, দাউদকান্দী এবং কুমিল্লা কোর্ট বিল্ডিং এর মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখায় একজন সফল শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ডিসেম্বর ৮, ২০০১ সালে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে পদোন্নীত  হয়ে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট শাখার শাখা ব্যবস্থাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। মেধাবী ও কর্মদক্ষ এ সফল ব্যাংকার ২১ জুলাই, ২০০৮ এ সহকারী মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং প্রিন্সিপাল অফিস মুন্সীগঞ্জের আঞ্চলিক প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ২০১১ সালে কলেজ গেট শাখা, ঢাকার শাখা ব্যবস্থাপক ছিলেন। উল্লেখ্য যে, শাখা ব্যবস্থাপনার মতো আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনাও তিনি প্রায় দীর্ঘ ১০ বছর সাফল্য প্রদর্শন করতে সমর্থ হয়েছেন। মোঃ জহিরুল ইসলাম ২০১২ সালে উপ-মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি লাভ করে মাদারীপুর প্রিন্সিপাল অফিসের আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে যোগ দেন। তার সুদৃঢ় নেতৃত্বে সোনালী ব্যাংকের মাদারীপুর অঞ্চলের শাখাসমুহ ইষ্পিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়। ২০১৩ সালে সোনালী ব্যাংকের বৃহৎ প্রিন্সিপাল অফিস কুমিল্লার অঞ্চলের প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহন করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে প্রিন্সিপাল অফিস সদরঘাট, ঢাকায় দায়িত্ব পালন করেন। কর্মপ্রাণ এ ব্যাংকার ৪ জানুয়ারী, ২০১৮ তে মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন এবং ১৮ জানুয়ারী, ২০১৮ তারিখে জেনারেল ম্যানেজারস অফিস ফরিদপুর এ জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। অদ্যবধি সফলতার সাথে ৮ টি জেলার ৪ টি প্রিন্সিপাল অফিস ২ টি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং ১০৫ টি শাখা সাফল্যের সাথে পরিচালনা করছেন।

সাফল্যঃ

তিনি প্রায় ৩৫ বছর চাকুরী জীবনে এই সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের যেখানে যে দায়িত্ব পেয়েছেন সেখানেই নিষ্ঠার সাথে নিরলস প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছেন।  তার মেধা কর্মোদ্যোগের মাধ্যমে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করায় তার নেতৃত্বাধীন অধিকাংশ শাখা ইতিমধ্যে ব্যবসা সফল শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এ ব্যাংকার বরাবরই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অগ্রণী ভুমিকা পালন করে আসছেন। কলেজ গেট শাখা, ঢাকার শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩৮৮% অর্জন করেন। ২০১৩ সালে প্রিন্সিপাল অফিস কুমিল্লার অঞ্চল প্রধান থাকা অবন্থায় তার সুযোগ্য নেতৃত্বে চার বছরে কুমিল্লা অঞ্চল সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করে। প্রিন্সিপাল অফিস সদরঘাট এর আওতায় ২৫ টি শাখা রয়েছে। তিনি ঢাকা শহরের বাইরে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায়েও প্রিন্সিপাল অফিসের আওতাধীন শাখা রয়েছে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে শাখাগুলোর তত্ত¡াবধান করতেন। তার দক্ষ নেতৃত্বে সদরঘাট প্রিন্সিপাল অফিসের প্রায় সব ব্যবসায়িক টার্গেটই পূরন করেছিলেন। তিনি আরও জানান ডিসেম্বর, ২০১৬ এর ডিপোজিটের তুলনায় ডিসেম্বর, ২০১৭ এর ডিপোজিট দ্বিগুন ্(২০০%) অর্জিত হয়েছে। মুনাফা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২৫০% অর্জিত হয়েছে।

বর্তমানে জেনারেল ম্যানেজারস অফিস ফরিদপুর এর দায়ীত্বভার গ্রহণ করার পর এ কার্যালয়ের আওতাধীন শাখা সমুহে ডিপোজিট গত বছরের মে মাসের তুলনায় এ বছরের মে মাসে ১০৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে অত্র অঞ্চলের ডিপোজিটের আনুপাতিক লক্ষ্যমাত্রার ৯১%অর্জিত হয়েছে। ঋণ অগ্রিম মে, ২০১৭ এর তুলনায় এ বছরের মে মাসে ১১৪% বৃদ্ধি পেয়েছে আনুপাতিক লক্ষ্যমাত্রার ৯৬%অর্জিত হয়েছে। ফরিদপুর জেনারেল ম্যানেজারস অফিস এর আওতাধীন লোকসানী শাখার সংখা বিগত বছরের তুলনায় এ বছরের মে মাসে ৫০% কমিয়ে আনতে সামর্থ্য হয়েছেন। সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে আঞ্চলিক মুনাফায়, যেখানে বিগত বছরের মে  মাসে এ অঞ্চলের নীট ক্ষতি/লোকসান ছিলো  ২.৩৯ কোটি টাকা সেখানে এ বছর মে মাসে লাভের পরিমান ৯.৭৮ কোটি টাকা । জুন- ২০১৮ তে অত্র অঞ্চলের মুনাফার পরিমান দাড়িয়েছে ২১.৮৯ কোটি, যা মে- ২০১৮ তুলনায় দ্বিগুন এবং জুন-২০১৭ তিনগুনেরও বেশী (জুন-২০১৮ মুনাফা ৫.৮১ কোটি)।  মে-২০১৮ তে শ্রেণীকৃত হতে আদায়ে ফরিদপুর জেনারেল ম্যানেজারস অফিস ৫ম থেকে ২য় স্থানে উঠে এসেছে। গত ২৭ জুন, ২০১৮ তে জেনারেল ম্যানেজারস অফিস, ফরিদপুর এর তত্বাবধানে শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ে শাখা পর্যায়ে মধু ক্যাম্প এর আয়োজন করা হয়। এ ক্যাম্পে শ্রেণীকৃত ঋণ হতে ৪৪০.৭৭ লক্ষ টাকা আদায় হয় যা সোনালী ব্যাংকের মাননীয় সিইও এন্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টার মহোদয় ২০১৮ কে এগিয়ে যাওয়ার বছর এবং ঋণ আদায়ের বছর হিসাবে ঘোষনা করেছেন তা বাস্তবায়নে জেনারেল ম্যানেজার মোঃ জহিরুল ইসলাম কর্তৃক বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের ¯^াক্ষর বহন করে। এ সাফল্য জেনারেল ম্যানেজারস অফিস ফরিদপুর এর আওতাধীণ ৬ টি অঞ্চল প্রধান, ১০৫ টি শাখা ব্যবস্থাপক সহ সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের উদ্বুদ্ধকরণের বহিঃ প্রকাশ। তার বিভিন্ন সময়ের অর্জিত সাফল্যে ব্যাংক কর্তৃক প্রসংশাপত্র, ক্রেষ্ট এবং আর্থিক প্রনোদনা লাভ করেছেন।

কর্মজীবনের আদর্শঃ

মোঃ জহিরুল ইসলাম মনে করেন, যে কোনো পেশাজীবির নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করাও বড় এবাদত। তিনি তার সহকর্মীদের প্রতিনিয়তই কর্মের মাধ্যমে ধর্ম পালনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। মোঃ জহিরুল ইসলামের মতে বর্তমান ব্যাংকিং ব্যবসায় গ্রাহক যেখানে ভালো সেবা পাবে সেখানেই যাবে। তাই গ্রাহক সেবাই একজন ব্যাংকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, অনলাইন ব্যাংকিং চালু এবং সোনালী ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রদ্ধতি আধুনিকায়ন তথা ডিজিটালাইজেশনের ফলে এ ব্যাংকের সেবার মান শতভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তারুণ্য উদ্দীপ্ত ¯^প্নদর্শী এই ব্যাংকার বর্তমান সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর সিইও এন্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টার আলোকিত ব্যাংকিং ব্যক্তিত্ব জনাব ওবায়দুল্লা আল মাসুদ মহোদয়কে বাংলাদেশে আধুনিক ব্যাংকিং সেক্টরের একজন মহাথীর হিসাবে মূল্যায়ন করেন, যার নেতৃত্বে শুধু সোনালী ব্যাংকই নয় পুরো ব্যাংকিং সেক্টরে নতুনমাত্রা যুক্ত হবে বলে তিনি বিশ^াস করেন। সিইও এন্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টার মহোদয় ২০১৭ সালকে সোনালী ব্যাংকের ঘুরে দাড়ানোর বছর হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার দিক নির্দেশনা অনুযায়ী গত বছর নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। যার ফল ¯^রুপ সোনালী ব্যাংক তার অতীত গ্লানি পেছনে ফেলে ঘুরে দাড়াতে সক্ষম হয়েছে।  ২০১৮ সালকে মাননীয় সিইও এন্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টার মহোদয় এগিয়ে যাওয়ার বছর এবং ঋণ আদায়ের বছর হিসাবে ঘোষনা করেন। সে লক্ষ্যে শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ে মাঠ পর্যায়ে যে সকল সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়, তা পর্যালোচনা করার জন্য দিক নির্তেশনা আসে। এ সকল বাধা অতিক্রম করে অদ্যবধি শ্রেণীকৃত ঋণ হতে আদায় চলছে। বৈশাখ, ১৪২৫ উপলক্ষ্যে খেলাপি ঋণ আদায়ে হালখাতা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। যা সোনালী ব্যাংকের নতুন নেতৃত্বের উদ্ভাবনী পদক্ষেপ এবং সোনালী ব্যাংকের ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। বর্তমান সিইও এন্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টার মহোদয় তার ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বে ছাপ ব্যাংকিং এর প্রতিটি ক্ষেত্রেই রেখেছেন। কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের প্রনোদনা বা কাজের সাফল্যের পুরুষ্কার প্রদান করে সবাইকে কাজে নিয়মিত উদ্দিপ্ত করছেন। ব্যাংকের সকল ক্ষেত্রের কর্মশক্তিকে এক করে আমাদের এই সর্ব বৃহৎ রাষ্ট্রিয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রতিনিয়ত অগ্রগামী করছেন। এ ব্যাংকের প্রতিটি পর্যায়ে যাতে শুদ্ধাচার পরিপালিত হয় এবং তার বৃহৎ কর্মীবাহিনী ও প্রতিষ্ঠানটি যাতে নিরাপদে থাকে সেবিষয়েও আমাদের সিইও এন্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টার মহোদয় সজাগ দৃষ্টি সর্বদা বিদ্যমান। জেনারেল ম্যানেজার মোঃ মোঃ জহিরুল ইসলাম মনে করেন, আমাদের শ্রদ্ধেয় সিইও এন্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টার জনাব ওবায়দুল্লা আল মাসুদ এর চলমান দায়িত্বকালটি সোনালী ব্যাংক এর জন্য একটি বিবর্তন কাল । তার নেতৃত্বে সোনালী ব্যাংক এই সোনার বাংলার সোনালী ভবিষ্যত এ পৌছাবে এবং এ ব্যাংকটি আপামোর জনসাধারণের একটি আস্থার স্থানে পরিনত হবে। শহর ও গ্রাম পর্যায়ে গৃহ নির্মান ঋণ, এসএমই ঋণ বিতরনসহ বৈদেশিক রেমিটেন্স বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়ে সুফল লাভ হয়েছ। তার মতে নিয়মাচার মেনে এবং ব্যবসায়িক দিক যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে ঋণ বিতরন করা হলে সে ঋণ কুঋণে পরিনত হয় না। তিনি বলেন, শাখা পর্যায়ে দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং ভাল আচরনের কর্মকর্তা/কর্মচারী পোষ্টিং দেয়া উচিৎ। কারণ, শাখাগুলোই হচ্ছে ব্যাংকের প্রাণ।

ব্যক্তিগত জীবনেও মোঃ মোঃ জহিরুল ইসলাম যথেষ্ট সৃজনশীল এবং মানবতা প্রেমী। তিনি বাসার ছাদে ফল ও ফলের গাছ লাগিয়েও সফলতা লাভ করেছেন। তিনি আস্থা সোস্যাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এর উপদেষ্টা হিসেবে সম্পৃক্ত আছেন। যেটি একটি আর্থ-সামাজিক সংগঠন এবং আত্ম-মানবতার সেবায় নিয়োজিত। বর্তমানে এ সংগঠনটির একটি মেডিক্যাল টিম ক·বাজারে রোহিঙ্গা শ্মরনার্থী ক্যাম্পে কাজ করছে। প্রগতিশীল মনের অধিকারী জহিরুল ইসলাম মনে করেন সোনালী ব্যাংক লিমিটেড দেশের বৃহত্তম বাণিজিক ব্যাংক। এখানে দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের বিশাল অংশ এ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। সরকারী বিভিন্ন উন্নয়ন কাজেরও বড় অংশীদার সোনালী ব্যাংক। তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংকে উন্নয়ন মানেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। দেশ ও জনকল্যানের ¯^ার্থে সোনালী ব্যাংকের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে হবে।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs