সর্বশেষ সংবাদ :

বাংলাদেশি পর্যটক হয়রানি বন্ধের নির্দেশ ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর

Share Button

রিপোর্ট:-দৈনিক মুক্তকন্ঠ,
০৯ জুলাই ২০১৮। সময়: ১১,৫০,PM,

আখাউড়া-আগরতলা সীমান্তের ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টে বাংলাদেশি পর্যটকদের হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। একইসঙ্গে আগরতলা ইমিগ্রেশনে হয়রানিমূলক আচরণকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার বিকালে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে আগরতলার একটি সূত্র জানিয়েছে। আর এমন সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরে এসেছে ভারত ভ্রমণকারী বাংলাদেশি পর্যটকদের মাঝে।

সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর সীমান্তের ওপারে আগরতলা ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের হঠাৎ নতুন নিয়মের ‘গ্যাড়াকলে’ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ভারতগামী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী পর্যটকরা। ডলার এন্ডোর্সমেন্ট না থাকায় গত এক মাস ধরেই আখাউড়া-আগরতলা ইমিগ্রেশন সীমান্তপথে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভারত ভ্রমণে বাধা দিচ্ছে।

ভারতীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, আখাউড়া-আগরতলা সীমান্তপথে ত্রিপুরা হয়ে ভারত ভ্রমণ করতে হলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী পর্যটকদের অবশ্যই ডলার এন্ডোর্সমেন্ট করতে হবে। আবার শুধু এন্ডোর্সমেন্ট থাকলেই চলবে না; সঙ্গে ডলারও থাকতে হবে। অন্যথায় কোনো ভাবেই ভারতে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

বাংলাদেশ-ত্রিপুরা সীমান্তের আখাউড়া-আগরতলা ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টের (আইসিপি) কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হঠাৎ করে নেয়া এমন সিদ্ধান্তের গ্যাড়াকলে বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে তীব্র হতাশা বিরাজ করছিল।

ভুক্তভোগীরা জানান, ত্রিপুরা রাজ্যে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারছেন না। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন মারাত্মক বিপাকে। ভারত ভ্রমণেচ্ছু বাংলাদেশি পর্যটকরা দৈনিক মুক্তকন্ঠকে জানান, শুধু ডলার এন্ডোর্সমেন্ট না থাকায় আগরতলা সীমান্তপথে ভারতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। অথচ তাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডলার ছিল। ফলে আগরতলা ইমিগ্রেশন থেকেই ফেরত আসতে হয়েছে তাদের।

সূত্র জানায়, ভারত ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের হয়রানির বিষয়টি জানাজানি হলে রবিবার বিকালে ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব আগরতলা ইমিগ্রেশনে যাত্রী পারাপারের খোঁজ নেন।

এ সময় তিনি বলেন, ইমিগ্রেশনের যেসব কর্মকর্তারা বাংলাদেশি পর্যটকদের সাথে এ ধরনের অমানবিক কাজ করছেন তাদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জন্য রাজ্য সরকারের সচিব অলোক কুমারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগ আছে, আগরতলা ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা এ ধরনের অমানবিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের পকেট ভারী করছেন। তবে সেসব কর্মকর্তাদের পকেট কাটারও ব্যবস্থা আছে বলে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।

অবশ্য ত্রিপুরায় নিযুক্ত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমশিনার মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন দৈনিক মুক্তকন্ঠকে জানান, ভারত তথা ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। এ ধরনের সমস্যা রাজ্য সরকার খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করে ভারত ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs