সর্বশেষ সংবাদ :

এইচ টি ইমাম যদি বলে থাকেন, ঠিক বলেননি: কাদের

Share Button

রিপোর্ট:-দৈনিক মুক্তকন্ঠ,
০৯ জুলাই ২০১৮। সময়: ১১,৫০,PM,

বিএনপিকে গুরুত্ব না দিতে নয়াদিল্লিকে যদি এইচ টি ইমাম অনুরোধ করে থাকেন, তবে তিনি তা ঠিক করেননি। এই বক্তব্য স্বয়ং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে সেতু ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

সম্প্রতি বিএনপির তিন নেতা ভারতে গিয়ে ‘নতুন সম্পর্কের’ বার্তা দিয়ে এসেছেন। বলেছেন, তাদের ভারতবিরোধী অবস্থান ৮০ ও ৯০ দশকের রাজনীতির ভুল ছিল।

তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম নয়াদিল্লিতে এক সেমিনারে গিয়ে কথা বলেছেন বিএনপির বিষয়ে। দলটিকে ভারতবিরোধী এবং চীন ও পাকিস্তানের পক্ষের শক্তি উল্লেখ করে তাদেরকে সুযোগ না দিতে ভারতের প্রতি অনুরোধ রাখেন।

ইমামের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তিনি (ইমাম) যদি সেটা বলে থাকেন সঠিক বলেননি।’

ইমামের এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে ভারতের একটি জাতীয় দৈনিক। আর এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি কাদের। তাই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে সতর্ক ছিলেন তিনি।

কাদের বলেন, ‘এইচ টি ইমাম সাহেব সম্পর্কে মিডিয়ায় যে খবর এসেছে সেটা আমি তার সাথে আলাপ করে চেক করার সুযোগটা পাইনি। কারণ তিনি নয়াদিল্লি থেকে বেলজিয়ামে ব্রাসেলস এ ইউরোপিয়ান পর্লামেন্টের একটা প্রোগ্রামে গেছেন বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে। ব্রাসেলস এ আছেন।’

‘‘তিনি (ইমাম) বলেছেন কি না সেটা আমাকে কনফার্ম হতে হবে।…বিষয়টা তার কাছে চেক না করে কোন কমেন্ট করা উচিত না’-বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

‘তার পরেও আমি একটা বিষয় সাধারণভাবে বলতে পারি ভারত একটা স্বাধীন সার্বভোম দেশ। ভারত অন্য কোন দেশের সরকারি, বেসরকারি রাজনৈতিক অন্য কোন দেশের লোককে পাত্তা দিল কি দিল না এটা আমাদের বলার বিষয় নয়।’

‘কোটা আন্দোলনে ভর করেছে বিএনপি’

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলনে বিএনপি দূরভিসন্ধি নিয়ে ‘ভর’ করেছে বলেও মন্তব্য করেন কাদের।

‘তারা এই যে কোটা সংস্কার আন্দোলন অর্থাৎ অন্য কোনো আন্দোলনকে তারা ইস্যু করার চেষ্টা আমরা লক্ষ্য করে আসছি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যন তিনিও কোটা সংস্কারের অন্দোলনে জড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে ফোন দিয়েছিলেন এটা সবারই জানা।’

‘আন্দোলন করার মত জন সমর্থ নেই তাই তারা আজকে কোটা সংস্কারে আন্দোলনের উপর ভর করেছে এখান থেকে যদি কোন ইস্যু বের করা যায়। যদি আন্দোলনের কোন ইস্যু পিকআপ করা যায় এটাই তাদের দূরভিসন্ধি।’

এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের আন্তরিকতা আর সদিচ্ছার সামান্যতমও কমতি নেই বলেও দাবি করেন সড়ক মন্ত্রী। বলেন, ‘এই বিষয়টা হুট করে সমাধান করা যাবে না।’

আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত তাদের আবারও বলবো যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে স্বিদ্ধান্ত নিয়েছেন, একটা শক্তিশালী কমিটি করে দিয়েছেন। কমিটিও তাদের তৎপরতা শুরু করে দিয়েছেন।’

‘প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে তার নির্দেশে কমিটির কাজ এগিয়ে চলছে এই কর্মকাণ্ডের উপর আস্থা রেখে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরে কিছুটা সময় অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ করছি।’

‘প্রধানমন্ত্রী যা বলেন তা কারেন, তিনি কথা দিলে কথা রাখেন।’

সরকার কোটা বাতিলের কথা বলে প্রতারণা করেছে বলে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যেরও জবাব দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। বলেন, ‘সরকারের যে কোনো কথা, যে কোন আশ্বাস তাদের (বিএনপি) কোন দিনই  পছন্দের নয়।’

মানুষ আন্দোলন নয়, নির্বাচনের মুডে

বিএনপিকে আন্দোলনের কথা না ভেবে ভোটের প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শও দেন কাদের। আর আন্দোলন করে দলটি সফল হতে পারবে বলেও মনে করেন না তিনি।

কাদের বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি নেত্রীর জেলখানায় থাকা নিয়ে মানুষের মাথাব্যথা নেই।

‘এখন নির্বাচনের মাত্র তিন মাস বাকি। মানুষ এখন ইলেকশনের মুডে আছে। মানুষ এখন ঝুঁকে গেছে নির্বাচনের দিকে। এ সময়ে বেগম জিয়াকে নিয়ে, বেগম জিয়ার মুক্তি নিয়ে কাররো মাথাব্যথা অছে মনে হয় না। এটা বিএনপির থাকতে পারে। আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পেলে আমাদের কোনো সমস্য নাই।’

খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয় বলে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন কাদের। বলেন, ‘বিষয়টা তো সেটা না। আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম জিয়া যদি বেরিয়ে আসে তাহলে তো মুক্ত হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে বেগম জিয়াকে মুক্ত করার অন্য কোনো পথ আমাদের জানা নেই।’

‘এখন বিএনপি বলছে তারা আন্দোলন করে তাকে মুক্ত করবে। দেখা যাক।’

‘বেগম জিয়া গ্রেপ্তারের পর তো লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নামবে এটা তারা আশা করেছিল।  কিন্তু ওয়েব (স্রোত) তো দূরের কথা একটা রিপলও দেখিনি।’

‘তারা বাংলাদেশের মানুষ পুড়িয়ে মারার আন্দোলন করে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এই ধরণের আন্দোলনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। কাজেই জনগনকে সম্পৃক্ত করে যে আন্দোলন সেই আন্দোলন করতে গিয়ে তারা বার বার ডাক দিয়েছে জগণ সাড়া দেয়নি।

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs