সর্বশেষ সংবাদ :

শিক্ষকদের দাবি ন্যায্য

Share Button

রিপোর্ট:-দৈনিক মুক্তকন্ঠ,
২৩ জুন ২০১৮। সময়: ০৬,০০,PM,

এমপিওভুক্ত হওয়ার দাবিতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন। ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে গত ১০ জুন তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন।

শিক্ষকরা বলছেন, সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি ২৩ জুনের আগে সেগুলোর এমপিওভুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নতুবা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামা ছাড়া তাদের গত্যন্তর থাকবে না। বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তারা শিক্ষকতা করছেন স্বল্প কিংবা বিনা বেতনে, এমপিওভুক্ত হলে তাদের দুর্ভাগ্যের অবসান হবে এ আশায়। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় শিক্ষকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে।

বর্তমানে সারা দেশে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সাড়ে ৭ হাজারের মতো। এর মধ্যে ৫ হাজার ২৪২টি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা সরকারের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার জন্য গত ১২ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে নীতিমালা প্রকাশ করেছে, তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মধ্যে আশার বদলে হতাশা সৃষ্টি করেছে।

তাদের আশঙ্কা, এর ফলে ১০ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এমপিওভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে না। নতুন বাজেটে এ ব্যাপারে কোনো অর্থ বরাদ্দ না করায় এ হতাশা আরও বেড়েছে। যদিও শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, এমপিওভুক্ত করার ক্ষেত্রে তা কোনো সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে না।

শিক্ষকরা বলছেন, তাদের কাজ ছাত্রদের শিক্ষাদান করা, রাজপথে আন্দোলন করা নয়। তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলন করছেন। বর্তমান সরকারের ওপর যেহেতু তাদের অগাধ আস্থা, সেহেতু তারা চান এ সরকারের আমলেই তাদের দাবি পূরণ করা হোক। বাজেটে অর্থ জোগানোর সমস্যা হলে আপাতত কম বেতন নিতেও তারা রাজি।

কয়েক বছরে সে বেতন সমন্বয় করা হলে তাতে তাদের আপত্তি নেই। রাজপথে থাকার ঘোষণা দিলেও শিক্ষকরা সাংঘর্ষিক অবস্থা চান না। সরকার তাদের জীবন-জীবিকার প্রতি সদয় হোক এমনটিই তাদের কাম্য। আশার কথা, নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক।

এ ব্যাপারে প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় শিক্ষকদের সঙ্গে সরকারের সংলাপ শুরু হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়নের যে দাবি তারা জানাচ্ছেন সে ব্যাপারে একটি রূপরেখা অন্তত প্রকাশ করা উচিত। শিক্ষকরা জীবিকার জন্য রাস্তায় নামবেন এটি জাতির জন্য সুখবর নয়। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত।

সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় ধরনের অবদান রেখে চলেছে। একে অবহেলা করার সুযোগ নেই। একটি সভ্য দেশে জাতি গঠনের কারিগর শিক্ষকরা কখনও অবহেলিত থাকতে পারেন না।

কাজেই স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল মহল আলোচনা করে একটি সন্তোষজনক সমাধানের ব্যবস্থা নেবে এমনটিই আশা করে সবাই। শিক্ষা খাতে সর্বাধিক বাজেট থাকা সত্ত্বেও দেশের শিক্ষক সম্প্রদায় যথোপযুক্ত বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত থাকবে এটা মেনে নেয়া কষ্টকর। শিক্ষকরা তাদের বেতন-ভাতার জন্য রাজপথে আন্দোলনে নামলে সেটিও একটি দেশের জন্য লজ্জাজনক বলেই মনে হয়। প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি করতে সরকারের সামর্থ্যরে প্রশ্ন জড়িত। তাই বিষয়টি সরকারকে অবশ্যই আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

শিক্ষকদের আন্দোলন স্তব্ধ করতে পুলিশি আক্রমণ কোনো অবস্থায় আমরা সঙ্গত মনে করি না। সরকারকে মনে রাখতে হবে, পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে কোনো ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন কখনও স্তব্ধ করা সম্ভব নয়। শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা হলে শিক্ষা বিস্তারে আরও গতি আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনাসাপেক্ষে শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে এমপিও তালিকাভুক্ত করা যায় কিনা সেটিও সরকারকে ভাবতে হবে।

 

Comments are closed.

Scroll To Top
Bangladesh Affairs